পাঁচ বছর স্বেচ্ছায় সহবাসের পর ধর্ষণ মামলা!
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৫:৩০
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে সহবাসের ঘটনাকে ‘ধর্ষণ’ বলতে নারাজ কর্নাটক হাইকোর্ট।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তরুণীর আর্জি খারিজ করে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেছে, দু’একবার নয়, ঠিক পাঁচ বছর ধরে সহবাস হয়েছে। ফলে তাতে দু’পক্ষেরই সম্মতি ছিল। একে কখনই ধর্ষণের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বেঙ্গালুরুর এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা। পরে তাদের সম্পর্কও ভেঙে দেন ওই বাসিন্দা। এ নিয়ে শহরের এক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই তরুণী। পরে সেই মামলা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
গত সোমবার (১৩ মার্চ) এই মামলার রায় প্রদানের সময় হাইকোর্টের বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্ন বলেন, ‘‘এক, দুই বা তিন বার নয়। কয়েক দিন বা মাসের কথাও বলা হচ্ছে না। এখানে বছরের পর বছর ধরে, সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, পাঁচ বছর ধরে এমন (সহবাস) হয়েছে। ফলে বলা যায় না যে, তরুণীর সম্মতি না নিয়ে পাঁচ বছর ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ সম্পর্ক থাকায় ইন্ডিয়ান দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা (ধর্ষণ) এবং ৩৭৬ ধারায় (ধর্ষণের শাস্তি) যুক্তিগ্রাহ্য নয়।’’
আদালতের কাছে অভিযুক্তের দাবি ছিল, পাঁচ বছর ধরে প্রেমিকাকে ভালবাসলেও ভিন্ন জাতির হওয়ায় তাদের বিয়েতে বাধা দেখা দেয়। তবে প্রেমিকার সম্মতিতেই তার সঙ্গে সহবাস করেছেন তিনি।
যদিও তরুণীর পাল্টা দাবি ছিল, বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ধর্ষণেরই সমতুল্য। কিন্তু তরুণীর দাবি খারিজ করে তরুণের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র নির্যাতন এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।
ইউডি/এ

