ইবিকাণ্ড: শোকজের জবাব দেননি অন্তরাসহ ৩ জন

ইবিকাণ্ড: শোকজের জবাব দেননি অন্তরাসহ ৩ জন

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১১:১৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ ছাত্রীকে গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। একইদিনে অভিযুক্ত পাঁচ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। এছাড়াও, অ্যাকাডেমিক সকল কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যাহতি এবং গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হলের আবাসিকতা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৫ মার্চ) অফিস চলাকালীন শেষ সময় পর্যন্ত অভিযুক্ত তাবাসসুম ইসলাম ও মুয়াবিয়া জাহান শোকজের জবাব দিয়েছেন। তবে ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, হালিমা আক্তার উর্মী ও ইসরাত জাহান মীম নির্দিষ্ট সময়ে জবাব দেননি। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর ও অ্যাকাডেমিক শাখা সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, তাবাসসুম ও মুয়াবিয়া নির্দিষ্ট সময়ে শোকজের জবাব দিলেও অন্তরা, উর্মি ও মীম শোকজের জবাব জমা দেননি। তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন। অন্তরা ও মীম সোমবার এবং উর্মী বুধবার সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তারা আবেদনে কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনের কপি ও হাইকোর্টের নির্দেশনার কপি চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে গত ৬ মার্চ ভিসি বরাবর আবেদন করেছেন তাবাসসুম ও মুয়াবিয়া। তারা উভয়ই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আগামী ১৮ মার্চ তাদের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া গত ১২ মার্চ তাবাসসুম ইসলাম বিভাগীয় সভাপতি ড. বখতিয়ার হোসেন বরাবর উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। তার আইনজীবী ঝিনাইদহ জজকোর্টের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। তার মক্কেলকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ না দিলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিভাগীয় সভাপতি নোটিশ সংযুক্ত করে রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রদানের অনুরোধ জানান।

বিভাগের সভাপতি ড. বখতিয়ার হাসান বলেন, ‘বহিষ্কারাদেশে তাদের দুইজনের (তাবাসসুম ও মুয়াবিয়া) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। যেহেতু তাদের একজন উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে, তাই প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছি। তবে আমাকে এখনো এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বলেন, ‘সময় বাড়ানোর আবেদন ও পরীক্ষার বিষয়ে আবেদনগুলো ফাইল আকারে ভিসির কাছে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাদের বারবারই বলেছে- হাইকোর্টের বিষয়টি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনো কার্যক্রম না করি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রশাসকের মতামত নেওয়া হবে। আগামী দুইদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শনিবার ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে নবীন ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর র‌্যাগিং, শারীরিকভাবে নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে ছাত্রলীগ নেত্রী অন্তরাসহ তার সহযোগীরা। পরে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ ও শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া, হাইকোর্টের নির্দেশেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।

তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়ায় ১ মার্চ ওই পাঁচ ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বহিষ্কার ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। পরে ৪ মার্চ অভিযুক্ত পাঁচ ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading