ইবি রেজিস্ট্রারের অডিও ফাঁস, থানায় জিডি

ইবি রেজিস্ট্রারের অডিও ফাঁস, থানায় জিডি

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১১:৩০

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসির অডিও ফাঁসের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের অডিও ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ‘সাথী খাতুন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের নামে দুই মিনিট ৫০ সেকেণ্ডের ফোনালাপের একটি অডিও ক্লিপ পোস্ট করা হয়।

অডিওতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান ও মঈন নামের এক ঠিকাদারের টাকা লেনদেন সংক্রান্ত কথা বলতে শোনা যায়। তবে ফোনালাপটি সুপার এডিটেড বলে দাবি করেছেন রেজিস্ট্রার। অডিওতে চারটি ফোনালাপ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম কল রেকর্ডে ওই ঠিকাদার বলেন, ‘স্যার আজকে ওটা জমা দিয়ে দিলাম। কালকে ওই টাকাটা ক্যাশ হবে। তো টাকাটা কোথায়, কখন প্লেস করবো, আমাকে বললে আমি সেইভাবে প্রিপারেশন নিয়ে নিতাম।’ এর উত্তরে আলী হাসান ৩টার সময় কুষ্টিয়া এসে টাকা দিতে বলেন। এরপর ঠিকাদার বলেন, ‘টোটাল চার লাখ টাকাই আমি সাড়ে ৪টার মধ্যে পাব, সাড়ে ৫টার মধ্যে আমি আপনাকে দিতে পারব।’ এ সময় রেজিস্ট্রার বলেন, ‘ফোনে এগুলো বলার দরকার নেই।’

দ্বিতীয় ফোনালাপে ঠিকাদার রেজিস্ট্রারকে বলেন, ‘ওটা (টাকা) ৫টার দিকে মনে হয় পাবেন।’ তখন তিনি আবারো অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ফোনে না বলার ব্যাপারে সতর্ক করেন। এছাড়া, তৃতীয় ফোনালাপে টাকার বিষয়ে কাজ হয়েছে কি না তা ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসা করেন রেজিস্ট্রার। তখন ঠিকাদার জানান, তিনি এখনো ব্যাংকে আছেন, কাজ শেষ হলেই তাকে (রেজিস্ট্রার) জানাবেন।

আরেকটি ফোনালাপে রেজিস্ট্রার ঠিকাদারের কাছে টাকার অবস্থা ও আর কতক্ষণ লাগবে তা জানতে চান। এ সময় ঠিকাদার আরো আধা ঘণ্টার মতো লাগবে বলে রেজিস্ট্রারকে কোথাও বসে চা খেয়ে একটু অপেক্ষা করতে বলেন। ব্যাংক বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে যাচ্ছে বলে ঠিকাদারকে তাগিদ দেন রেজিস্ট্রার। পরে শেষ ফোনালাপে রেজিস্ট্রার ঠিকাদারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি অল্প একটু অপেক্ষা করেন, আসতেছি। ব্যাগে ভরতেছি (টাকা), প্লিজ একটু রাখেন।’

এদিকে অডিওটি ‘নিজের না’ বলে দাবি করে ইবি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান। জিডিতে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক পদে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ঠিকাদারদের সঙ্গে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে নির্মাণকাজে জড়িত লোকের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হয়েছে। কিন্তু ভাইরাল হওয়া অডিওটির মতো এ ধরনের কোনো আর্থিক লেনদেনের আলাপ প্রকল্প পরিচালক এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে থাকা অবস্থায় হয়নি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল আলম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতি কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading