‘দুর্যোগ মোকাবিলা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে’

‘দুর্যোগ মোকাবিলা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে’

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ২১:০০

আবহাওয়ার পূর্বাভাস সঠিকভাবে পাওয়ার কারণে দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এমপি।

তিনি বলেন, ‘২০২০-২২ সালের আম্পান, সিত্রাংসহ অন্যান্য দুর্যোগে যথাক্রমে ১৮ লাখ, ১৪ লাখ, ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয়স্থলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের সতর্কতাবার্তা ছয় ঘণ্টা অন্তর অন্তর জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তাতে ক্ষতি কম হয়েছে। বন্যায় মৃত্যুহার শূন্যে নেমে এসেছে। বিশ্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ। তবে অনেকের অজ্ঞানতার কারণে দুর্ঘটনায় পড়ছে।‘

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বিজয় সরণিতে বিশ্ব আবহাওয়া দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর আয়োজিত দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘প্রজন্মান্তরে আবহাওয়া, জলবায়ু ও পানির ভবিষ্যৎ’।

অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম ও ত্রাণ সচিব কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া বিভাগের প্রধান শামীম হাসান ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক (প্রকৌশল) আহমদ আরিফ রশীদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপপরিচালক বেগম কাওসার পারভীন।

এনামুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও অভিযোজনে উন্নতি করেছি। অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালো হলে বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারব। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এতো ক্ষতি হওয়ার কারণ ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষায় ‘পাকিস্তান সরকারের অদক্ষতা, অযোগ্যতা ও যথাসময়ে তথ্য না দেওয়া’। আমরা সেখানে থেকে উন্নতি করেছি। আমাদের অগ্রিম তথ্যের কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হচ্ছে। আবহাওয়ার তথ্য সহজে পাওয়ার কারণে দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, জাপান ও আমেরিকান তথ্য দেখে আবহাওয়ার তথ্য সমন্বয় করেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করলে সঠিক ও আগাম বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।

গোলাম মো. হাসিবুল আলম বলেন, জাতিসংঘে যেকোনো প্রকল্পে জলবায়ু বিষয়ক কার্যক্রম ছাড়া কোনো প্রকল্প ছাড় হতো না। কৃষি, ত্রাণ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। জাতি ও প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। শুধু সামাজিক কার্যক্রম নয় বরং এসব ব্যাপারে পারস্পরিক চুক্তি প্রয়োজন।

প্রতিদিনের চলার সঙ্গে আবহাওয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে কামরুল হাসান বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার আগেও মানুষ আবহাওয়ার সংবাদ নিয়ে কাজ করত। এ অঞ্চলে খনার বচন তার মধ্যে অন্যতম। আবহাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালে কক্সবাজার ও খেপুপাড়ায় দুটি রাডার স্থাপন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের আবহাওয়া আইনের মাধ্যমে কার্যক্রমে দৃঢ়তা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি, মৎস্য, জনস্বাস্থ্যসহ সব স্থানে আবহাওয়া যুক্ত। ২০১৬ সাল থেকে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বে তথ্য পেলে বজ্রপাতে প্রাণহানি থেকে বাঁচা সম্ভব। কেননা দেশে প্রতিবছর ২৮৮-৩২৫ মানুষ মারা যাচ্ছে বজ্রপাতে।

সভাপতির বক্তব্যে আজিজুর রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া ও জলবায়ুর কোনো ভৌগলিক সীমারেখা না থাকায় আমাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করতে হয়। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হয়। দেশে ৬১টি সারফেজ পর্যবেক্ষণার রয়েছে। কৃষি আবহাওয়া তথ্যকেন্দ্র রয়েছে ৩০টি। জনবল সংকটের কারণে আমাদের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।’

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading