যুদ্ধবিরোধী ছবি আঁকায় বিচ্ছিন্ন করা হলো মেয়েকে, বাবাকে গৃহবন্দি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৫:৪৫
রাশিয়ার শহর ইয়েফ্রেমভের কেন্দ্রস্থলে যুদ্ধের ছবি দিয়ে ঢাকা একটি দেয়াল। এতে অস্ত্রসহ মুখোশধারী একদল রুশ সৈন্যদের ছবি রয়েছে এবং তাতে লেখা রয়েছে ‘জেড’ আর ‘ভি’ দুটি অক্ষর। এই অক্ষর মূলত ইউক্রেনে-রাশিয়ার তথাকথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর প্রতীক।
ওই দেয়ালে একটি কবিতাও রয়েছে। সেখানে লেখা আছে- শুভ শক্তির হাত মুষ্টিবদ্ধ থাকা উচিত, শুভ শক্তির প্রয়োজন লোহার হাত, যারা হুমকি দিচ্ছে তাদের চামড়া তুলে নেয়ার জন্য।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এটি আনুষ্ঠানিক এবং সরকারি দেশপ্রেমের ছবি।
কিন্তু মস্কো থেকে ২০০ মাইল দক্ষিণে এই শহরে আপনি ইউক্রেন যুদ্ধের আরেকটি চিত্র খুঁজে পাবেন। আর সেটি একেবারেই ভিন্ন।
বিবিসির রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ‘শহরের কাউন্সিলর ওলগা পোডলস্কায়া তার মোবাইল ফোনে আমাকে একটি ছবি দেখালেন। এটি একটি শিশুর আঁকা ছবি। বাম দিকে একটি ইউক্রেনীয় পতাকা যেখানে লেখা রয়েছে ‘ইউক্রেনের গৌরব’; ছবির ডানদিকে রয়েছে রুশ জাতীয় পতাকা। তাতে লেখা ‘যুদ্ধকে না বলছি!’। রাশিয়ার দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার পথে অকুতোভয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন মা এবং তার সন্তান।

ছবিটি ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এঁকেছিল মাশা মসকালেভা। তার বয়স তখন ১২ বছর। তার বাবা অ্যালেক্সি মাশার একমাত্র অভিভাবক। তিনি পরামর্শের জন্য শহরের কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি কাউন্সিলরকে জানিয়েছেন যে মাশার আঁকা ছবি দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিয়েছিল।
পরে অ্যালেক্সির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধবিরোধী পোস্ট দেওয়ার জন্য এবং রুশ সশস্ত্র বাহিনীর অবমাননার জন্য অ্যালেক্সিকে ৩২ হাজার রুবল (প্রায় ৪১৫ আমেরিকান ডলার) জরিমানা করা হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। আবারও অবমাননার অভিযোগের ভিত্তি ছিল তার যুদ্ধবিরোধী পোস্ট।
এজন্য অ্যালেক্সিকে সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অ্যালেক্সি এখন ইয়েফ্রেমভ-এ গৃহবন্দি রয়েছেন। তার মেয়ে মাশাকে আপাতত একটি শিশু-কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে অ্যালেক্সিকে এমনকি টেলিফোনেও কথা বলতে দেয়া হয়নি।
‘রুশ কর্তৃপক্ষ চায় তারা যেটা বলবে সবাইকে মেনে নিতে হবে। কারও নিজস্ব কোনো মতামত থাকতে পারবে না। আপনি যদি মনে করেন কারও সঙ্গে একমত হবেন না, তাহলে উচিত হবে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট না পড়া। কিন্তু তার জন্য সেই ব্যক্তিকে গৃহবন্দি করা বা তার সন্তানকে শিশু-কেন্দ্রে পাঠানো একেবারেই অনুচিত’, বলেন স্টিভ রোজেনবার্গ।
ইউডি/এ

