সিদ্দিকবাজারের পর বঙ্গবাজার ছারখার: আগুনের লেলিহান শিখায় আর কতো ‘কপাল’ পুড়বে

সিদ্দিকবাজারের পর বঙ্গবাজার ছারখার: আগুনের লেলিহান শিখায় আর কতো ‘কপাল’ পুড়বে

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৪:০২

দেশে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক তবুও নড়ছে না। সিদ্দিক বাজারের পর এবার আগুনে পুড়লো রাজধানীর ঐতিহাসিক বঙ্গবাজার মার্কেট। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুথে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস বলছে একাধিকবার এই মার্কেটকে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন ছিলো। এ নিয়ে আসাদুজ্জামান সুপ্ত’র প্রতিবেদন

পুড়ে ছাই হাজারো পরিবারের স্বপ্ন: মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক বঙ্গবাজারে ভয়ঙ্কর আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সাধারণ জনতার চেষ্টায় ছয় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। আগুনে পুড়ে গেছে বঙ্গবাজার, মহানগর, আদর্শ ও গুলিস্তান মার্কেট। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যসহ ৮ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বঙ্গবাজারে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোশনের মালিকানাধীন বঙ্গবাজার চারটি ইউনিটে বিভক্ত। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, মহানগর কমপ্লেক্স, গুলিস্তান কমপ্লেক্স এবং আদর্শ ইউনিট। ছোট বড় মিলিয়ে দোকান প্রায় দুই হাজার ৩৭০টি। তবে এই প্রথম বঙ্গবাজারে আগুন লাগেনি। ১৯৯৫ সনে আগুনে ভস্ম হয়েছিল বঙ্গবাজার। অগ্নিকাøের পর নতুন করে আবার গড়ে তোলা হয় বাজারটি। কিন্তু সেই স্থাপনা ও নির্মাণশৈলীতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সামাল দেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। কারণ এরপর ২০১৮ সনের ২৪ জুলাই আবারও আগুন লেগে গুলিস্তান ইউনিটের বহু দোকান ভষ্মীভূত হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ দুই বারের বড়ধরণের অগ্নিকাণ্ডের পরও বঙ্গবাজার কর্তৃপক্ষ তৎপর হননি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ অতি ব্যস্ততম জনবহুল ঘিঞ্জি এই মার্কেটে মূলত বেচাকেনা হয় কাপড়ের মতো দাহ্য উপকরণ। অথচ বারবার আগুনে এর দোকানপাট অঙ্গার হয়, রুটিরুজি নিয়ে পথে বসতে হয় বহু মানুষের। খানখান হয়ে যায় বহুজনের টেনে চলা সংসার। কিন্তু এরপরও এরকম মার্কেটগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয় না। দমকলবাহিনী জীবন দিয়ে আগুন নেভাতে তৎপর হয়। কিন্তু এসব মার্কেট এতো ঘিঞ্জি থাকে যেখানে অগ্নিনির্বাপণের সকল সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ করা দুঃসহ হয়ে পড়ে। এমনকি এসব মার্কেটে পর্যাপ্ত কোনো পানির ব্যবস্থাও থাকে না, না থাকে চারধারে কোনো উš§ুক্ত অঞ্চল। বারবার এমনি ঘটছে। মার্কেট থেকে কারখানা, বাসাবাড়ি থেকে গুদামঘর অগ্নিকাø বিষয়ে আমাদের প্রশ্নহীন অবহেলা বারবার কেড়ে নেয় বহু জীবন ও সম্পদ। অপ্রতুল উপকরণ, সংকীর্ণ পথ, বিপজ্জনক অভ্যন্তর, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং দাহ্য পদার্থের ভেতর এরপরও আমাদের দমকল বাহিনীসহ সকলের অদম্য চেষ্টায় ক্ষয়ক্ষতির প্রবলতা কমে, নেভে আগুন, এও এক চূড়ান্ত বিস্ময়। এমনকি এবারের অগ্নিকাøের পর ফায়ার সার্ভিসের অফিস ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ২০১৯ সালে বঙ্গবাজার অগ্নিকাøের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা নোটিস টানিয়েছিল, কিন্তু মার্কেট কর্তৃপক্ষ সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।

তদন্ত হলেও নেয়া হয় না কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ: বঙ্গবাজারে আগুনের ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রায়ই দেখি এ ধরনের ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়, তদন্ত হয়, প্রতিবেদন জমা হয়, কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বঙ্গবাজারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব অগ্নিকাøের সুষ্ঠু তদন্ত করতো হবে। যাদের গাফিলতির কারণে এ ধরণের ঘটনা ঘটে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হয়। ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবাজারে প্রায় তিন হাজার দোকান পুড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

বেকার হয়ে পড়ার শঙ্কায় ৫০ হাজার কর্মচারী: রাজধানীর বঙ্গবাজারে কয়েকটি মার্কেটে অগ্নিকাøের ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার ব্যবসায়ী সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এসব মার্কেটে কর্মরত অর্ধ লাখ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ার এবং বেতন না পাওয়ার আশঙ্কায় আছেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান

দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা: রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটের আড়াই হাজারসহ আশপাশের মার্কেটের প্রায় ৫ হাজার দোকান আগুনে পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। এতে আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রাথমিকভাবে সরকারি তহবিল থেকে সাতশ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের জানা মতে, শুধু বঙ্গবাজার কাঠের মার্কেটেই আড়াই হাজারের মতো দোকান রয়েছে। আশেরপাশের মার্কেটগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে গেছে। এখানে ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান করেন। সামনে ঈদ। সবাই ঈদকেন্দ্রিক বেচাকেনার পণ্য তুলেছেন দোকানে। এমন সময় এই অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে। হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, এই ব্যবসায়ীদের পুঁজি বলতে দোকানের মালামালই। মালামাল পুড়ে গেলে তাদের আসলে পুঁজি বলতে সব শেষ। এখন তাদের জন্য রমজানের ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রাথমিকভাবে সাতশ কোটি টাকার থোক বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।

‘তদন্তের পর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে’
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনাকে আমরা দুর্ঘটনা হিসেবেই বর্ণনা করবো। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও মতামত দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘তদন্তের পর ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে।’বঙ্গবাজারের অগ্নিকাø নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবাজারসহ প্রায় ৬টি মার্কেট অগ্নিকাøে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে তারা অনেক মালামাল ক্রয় করেছিলেন। সেগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় অনেকেই কিছু মালামাল উদ্ধার করে সরিয়ে নিতে পেরেছেন।’ তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করছে। যেকোনও দুর্ঘটনার পরেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের পর আমরা আসল কারণ জানতে পারবো। অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সমন্বয় করেছেন। সারাক্ষণ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেনÍ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের কাজ করা হবে। জেলা প্রশাসনকে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিয়েছি-হতাহতদের এখনই ১৫ হাজার টাকা করে দেবেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।’

৪ বছর আগেই বঙ্গবাজার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল ডিএসসিসি: চার বছর আগেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বঙ্গবাজার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, বঙ্গবাজার মার্কেট ২০১৯ সালে করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। তখন নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সে সময় মার্কেট সমিতি নতুন ভবন নির্মাণে স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে এবং হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন। এতে সিটি করপোরেশনের কিছু করার ছিল না। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ৫ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ দুর্ঘটনা তদারকি করছেন। এদিকে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল এই ভবনটিকে আমরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি এবং ব্যানার টাঙিয়েছি। এরপরে ১০ বার নোটিশ দিয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব ছিল, আমরা করেছি। তারপরও এখানে ব্যবসা চলছিল। বঙ্গবাজারের মার্কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি’র আট সদস্যের কমিটি গঠন: বঙ্গবাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএসসিসির সচিব আকরামুজ্জামানের স্বাক্ষরে এক দপ্তর আদেশে জানানো হয়, ডিএসসিসির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, ৫ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, সম্পত্তি কর্মকর্তা, ঢাকা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, ডিএসসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং প্রধান সমাজ কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা। চিঠিতে বলা হয়, কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি এবং অগ্নিকাøের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রতিবেদন দেবে।

একের পর এক অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে: নিমতলীর রাসায়নিক বোঝাই গুদামঘর, তাজরীন গার্মেন্টস, সেজান জুস কারখানা, সীতাকুøের বিএম ডিপো থেকে সীমা অক্সিজেন, হাতিমারা পাথারিয়া থেকে রাজকান্দি বন কিংবা ঢাকার বঙ্গাবাজার, একের পর এক প্রশ্নহীন আগুন। নিমিষেই অঙ্গার টাটকা জীবন, বিধ্বস্ত বাস্তুতন্ত্র, চুরমার সংসার, ভষ্ম জীবিকা, বিশৃঙ্খল পরিবার। তদন্ত হচ্ছে, বিশেষজ্ঞ কমিটি সুপারিশ করে, মামলা হয়, ক্ষতিপূরণ কিছু দেয়া হয়। কিছু ধরপাকড় চলে। দৃষ্টান্তমূলক কিছুই হয় না। প্রতিবারই দেখা যায় প্রতিটি ঘটনায় অগ্নিকাøের বিষয়ে সর্বস্তরের গাফিলতি থাকে এবং অগ্নিকাø ঘটতে পারে এমন ঝুঁকি মোকাবেলার কোনো প্রস্তুতিও সেসব জায়গায় থাকে না। বঙ্গবাজার থেকে শুরু করে কারখানা কিংবা বসতবাড়ি বা মজুতাগারের নির্মাণশৈলী এবং অগ্নিনির্বাপণসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা এতো দায়সারা কেন?

কবে আমাদের মার্কেট, ভবনমালিক, কারখানা কিংবা কর্তৃপক্ষের হুঁশ হবে? ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আহতের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণে কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্র মানবিক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে এই রমজানের মাসে, ঈদ উৎসবের আগে যাদের জীবনজীবিকা পুড়ে অঙ্গার হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়ানো দায়িত্ব। তাজরীন গার্মেন্টস থেকে সীতাকুø কিংবা সাম্প্রতিক বঙ্গবাজার প্রতিটি অগ্নিকাøের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতি ও অবহেলা প্রমাণিত হলেও রাষ্ট্র মালিকপক্ষকে কোনো দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও দøের আওতায় আনতে পারছে না। যে কারণে চূড়িহাট্টা থেকে সেজান কিংবা সীমা অক্সিজেন কারখানা কিংবা বঙ্গবাজারে পুড়ছে জীবন ও সম্ভাবনা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading