পাহাড়ে আবারও রক্তপাত নেপথ্যে: আধিপত্যের লড়াই ও চাঁদাবাজি
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৪:৫০
দেশের পাহাড়ি অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা কোনোভাবেই কাটছে না। গোলাগুলির ঘটনায় বছরজুড়েই অশান্ত থাকছে পাহাড়। গত বৃহস্পতিবার বান্দরবানে দুইপক্ষের গোলাগুলিতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে চাঁদাবাজি, আধিপত্যের লড়াইয়ে সেখানে প্রায়ই রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে মিলন গাজী’র প্রতিবেদন
একের পর এক হত্যাকান্ডে বাড়ছে অস্থিরতা: পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলো নতুন করে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। একের পর এক হত্যাকান্ড চলছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠির মধ্যে হত্যা এবং পাল্টা হত্যাকান্ড চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার মধ্যে বেশি অস্থিরতা দেখা বান্দরবানে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সেখানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বান্দরবানে গোলাগুলিতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আটজনের পরিচয় শনাক্ত করে ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে মৃতদেহগুলো হস্তান্তর করেছি। এখন কীভাবে কারা এই ঘটনা ঘটলো, সেই তদন্তের জন্য থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি জানার জন্য আরও সময় লাগবে বলে তিনি আভাস দিয়েছেন। নিহত আটজনই বম জনগোষ্ঠির বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্সাকারী বাহিনী। কিন্তু হঠাৎ করে কেন পাহাড়ি এলাকা অস্থির হয়ে উঠছে? শুধু বান্দরবান নয়, গত কয়েক বছর ধরে রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়িতে এরকম একাধিক সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি জেলাগুলোয় এ ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে তমব্রু সীমান্তে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার র্যাংকের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন, যিনি সামরিক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তর বা ডিজিএফআইতে নিয়োজিত ছিলেন। সেই সময় পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাবের একজন কর্মকর্তাও আহত হন। গত বছরের মার্চ মাসে বান্দরবানের রুমা এলাকার গোলাগুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এর আগের মাসেই সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের ওপর ‘জেএসএসের হামলায়’ একজন সেনা সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকেই বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। রুমা এবং রোয়াংছড়ি এলাকায় সেই বিশেষ অভিযান শুরু করায় হয়। সেই সময় ওই এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াতও নিষিদ্ধ করা হয়, যা এখনো বলবত আছে।
হঠাৎ করে সংঘর্ষের ঘটনা রহস্যজনক: বান্দরবানে সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফ। সরকার এই গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বললেও কেএনএফ তা অস্বীকার করেছে। কেএনএফের ঘোষণা ও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির অন্তত ছয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে তারা। যদিও দলবদ্ধভাবে তাদের বম নৃ-গোষ্ঠী হিসেবেও প্রচার করছে অনেকে। পার্বত্য এলাকার পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, এই কুকি-চিনের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ পাওয়াটা এবং তাদের হঠাৎ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত রহস্যজনক। ১৯৯৭ সালে যখন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তখন পাহাড়ে অনেক ছোট ছোট গ্রুপ থাকলেও কুকি-চিনের মতো গোষ্ঠীগুলো তখন ততোটা গুরুত্ব পায়নি। তাদের দাবি-দাওয়াও পরিষ্কার ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি অনেকটা হঠাৎ করেই কুকি-চিনের মতো গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মেজর (অব) এমদাদুল ইসলাম আরও বলেন, কোন দাবি-দাওয়া, আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াই কুকি-চিন অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে চলে এলো। সেই সাথে জঙ্গিদের সাথেও তাদের একটি যোগাযোগ দেখা যাচ্ছে। তারা অস্ত্র পেয়েছে, প্রশিক্ষণ পেয়েছে। এগুলো জানার পরেই কুচি-চিনের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যদের রোয়াংছড়ি অঞ্চলে যেমন উপস্থিতি রয়েছে, তেমনি ইন্ডিয়ার মিজোরামেও তাদের উপস্থিতি আছে বলে জানা যায়। যদিও বান্দরবানে তুলনামূলক সহিংসতার ঘটনা কম ঘটেছে, কিন্তু এই জেলার আশেপাশের এলাকাগুলো বরাবরই সহিংসতা প্রবণ। যেমন সীমান্তের ওপারেই রয়েছে আরাকান আর্মি, কাচিন বিদ্রোহীদের প্রবণতা, মিজোরামেও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা রয়েছে। এমদাদুল ইসলাম আশঙ্কা করছেন, তাদের কারণেও কুকি-চিন গোষ্ঠী প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব) ইমদাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলছেন, ইউপিডিএফ এই ঘটনায় জড়িত কিনা, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। কিন্তু ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক হয়তো মনে করতে পারে যে, কুকি-চিন সরে গেলে ওই এলাকা তারা দখলে নিতে পারবে। সেজন্য তারা কোন তৎপরতা চালিয়েছে কিনা, সেটা একটা দেখার বিষয়।
গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ছাড়াও রয়েছে আরও কারন: বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন নামে যেসব গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, তাদের আদর্শিক দ্বন্দ্বের চেয়ে আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদার ভাগবাটোয়ারা প্রধান বিষয়। সে নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্যই প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব) ইমদাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আদর্শিক দ্বন্দ্ব তেমন কিছু নেই। মূল বিষয়টা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজি। বিভিন্ন গ্রুপ মিলে বছরে সাতশো কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি করা হয়। এই অবারিত চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্যই বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে অনেক সময় বিভিন্ন মহল থেকে একটা বাফার জোন হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে ভূ-রাজনৈতিক কারণে এই এলাকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বিভিন্ন মহল, বিভিন্ন দেশ সহায়তা করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে চারটি উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র গ্রুপের রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। বান্দরবানে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকা এখন জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার)- এই সশস্ত্র চার গ্রুপ নানাভাবে সক্রিয়। নতুন সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) বা বম পার্টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের সঙ্গে আছে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া। তাদের সবার সংগ্রহে রয়েছে মারণাস্ত্র। আছে মগ লিবারেশন আর্মি, যারা মগ পার্টি নামে পরিচিত। এর মধ্যে আর্মস ক্যাডারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। তাদের হাতে রয়েছে তিন হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র।
রাঙামাটির আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমি মনে করি, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে এই অঞ্চলের একটা গুরুত্ব বহন করে। সেটাকে মাথায় নিয়ে একটা অশুভ শক্তি হয়তো অশান্ত করে তোলার জন্য চেষ্টা করছে।আমার মনে হচ্ছে, এই এলাকাটিতে অশান্ত রাখার জন্য- কোন কোন মহল, জাতীয় হোক আর আন্তর্জাতিক হোক- অস্থির করে তোলার একটা অপচেষ্টা করছে। ইদানীং বেশি সহিংস ঘটনা ঘটছে, অতীতেও যে ঘটেনি তা নয়, কিন্তু সেনাবাহিনীর কারণে তা অনেক কমে গিয়েছিল। সেটাকে যারা পছন্দ করছে না, তারা আমার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
পাহাড়ের অর্থনৈতিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অব্যাহত সহিংসতার কারণে পার্বত্য এলাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সহিংসতার প্রভাব পড়ছে পাহাড়ি এলাকাগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, কৃষিসহ প্রতিটি খাতে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সে অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সীমিত হয়ে পড়ার আশংকা তৈরি হতে পারে। একই সাথে পর্যটন ব্যবসা কমে যাওয়া এবং সীমান্ত সড়কের যেসব কাজ চলমান ছিল, সেগুলোও স্থবির হয়ে যেতে পারে আশংকা করছেন অনেকে।
১৯৯৭ সালে যখন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির শান্তি চুক্তি হয়, তখন তার প্রকাশে বিরোধিতা করেছিল ইউপিডিএফ। সেই চুক্তির ফলে পাহাড়ি এলাকায় শান্তি ফিরলে কোন কোন পক্ষ সেই চুক্তির বাস্তবায়ন চায়নি বলে অনেক বিশ্লেষক বলছেন। ২০১৭ সালে ইউপিডিএফ ভেঙ্গে নতুন করে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে আরেকটি দল তৈরি হয়। অন্যদিকে জনসংহতি সমিতি ভেঙ্গে জেএসএস (এমএন লারমা) নামে আগেই আরেকটি দল তৈরি হয়েছিল। পাহাড়ি এলাকায় এই চারটি গোষ্ঠীর মধ্যে অব্যাহত সংঘাত লেগেই রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এসব গোষ্ঠীর সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব) ইমদাদুল ইসলামও বলছেন, কোন কোন মহলের এক ধরনের ইন্ধন ছিল জেএসএসের মুখোমুখি ছোট দলগুলোকে দাঁড় করিয়ে দেয়া। এই তথ্য যদি সত্যি হয়, তাহলে হয়তো কুকি-চিন অস্ত্র পেয়েছে। এরপরে হয়তো যে কোনোভাবেই তারা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগে প্রলুব্ধ হয়েছে, হয়তো টাকা-পয়সার লেনদেনের কারণেই।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরভাবে অভিযান চালাতে হবে’
প্রতিবেশী দুই দেশ ইন্ডিয়া ও মায়ামনার দিয়ে দেশের অরক্ষিত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী একাধিক গ্রুপের সহায়তায় অস্ত্র ঢুকছে বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শুধু অস্ত্র নয়, আসছে ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকও। এসবের সঙ্গে অনেকের স্বার্থ জড়িত থাকায় বাধছে আধিপত্যের লড়াই। সৃষ্টি হচ্ছে সংঘাত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু অস্ত্র ধরা পড়লেও মজুত অস্ত্রের তুলনায় সেগুলো নগণ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, পাহাড় ঘেঁষা সীমান্ত দিয়ে দেদারছে অস্ত্র ঢুকছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত হয়ে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপগ্রুপগুলোর মধ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে খনোখুনির অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। পাহাড়ে শৃঙ্খলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।তিনি বলেন, পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হলে জনমত তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোরভাবে অভিযান চালাতে হবে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পাহাড় ঘিরে অনেকের স্বার্থ জড়িত থাকায় সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না বলেও মনে করেন তিনি।

আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন পাহাড়ের গ্রামবাসী: এদিকে বান্দরবানে গোলাগুলিতে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাম ছেড়েছে ১৯৫টি পরিবার। এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি সদরের পল্লী চিকিৎসক লালচুং বম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার কথা শুনেছি। খামতাংপাড়া থেকে অনেকে পালিয়ে এসে সদরে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলের ওই পাড়া থেকে ১৭৫টি পরিবার আতঙ্কে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের গ্রামে ফেরত পাঠানো হবে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান উহ্লাচিং মারমা বলেন, ঘটনাস্থলটি রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে পড়েছে। আমি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর আতঙ্কে পালিয়ে এসে ২০টি পরিবার এখন রুমা উপজেলার বাম কমিউনিটি হলে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদের খোঁজখবর রাখছি।
ইউডি/সুপ্ত/কেএস

