গরমে অতিষ্ঠ, ঘুরে আসুন ‘মেঘের আবাস’ মেঘালয়
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ২১:০০
চৈত্রের গরমেই কাহিল। এখনও বৈশাখ পড়ে রয়েছে। এরপর কী হবে ভেবে যেন শরীর আরও গরম হয়ে উঠছে। গত কয়েখদিন ধরে দেশের তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশাপাশে ওঠানামা করছে। একটু প্রশান্তির আশায় মন বলছে কোথা থেকে ঘুরে আসা যাক। কিন্তু কোথায় যাবেন। সবখানেই তো গরম। চিন্তা নেই। রয়েছে সমাধান। পাসপোর্টে যদি ইন্ডিয়ার ভিসা লাগানো থাকে, তাহলে এখনই ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে। যেতে হবে মেঘালয়।
বাংলাদেশের খুব কাছেই জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য মেঘালয়। যা প্রতিবেশি দেশ ইন্ডিয়ার পূর্ব রাজ্যে অবস্থিত। এটি তার অসামান্য সুন্দর রাজধানী শিলংয়ের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। মেঘালয় পর্যটন স্থানটি তার সুন্দর পর্বতমালা, ভারী বৃষ্টিপাত, রোদেলা দিন, উচ্চ মালভূমি, দর্শনীয় জলপ্রপাত, নদী এবং আকর্ষণীয় সমভূমির জন্যও বেশ বিখ্যাত। এই জায়গাটি তার অনন্য জায়গাগুলোর জন্যও খুব জনপ্রিয়। এখানকার ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ, আরওয়াহ গুহা, লালং পার্কের মতো দারুণ সব জায়গা রয়েছে, যা আপনি দেখতে পারেন।
সংস্কৃতে মেঘালয় মানে মেঘ বা মেঘের আবাস। ইন্ডিয়ানদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদের কাছে মেঘালয় জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। জানুন মেঘালয়ের কোথায় কোথায় বেড়াবেন।
মাওসাওডং জলপ্রপাত
মাওসাওডং জলপ্রপাত এখানে অবশ্য দেনডো জলপ্রপাত নামেও পরিচিত। মেঘালয়ের কম পরিচিত, কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর স্থান এটি। সোহরা জেলার উপকণ্ঠে মাওকামা গ্রামে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি অবশ্যই দর্শনীয় এবং সবচেয়ে ভালো দিক হল এই জায়গায় পর্যটকদের ভিড় বেশ কম। আপনি যদি নিরিবিলি কোনও জায়গায় যেতে চান, তা হলে আপনি এখানে এক বার যেতে পারেন।
মাওলংবনা গ্রাম
মেঘালয়ে ঘুরে দেখার জন্য মাওলিংবনা গ্রাম অন্যতম সেরা অব বিট জায়গা। এই গ্রামটি পূর্ব খাসি এলাকার পার্বত্য জেলায় অবস্থিত। এ কথা জানলে হয়তো আপনার ভালো লাগবে যে, এই জায়গাটি ২০০ মিলিয়ন বছরের পুরনো জীবাশ্মের জন্য বেশ পরিচিত। দারুণ সুন্দর বনাঞ্চলও রয়েছে এই গ্রামে।
কংথং গ্রাম
হুইসলিং গ্রাম নামেও বিখ্যাত এই কংথং গ্রাম মেঘালয়ের সবচেয়ে গোপন এবং রহস্যময় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলায় অবস্থিত এই গ্রামটি শিলং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জায়গাটি নিঃসন্দেহে সুন্দর। প্রকৃতি উপভোগ করতে চাইলে, এই জায়গায় আপনাকে আসতেই হবে।
সোহখমি
এই জায়গা অ্যাডভেঞ্চার সন্ধানকারীদের জন্য উপযুক্ত। সোহখমি সোহরা মালভূমির ঢালে অবস্থিত একটি খুব সুন্দর গ্রাম। আপনি যদি ট্রেকিং করতে যেতে চান, তা হলে এই গ্রামটি তার জন্য বেশ বিখ্যাত। এই ট্রেলিং কুটামদান গ্রাম থেকে শুরু হয় এবং আপনাকে অসামান্য সুন্দর রুট দিয়ে প্রেসবিটারিয়ান চার্চ অবধি নিয়ে যায়।
ওয়েই সাওডং জলপ্রপাত
মেঘালয় একাধিক অসামান্য সুন্দর জলপ্রপাতেরও আবাসস্থল। তবে কম পরিচিত কিন্তু সুন্দর তিন স্তর যুক্ত জলপ্রপাত হল ওয়াই সাওয়াডং যা কিনা মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি ট্রেকারদের জন্যও একটি উপযুক্ত জায়গা। যদিও এখানে আরোহণ করা বেশ ক্লান্তিকর, তবে এক বার আপনি যদি শীর্ষে পৌঁছে যেতে পারেন, তা হলে সেখান থেকে জলপ্রপাতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে আপনার সমস্ত ক্লান্তি অবশ্যই দূর হয়ে যাবে।
লোলং পার্ক
মেঘালয়ের অন্যতম লুকনো রত্ন লোলং পার্ক জোওয়াই থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ক্রাংশুরি জলপ্রপাত দেখতে সাধারণ মানুষরা প্রায়ই এই জায়গায় ট্রেকিং করে আসে। এখানে অনেকেই এই সুন্দর উদ্যান সম্পর্কে জানেন না, যেখানে একাধিক পবিত্র গাছ আছে বলে মনে করা হয়।
যাবেন যেভাবে
সড়কপথে মেঘালয় (শিলং) গেলে তুলনামুল কম খরচ হয়। এক্ষেত্রে শ্যামলী পরিবহন ভিসা ব্যবস্থাসহ সরাসরি ঢাকা থেকে শিলং যাওয়ার ও আসবার সেবা দিয়ে থাকে। আরও সাশ্রয়ে বা নিজ ব্যবস্থায় যারা ভ্রমণ করতে চান তারা বাসে, প্লেনে বা ট্রেনে করে সিলেট পৌঁছে সেখান থেকে সিএনজি বা বাসে করে তামাবিল যাবেন। সেখানে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ডাউকি থেকে ট্যাক্সি নিয়ে বা লোকাল গাড়ি করে সরাসরি শিলং যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
পর্যটকদের বিপুল পরিমাণ আনাগোনার জন্য মেঘালয়ের আনাচে কানাচে নানা মানের নানা দামের হোটেল গড়ে উঠেছে। পুলিশ বাজার নামক জায়গাটায় বিশেষ করে নানা ধরনের অসংখ্য হোটেল দেখা যায়। ফোর স্টার বা মোটামোটি লাক্সারিয়াস হোটেল শহরে একটিই আছে যার নাম হোটেল পোলো টাওয়ার্স। ব্যাকপ্যাকারস দের জন্য রয়েছে বেশ অনেকগুলো বাজেট হোটেল। শিলং ক্লাব গেস্ট হাউস, পাইন সুইটস হোটেল, হোটেল নাইট ইন এদের মধ্যে অন্যতম।আল্পাইন কন্টিনেন্টাল হল হোটেল মাঝারি বাজেটের হোটেল। ৯০০ থেকে ১২০০ রুপির মধ্যে বাজেট হোস্টেল পাওয়া যায় যেখানে রুম শেয়ার করে গ্রুপ ট্রাভেলারসরা একসাথে থাকতে পারবেন। ১৫০০ রুপি থেকে ৪৫০০ রুপির মধ্যে হোটেল ইয়ালানা, বুল্ভারড, এবং দি ই সি হোটেলে রুম পাওয়া যাবে।
কি খাবেন
শিলং এর রেস্তোরা গুলোতে শূকরের মাংস ও মুরগীর মাংস বেশী পাওয়া যায়। এখানে গরুর মাংস দেখা যায় না। তবে সবখানে প্রচুর মাছ আছে যা প্রচণ্ড উপাদেয়। পুলিশ বাজার জামে মসজিদের পাশে মুসলিম রেস্তোরা সাভেরাতে হালাল গরুর মাংস পাওয়া যায়। ভিন্ন কিছু বা উপজাতীয় খাবারের স্বাদ নিতে হলে চলে যেতে হবে সিসেম নামের রেস্তোরায়। শেফস মাল্টি কুজিন মোটামোটি ধরনের বাজেটের মধ্যে ভাল খাবার এর সেবা দেয়। শিলং শহরে ফাস্টফুড চেইন শপ কে এফ সি, ডমিনস, সাবওয়ে দেখতে পাওয়া যায়। আর যেকোনো রেস্টুরেন্টেই ১৮০ থেকে ২০০ রুপির ননভেজ বা ভেজ থালি পাওয়া যায় যা একজনের খাবার হিসাবে যথেষ্ট। এছাড়া নানারকম স্ট্রিটফুড যেমন মোমো ও থোকমার জন্যও শিলং প্রসিদ্ধ।
ইউডি/এ

