বৃহস্পতিবার হবে হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ, ১০০ বছরে এক বার দেখা যায় এই দৃশ্য
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ২২:০০
এবছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হবে ২০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। এটা হবে বিরল সূর্যগ্রহণ। কেননা, এই গ্রহণের বিশেষত্ব রয়েছে। একে বলা হচ্ছে হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ। যা ১০০ বছরে নাকি দেখা যায় একবারই। ২০২৩ সালে মোট চারটি গ্রহণ হবে, যার মধ্যে দুইটি চন্দ্রগ্রহণ এবং দুইটি সূর্যগ্রহণ ৷
হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ কী: ১৮ মাস পর পর একটি করে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হয় । এই সময় সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয় চাঁদ। সূর্যের নানারকমের গ্রহণ হয়। কখনও আংশিক ঢাকা পড়ে সূর্য। কখনও পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায় সূর্য যাকে বলে পূর্ণগ্রাস। আবার কখনও বলয়গ্রাস হয়, যা পরিচিত ‘রিং অফ ফায়ার’। আর যদি তিনরকমই গ্রহণ একসঙ্গে ঘটে, তখন তাকে বলে হাইব্রিড গ্রহণ।
২০২৩ সালে যত গ্রহণ: বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। দ্বিতীয়টি হবে ১৪ অক্টোবর, শনিবার । ২০২৩ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ৫ মে, ২০২৩, শুক্রবার । এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণটি ২৮ অক্টোবর, রবিবার দৃশ্যমান হবে।
সূর্যগ্রহণের সময় : জ্যোতিষ ক্যালেন্ডার অনুসারে, বৃহস্পতিবার সূর্যগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাতটা ৩৪ মিনিট। শেষ হবে বেলা ১২ টা ৫৯ মিনিট।
সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশে দৃশ্যমান হবে না: বছরের প্রথম সূর্যগ্রর্যহণ, যা ২০ এপ্রিল হতে চলেছে, তা বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। এই বিরল সূর্যগ্রর্যহণ অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর, অ্যান্টার্কটিকা এবং ভারত মহাসাগর থেকে দৃশ্যমান হবে।
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সতর্কতা: আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, চোখে উপযুক্ত সুরক্ষা ছাড়া সূর্যগ্রর্যহণ দেখলে চোখের বড়সড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। যে ক্ষতি চিরস্থায়ী । তাই, সূর্যগ্রর্যহণ দেখার জন্য উপযুক্ত ফিল্টার যেমন কালো পলিমার, অ্যালুমিনাইজড মাইলার বা ১৪ নং শেডের ওয়েল্ডিং চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, টেলিস্কোপের মাধ্যমে হোয়াইটবোর্ডে সূর্যের ছবির প্রতিফলন পেলে সহজেই সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব।
হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ কেন: হাইব্রিড গ্রহণ হল একই সঙ্গে আংশিক, পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাস গ্রহণ। যদি তিন রকম গ্রহণ পরপর একই সঙ্গে ঘটে তাহলে তা হল হাইব্রিড বা মিশ্র। এটিকে বিরলতম মহাজাগতিক ঘটনা বলেন বিজ্ঞানীরা।
পূর্ণগ্রাস: যখন সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায় চাঁদের ছায়ায়, আমরা বলি পূর্ণগ্রাস। বিজ্ঞানের পরিভাষায়, ‘টোটাল সোলার একলিপ্স’। সূর্যের পূর্ণগ্রাস মেরেকেটে হতে পারে ৬ কি সাড়ে ৬ মিনিটের জন্য। খুব বেশি হলে যা হতেও পারে বড়জোর সাড়ে ৭ মিনিট।
আংশিক গ্রহণ: কোথাও যদি সেটা পুরোপুরি হয়, তা হলে অন্য কোথাও হবে সূর্যের আংশিক গ্রহণ। যেখানে পৃথিবীর সামনে এসে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে না সূর্যকে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, ‘পার্শিয়াল সোলার একলিপ্স’।
বলয়গ্রাস গ্রহণ: আরও এক ধরনের সূর্যগ্রহণ হয় যাকে বলে বলয়গ্রাস গ্রহণ। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যার নাম ‘অ্যানুলার সোলার একলিপ্স’। কক্ষপথে প্রদক্ষিণের সময় চাঁদ যখন এমন একটা দূরত্বে চলে যায়, যাতে তার ছায়া সূর্যকে ঢেকে দিতে পারে না পুরোপুরি, তখনই হয় সূর্যের বলয়গ্রাস।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই হাইব্রিড সূর্যগ্রহণে সূর্যের আকৃতির থেকে চাঁদের ছায়া ছোট হয়। ফলে সূর্যকে পুরো আড়াল করতে পারেনা। তার ফলে চারদিক দিয়ে সূর্যের ছটা বেরিয়ে আসে। তখন সূর্যকে দেখতে অনেকটা সোনার আংটির মত দেখায়। নাসার মতে, এই ধরনের সূর্যগ্রহণের ঘটনা মাত্র ৩.১ শতাংশ ঘটে। এই শতাব্দীর মোট ২২৪ টি সূর্যগ্রহণের মধ্যে ৭টি মাত্র এই জাতীয় হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ।
ইউডি/এ

