আগামী সপ্তাহে পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে ইউক্রেন : ওয়াগনার প্রধান
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ২০:০০
চলমান যুদ্ধে রাশিয়াকে ঠেকাতে ইউক্রেন পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুঞ্জন অনেক দিন আগের। তবে সে হামলা কবে হতে পারে তা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। এবার রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদের গ্রুপ ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে অর্থাৎ ২ মের পরে এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করতে পারে ইউক্রেন।
এ সময় তিনি তার সেনাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ নেই বলেও সতর্ক করেন। ইয়েভজেনি প্রিগোজিন টেলিগ্রাম অ্যাপে পোস্ট করা একটি অডিওবার্তায় বলেন, ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণ একেবারে অনিবার্য। এ আক্রমণ চালাতে কিয়েভের অবরুদ্ধ বাখমুত শহরে নিজেদের সবচেয়ে সুপ্রশিক্ষিত সেনাদের পাঠাতে যাচ্ছে ইউক্রেন।
তবে ওয়াগনার গ্রুপও পিছিয়ে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রিগোজিন। তিনি বলেন, আমরাও যেকোনো মূল্যে অগ্রসর হব। ইউক্রেন সেনাদের ঠেকাতে এবং তাদের আক্রমণ ব্যাহত করতে সব চেষ্টা করে যাব। আগামী মাসে অঞ্চলটির আবহাওয়া উন্নত হলেই ইউক্রেন সেনারা আক্রমণ শুরু করবে বলে জানান ওয়াগনার প্রধান। ইউক্রেনের এই বাখমুত শহরের দখল নিতে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস যাবৎ লড়াই চলছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রিগোজিন দাবি করেন, বাখমুতের ৮০ শতাংশের বেশি দখলে নিয়েছে ওয়াগনার বাহিনী। যদিও ইউক্রেন তা অস্বীকার করে।
এদিকে ইউক্রেনের অবস্থানগুলোতে হামলা চালানোর জন্য রাশিয়া অত্যাধুনিক টি-১৪ আরমাটা ট্যাঙ্ক ব্যবহার শুরু করেছে। তবে এগুলো এখনও ‘সরাসরি আক্রমণ অভিযানে অংশ নেয়নি’। মঙ্গলবার রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, ট্যাঙ্কগুলোতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এবং ক্রুরা ইউক্রেনের প্রশিক্ষণ গ্রাউন্ডে এটি ব্যবহারের জন্য ‘সমন্বয়’ করছে। টি-১৪ হচ্ছে মানববিহীন ট্যাঙ্ক। ক্রুরা দূর থেকে এই ট্যাঙ্কটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। হাইওয়েতে ট্যাঙ্কগুলোর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার।
জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইউক্রেনে রুশ বাহিনী তাদের ‘বাজে অবস্থার’ কারণে ট্যাঙ্কগুলোর প্রথম চালান গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধে এর ব্যবহার সম্ভবত রাশিয়ার জন্য ‘একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হতে পারে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী বলেছে, এই ট্যাঙ্কের ‘উৎপাদন সম্ভবত শুধুমাত্র নিম্নমাত্রায়, কারণ কমান্ডাররা যুদ্ধে এই গাড়িটির ওপর কম আস্থা রাখছে।’ ২০১৫ সালে প্রথম টি-১৪ ট্যাঙ্ক উৎপাদনের ঘোষণা দেয় ক্রেমলিন। ২০২০ সালের মধ্যে দুই হাজার ৩০০টি ট্যাঙ্ক উৎপাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এর সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
ইউডি/এ

