ঈদে কক্সবাজারে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক, ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য

ঈদে কক্সবাজারে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক, ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ২২:০০

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। এবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সৈকতের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে দুই লাখ পর্যটক উৎসব-উল্লাসে মেতে উঠেন।

তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে এসব পর্যটক সমুদ্রের লোনা জলে স্নান ও বালিয়াড়িতে উৎসবে মেতে উঠেছেন। এছাড়া দরিয়ানগর, ইনানী, পাটোয়ারটেক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার অন্তত দুই লাখ পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করেছেন। ঈদপরবর্তী বুধ ও বৃহস্পতিবারও গড়ে প্রায় দুই লাখ করে পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। সব মিলিয়ে ঈদের দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। আর এতে কক্সবাজারে পর্যটন খাতে অন্তত ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।
অধিকাংশ মানুষ সমুদ্রের লোনাপানিতে শরীর ভিজিয়ে আনন্দ- উল্লাসে মেতেছেন। কেউ দ্রুতগতির জলযান জেডস্কি নিয়ে ঘুরে আসছেন গভীর সমুদ্রের জলরাশিতে। অনেকে আবার বালুচরে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক গিয়াস উদ্দিন বলেন, অনেক বছর পর কক্সবাজার আসা। এখানে এসে খুব ভাল লাগছে। নতুন বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার চলে এসেছি। আমরা সন্ধ্যায় বালিয়াড়িতে কিছুক্ষণ হাঁটার পর দুজন নেমে পড়ি সমুদ্রের নীল জলরাশীতে।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের অর্ধেক সদস্য ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। আমরা দুজন চলে এসেছি কক্সবাজারে। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি শেষে শনিবার ঢাকায় ফিরে যাবো।
আরেকজন পর্যটক রুমন মজুমদার বলেন, বন্ধুদের নিয়ে ২৫ এপ্রিল কক্সবাজার এসেছি। ইচ্ছে ছিল সেন্টমার্টিন যাবো। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারলাম সেন্টমার্টিন যাওয়া যাচ্ছে না। তাই মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। তবুও ইনানী, হিমছড়ি ও পাটুয়ারটেক ঘুরাঘুরি করেছি কয়েক দিনে। এখানকার পরিবেশ ভালো, তাই বারবার আসতে মন চাই।

বৃহত্তর বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিসহ টানা এক সপ্তাহে প্রায় ছয় লাখ পর্যটক কক্সবাজার এসেছেন। প্রতিদিন গড়ে ৮০ হাজার -৯০ হাজার পর্যন্ত কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল। পাঁচ শতাধিক হোটেল গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজের ৮০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়েছিল। খাবার, রুম ভাড়া ও অন্যান্য সব মিলে একজন পর্যটক গড়ে ১০ হাজার টাকা খরচ করলে ছয় লাখ পর্যটকের খরচ দাঁড়ায় ৬শ কোটি টাকা।

কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছেন। তাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল । কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, বিনোদনকেন্দ্র ছাড়াও সমুদ্রসৈকতে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের টিম।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading