২০২৪ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৭০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশা

২০২৪ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৭০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশা

কিফায়েত সুস্মিত । মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৪:৪৫

২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি জানান, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ১৪ বছরে রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের স্থান সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি নীতি প্রণয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনার আলোকে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সোমবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলম। জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, সার্কভুক্ত অঞ্চলের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য ব্যবস্থা সাফটা চুক্তির সুযোগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তার পরও ইন্ডিয়ার সাথে কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি ভুটানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পিটিএ সম্পাদন করা হয়েছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় পিটিএ সম্পাদনের নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

পণ্য বহুমুখীকরণ ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছে সরকার, মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত থিমভিত্তিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের পণ্যের বাজার অন্বেষণ ও ইমেজ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ ও প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে পাটজাত পণ্য খাতকে বর্ষপণ্য ২০২৩ ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে এ খাতের রপ্তানি সমস্যা ও সম্ভাবনাময় আলোকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমঘন শিল্প স্থাপনকে উৎসাহিতকরণ হয়েছে। মন্ত্রী টিপু মুন্সী জানান, রপ্তানিকারকদের উৎসাহ প্রদানে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৮-১৯ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে পিটিএ/এফটিএ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তাদের নিয়ে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) পরিমাণ সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। দেশীয় পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে ও গুণগত মানোন্নয়নে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে নির্মিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৩ আয়োজন করা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় সোয়া চার লাখ কোটি টাকা: সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে টিপু মুনশি জানান, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ চার লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। ‘চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে জুলাই-এপ্রিল সময় পর্যন্ত নিটওয়্যার ওভেন, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার খাত, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে চার লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। মন্ত্রী আরো জানান, চলতি অর্থবছরে নিটওয়্যার তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় দুই লাখ ছয় হাজার ৯১ কোটি টাকা, ওভেন তৈরি পোশাক খাতে ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, হোম টেক্সটাইল খাতে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, ফুটওয়্যার খাতে তিন হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতে তিন হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি খাতে সাত হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি খাতে ৯ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ২২টি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে চাল, মসুর ডাল, আলু, পেঁয়াজ, চায়ের মতো পণ্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দেশভিত্তিক কৃষিপণ্য উৎপাদনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে চিত্রটি দেখা যায়। সংস্থাটি গত মার্চে এই পরিসংখ্যান হালনাগাদ করে। এতে তথ্য দেওয়া হয় ২০২১ সালের।

রপ্তানি আয়ের ডলার আসার দিনের বিনিময় হার চান ব্যবসায়ীরা: রপ্তানি আয়ের ডলার যে দিন আসবে, সে দিনের বিনিময় হার দাবি করেছে বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গত মার্চের একটি প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যয় এবং রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্যাকেজিং সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবজি ও ফল রপ্তানি দিন দিন কমছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশি ক্রেতারা কৃষিপণ্যের রপ্তানি মূল্য পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব করছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ৬ মার্চের এই প্রজ্ঞাপনের কারণে বিলম্বে আসা রপ্তানি আয়ের ডলার চার মাস আগের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করছে বিভিন্ন ব্যাংক। যার কারণে ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মোহাম্মদ মনসুর আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা পণ্য জাহাজিকরণের তারিখ নাকি প্রজ্ঞাপনের তারিখ, কোনটি প্রযোজ্য হবে, সেটি উল্লেখ ছিল না। এ কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগের যেকোনো সময়ে পণ্য রপ্তানির মূল্য দেরিতে এলেও প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী ডলারের বিনিময় হার দিচ্ছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading