ভয়ঙ্কর মৃত্যুদূত হয়ে আসছে ডায়াবেটিস টাইপ-২
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৪:০০
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে হারে বাড়ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, গবেষণা বলছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এমন পূর্বাভাসকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য ‘উদ্বেগজনক’। এ নিয়ে বিনয় দাস’র প্রতিবেদন
২০৫০ সালে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩০ কোটিতে
ডায়াবেটিস আসলে কোনো রোগ নয়, বরং একটি বিশেষ শারীরিক অবস্থা যা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি করে এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মানুষের মৃত্যুও ঘটে ডায়াবেটিসে। বৈশ্বিক গণস্বাস্থ্য ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত আমেরিকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৩ কোটি; কিন্তু ২০৫০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে পৌঁছাবে ১৩০ কোটিতে।

শুক্রবার (২৩ জুন) বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রথম সারির আন্তর্জাতিক পিআর রিভিউ সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি। এছাড়া পরবর্তী ৩০ বছরে কোনো দেশেই ডায়াবেটিসের হার কমার কোনো লক্ষণ নেই। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে প্রায় ৯৮০ কোটি। সেই হিসেবে তখন প্রতি ৭-৮ জনের মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিগত সংখ্যালঘু ও ভৌগোলিক বৈষম্যের কারণে সৃষ্ট কাঠামোগত বর্ণবাদ বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস, অন্যান্য রোগ ও মৃত্যুর হারকে ত্বরান্বিত করছে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ৯০ %-ই টাইপ ২-তে আক্রান্ত
মানুষের রক্তে শর্করার প্রয়োজনীয় শর্করার পরিমাণ নির্ধারণ করে ইনসুলিন নামের একটি হরমোন। সুস্থ-স্বাভাবিক প্রতিটি মানুষের শরীরের ভেতরে এই হরমোন প্রয়োজনীয় মাত্রায় নিঃসৃত হয়; কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটে। এই শারীরিক অবস্থায় আক্রান্ত রোগীদের দেহে প্রয়োজনীয় মাত্রার ইনসুলিনের উৎপাদন হয় না। ফলে, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং এই শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে মৃত্যু ঘটে মানুষের।

ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়াবেটিসের ধরন অনুসারে একে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, টাইপ ১ এবং টাইপ ২। যাদের দেহে জন্মগতভাবেই ইনসুলিনের উৎপাদন কম হয় তারা টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অন্যদিকে, জীবনাচরণ, খাদ্যাভাস ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাবে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তারা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে মনে চিকিৎসাবিজ্ঞান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যত ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন, তাদের ৯০ ভাগই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক স্থুলতা বা অতিরিক্ত শারীরক ওজন যাদের ওজন না কমালে জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স ইভ্যালুয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ দশকের মধ্যে বিশ্বজুড়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের হার ৯৫ শতাংশ উন্নীত হবে।
দেশে রোগী ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি, ৬২%-ই জানে না!
বাংলাদেশ ডায়াবেটিকস সমিতি’র সবশেষ তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী। আর ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ জানে না তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, অর্থাৎ ১০০ রোগীর মধ্যে ৬২ জনই জানে না তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষক দলের এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, চার বছর আগে ঢাকা শহরে ১ লাখের বেশি লোকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছিল সমিতি। যেসব মানুষ জানে না তার ডায়াবেটিস আছে, তাদের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, ২৬ শতাংশ লোকের বøাডে সুগার আছে; অর্থাৎ তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কিন্তু তারা সেটা জানে না।এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের গ্লোবাল সার্ভে অনুযায়ী, বিশ্বে যত ডায়াবেটিস রোগী আছে, তাদের ৫০ শতাংশই জানে না যে তাদের এই রোগ আছে। কারণ এটা একটা নীরব ঘাতক। এটা আস্তে আস্তে ক্ষতি করা শুরু করে।
দিনকে দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ার নেপথ্যে কী
ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের শীর্ষ গবেষক লিয়েন অং ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের দ্রুত পরিবর্তন এবং শাকসবজি, ফলমূল ও সাধারণভাবে উৎপাদিত আমিষজাত খাদ্যের পরিবর্তে ক্রমশ প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরশীলতাই আসন্ন এই সংকটের জন্য প্রধানত দায়ী। দ্য গার্ডিয়ানকে লিয়েন ওয়েং বলেন, গত ৩০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকজন তাদের দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত দৈনন্দিন খাবার থেকে সরে আসছে। একসময় তাদের খাদ্যতালিকায় মাংসের পাশাপাশি মাছ, ফলমূল, শাকসবজিরও প্রাধান্য থাকত; কিন্তু নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে এখন তারা ক্রমশ ফাস্টফুড ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝুঁকছে।
মূলত এই ব্যাপারটিই আগামী তিন দশকে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ করার ক্ষেত্রে সরাসরি দায়ী থাকবে। তিনি আরও বলেন, ডায়াবেটিস এখন আর কোনো রহস্য নয়। গত শতকেই ডায়াবেটিসের সংজ্ঞা, কী কারণে এটি হয় এবং এর প্রতিকার বা প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু সামাজিক পরিস্থিতির কারণেও যে ডায়াবেটিসের বিস্তার ঘটতে পারে, তা আমরা ধরতে ব্যর্থ হয়েছি। গবেষণা প্রবন্ধটির সহলেখক এবং আমেরিকার উইসকনসিন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক লিওনার্ড ইগেড এক বিবৃতিতে বলেন, নগরায়ন ও শিল্পায়ন বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে তাদের ঐতিহ্যগত খাবারগুলোর প্রতি একধরনের বর্ণবাদী ও অবজ্ঞাসূচক মনোভাব গড়ে তুলছে। তার ফলাফল হলো ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের এই ক্রমবর্ধমান হার। দ্য গার্ডিয়ানকে লিয়েন ওয়েং বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং জনগণকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে অনুপ্রাণীত করতে রাষ্ট্রগুলো উদ্যোগ নিলেই একমাত্র আসন্ন এই বিপদ থেকে মুক্তি পেতে পারে বিশ্ব।
বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবার ওপর বড় চ্যালেঞ্জ
করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসের বৈষম্যকে আরও প্রশস্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে গবেষকরা। তারা বলেছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কোভিড -১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই গবেষণা প্রতিবেদনে অন্যতম সহ-লেখক ও দক্ষিণ আফ্রিকার উইটওয়াটারসরান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলিশা ওয়েড বলেন, ডায়াবেটিস একটি বিরাট সংকট। এর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোকের প্রভাবকে স্বীকার করতে হবে। বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস প্রতিরোধের প্রচেষ্টায় এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বের নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তিন-চতুর্থাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবে। ‘ল্যানসেট’-এর আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, আমেরিকার মতো ধনী দেশেও সংখ্যালঘু তথা কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক, এশীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার দেড়গুণ বেশি। এ জন্য মেডিকেল কলেজ অব উইসকনসিনের গবেষক ‘ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিস বৈষম্যকে’ দায়ী করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘বর্ণবাদী নীতির কারণে একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।’ মন্টেফিওর হেলথ সিস্টেম ও নিউ ইয়র্কের অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অফ মেডিসিনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. শিবানী আগরওয়াল বলেন, আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি ডায়াবেটিস। আগামী তিন দশকের মধ্যে প্রতিটি দেশে এই রোগের রোগী ব্যাপক হারে বাড়বে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারের উদ্যোগ
২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৩০ লাখ রোগী শনাক্ত করে তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বস্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা প্রোটোকলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি জুন মাসে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় হূদেরাগ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ ভাগই অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে, যার প্রায় অর্ধেকই অকালমৃত্যু।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৪ জুন ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা
অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসজনিত ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বিধায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এর চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সম্পৃক্ত করার জন্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসক-নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা ও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কারিকুলামের আধুনিকায়ন করা। বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের শনাক্তকরণ বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সকল অধিদপ্তরের সমন্বয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন সাব-সেন্টারকে ব্যবহারের ওপর বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, গ্রামীণ সরকারি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শহরের চিকিৎসা খাতে এবং বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রেও উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস চিকিৎসার জাতীয় প্রোটোকলের ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এসব সমন্বিত উদ্যোগে অসংক্রামক রোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট সকলকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফরম ব্যবহারের সুপারিশ করেন এবং নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার সুবিধার্থে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম থেকে প্রাপ্ত সূচকসমূহ ডিএইচআইএস২-তে প্রদর্শনের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিসমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ইউডি/এজেএস

