বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে সরকার

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে সরকার
সৌরবিদ্ut

কিফায়েত সুস্মিত । সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩ । আপডেট ১৭:৩০

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বাড়ছে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের উপর জোর দিচ্ছে সরকার; আগামী ১ বছরের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত কিছু পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে চলতি বছরের মার্চে নির্দেশও দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সম্প্রতি জাপান, নরওয়ে, ডেনমার্কসহ বেশকিছু দেশ এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুনে জলবায়ু বিনিয়োগ তহবিলের অধীনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে নরওয়ে। গত সপ্তাহে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ামাদা জুনিচির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নসরুল হামিদ বলেন, হাইড্রোজেন জ্বালানি নিয়ে আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকল্প নিতে চাই। এছাড়া জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়েও দুই দেশের একসাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। রবিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে ডেনমার্কের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রোপ পিটারসন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নসরুল হামিদ বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসময় তারা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বছরে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা: নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের উপর জোর দিচ্ছে সরকার; আগামী ১ বছরের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত কিছু পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নসরুল হামিদ বলেছেন, আমাদের সৌর উৎস থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ পেতেই হবে। বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াটেরও কম। বৈশ্বিক উষ্ণতা ঠেকাতে জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নির্ভরতা বাড়ানোর দাবি উঠছে দুনিয়াজুড়ে। এর আগে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে ব্যক্তি উদ্যোগে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক দশক পার হলেও সেই প্রকল্প ভালো ফল না দেওয়ায় নতুন এই প্রকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য জমির বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে ইন্ডিয়ার স্টেজ এনার্জি সার্ভিস ও বাংলাদেশের টেকনোবিন এনার্জি সার্ভিস সম্প্রতি একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষে করে। কৃষিভিত্তিক নাবায়ণযোগ্য জ্বালানির বিজনেস মডেল তৈরি করা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষি জমিতে উৎপাদন অব্যাহত রেখে কীভাবে কাজগুলো শুরু করা যায়, সেই উদ্ভাবনে হাত দেওয়ার উপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। শহরের মধ্যেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দেন নসরুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে প্রকল্প হাতে নেওয়া আবশ্যক। নেট মিটারিং সিস্টেম সেইভাবে এগোচ্ছে না। ডেসকো ডিপিডিসি বা নেসকো এলাকায় সোলার রূপটপ কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে ৯৯৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাইপ লাইনে’: রবিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে ডেনমার্কের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রোপ পিটারসন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নবায়নযোগ্য উৎস হতে ১১৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ৮২৫.২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে আসে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে ৩০টি প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ১২৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প চলমান এবং ৮৬৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। অর্থাৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে ৯৯৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পাইপ লাইনে আছে। আমরা নবায়নযোগ্য উৎস হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশ হতে আমদানি করার প্রক্রিয়াতেও আছি। রাষ্ট্রদূত অফসোর উইন্ড থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমিতে সহযোগিতা করতে ডেনিশ কোম্পানিগুলো খুবই আগ্রহী। এসময় তারা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরএডিপি ১০০% বাস্তবায়ন বেশ ভালো এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, গ্রাহক সন্তষ্টিই আমাদের মূল লক্ষ্য। গ্রাহকদের সাথে বিদ্যমান আস্থার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পরিকল্পনা মাফিক যোগাযোগ কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৭১ টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ২৮৩১৯.৭২ (আটাশ হাজার তিনশত উনিশ কোটি তিহাত্তর লক্ষ টাকা) কোটি টাকা। আর্থিক ব্যয় ২৮৪০০.৩০ (আটাশ হাজার চারশত কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা) কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতির হার ১০০.২৮%। সিলিং অনুযায়ী অগ্রগতি ১০১.৫৮%। ভৌত অগ্রগতি ১০০%। ২০২১-২০২২ অর্থবছরেও আর্থিক অগ্রগতি ছিল ১০১.৯০%।

৪১ সালের মধ্যে উৎপাদন ৪০ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব, মত বিশেষজ্ঞদের: জৈব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুতে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা বায়ুর গুণগত মান নষ্ট করছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলোর মধ্যে প্রধানতম উৎস হলো সোলার এবং বায়ুকল। এগুলোকে সঠিক গবেষণার মাধ্যমে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশে ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পৌঁছানো সম্ভব। সম্প্রতি রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সেমিনার রুমে বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং আরবান প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এক গোলটেবিল বৈঠকে এমনটা জানানো হয়। আলোচনায় ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, জ্বালানি একটি কৌশলগত পণ্য। টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির অভাবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার ফলে বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে। জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বায়ুদূষণের ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, নির্মল বায়ু মানুষের অধিকার কিন্তু ঢাকা শহরের অধিবাসীরা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত। জৈব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুতে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা বায়ুর গুণগত মান নষ্ট করছে। তাই জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা গেলে সবার জন্য নির্মল বায়ু এবং জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading