এশিয়ায় বন্যা-ইউরোপে তীব্র তাপদাহ: প্রকৃতির প্রতিশোধ!
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩ । আপডেট ১৭:০০
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব জুড়ে আবহাওয়ায় নানা অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা দিচ্ছে এবং অস্বাভাবিক গরম বা ঠাণ্ডা, বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছাস, সাইক্লোন, দাবানল – ইত্যাদি নিয়মিত ঘটনা হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর ওপর প্রকৃতি যেন প্রতিশোধ নিচ্ছে। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন
‘এল নিনো’ জলবায়ু পরিস্থিতির প্রভাব শুরু
চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কবলে পড়েছে বিশ্ব। একদিকে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ডুবছে তো আরেক দিকে পুড়ছে দাবদাহে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে ইউরোপ ও আমেরিকা পুড়ছে দাবদাহে। গত জুনের শুরুর দিকে আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী ‘এল নিনো’ জলবায়ু পরিস্থিতি শুরু হয়ে গেছে। এতে আবহাওয়া ও তাপমাত্রা চরম রূপ ধারণ করতে পারে। বিশ্বব্যাপি তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছিল এ বছরেরই জুন মাসে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে অনেকগুলো দেশে এখন বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপ প্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে আমেরিকা থেকে শুরু করে চীন ও জাপান পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধের অনেকগুলো দেশে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই তাপপ্রবাহকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যায়িত করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া-দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার অনেক দেশ ডুবছে বন্যায়।
দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে ইউরোপ-আমেরিকা, রেড এলার্ট জারি
ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোতে চলমান দাবদাহ আগামী সপ্তাহেও বজায় থাকতে পারে এমন আশংকা দেখা দিয়েছে। কারণ সেখানে তাপমাত্রা কমার কোন লক্ষণ সেখানে দেখা যাচ্ছে না। ইতালি, স্পেন এবং গ্রীস এর মধ্যেই গত কয়েকদিন ধরে উচ্চ তাপমাত্রার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোম ও ফ্লোরেন্সসহ ১৬টি শহরে রেড এলার্ট জারি করেছে, কারণ আগামী সপ্তাহে দেশটির সারদিনিয়াতে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে বলে বলছে দেশটির গণমাধ্যম। এর আগে ২০২১ সালের অগাস্টে সিসিলিতে ৪৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রার রেকর্ড করেছিলো।

ইতালির রোমে দাবদাহে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
আগামী কয়েকদিন গরম আরও বাড়তে পারে ইউরোপের অনেক জায়গায়। গত কয়েকদিনে গ্রীসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ এথেন্সের দ্যা অ্যাক্রপলিস গত শুক্র ও শনিবার গরমের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে গত শনিবার বনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে অন্তত দুই হাজার মানুষকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ইউরোপের এই দাবদাহ আগামী সপ্তাহে বলকান অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হতে পারে। যদিও সার্বিয়া ও হাঙ্গেরিসহ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা এর মধ্যে ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে, পুরো আমেরিকার ওপর দিয়েও তীব্র তাপ-প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরপশ্চিমের ওয়াশিংটন রাজ্য থেকে শুরু করে ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া সর্বত্রই প্রচø গরম পড়েছে। দিনের বেলা তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪৬ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, এবং বলা হচ্ছে যে এই তাপপ্রবাহ আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে গরম পড়েছে সবচেয়ে বেশি। বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি নিয়ে হেলাফেলা না করতে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া বিভাগ এনডব্লিউএস। ফিনিক্সের তাপমাত্রা ছিল ৪৬ ডিগ্রি, লাস ভেগাসে ৪৫ ডিগ্রি, এবং ডেথ ভ্যালিতে ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমের কারণে টেক্সাস রাজ্যে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিমাণ আগেকার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কানাডায় অন্তত ৯০০টি এলাকায় দাবানল দেখা দিয়েছে – যার মধ্যে প্রায় ৫৬০টিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আগুন জ্বলছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আগুন নেভাতে গিয়ে ১৯ বছরের একজন অগ্নিনির্বাপনকর্মী মারা গিয়েছেন। গত সপ্তাহে সারা বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৭.২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস – যা সর্বকালের উচ্চতম তাপমাত্রার এক নতুন রেকর্ড।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে এশিয়া
চলতি মাসে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বন্যা তীব্র আকার ধারণ করায় এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত এক পক্ষকাল ধরে তুমুল বৃষ্টি ইন্ডিয়া, চীন ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে বন্যা ও ভ‚মিধসের কারণ হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশগুলোর লাখ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে জানিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, ফিলিপিন্স, জাপানেও ভয়াবহ বন্যার কথা জানা গেছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, আগে কখনও এমন বৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন শহরে রেকর্ড বৃষ্টি হওয়ার পর তিনি বলেছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চীন ও ইন্ডিয়ার বিভিন্ন এলাকায় টানা প্রবল বর্ষণের কারণে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বন্যার শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু দেশ তীব্র আবহাওয়া পরিস্থিতির বিপদ মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। গত সপ্তাহে জাপানের কর্তৃপক্ষ কিউশু দ্বীপের দু’টি প্রিফেকচার থেকে ৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়। বন্যায় স্থানীয় এক রাজনীতিকসহ অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে তারা যে আদেশ জারি করে তাতে লেখা ছিল, আপনার জীবন বিপন্ন, আপনাকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ
উত্তর কোরিয়াতেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমান্তের কাছে একটি বাঁধ থেকে উত্তর কোরিয়া পানি ছেড়ে দিতে পারে, তার জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। অতীতে কোনো নোটিশ ছাড়াই বেশ কয়েকবার এ ধরনের পানি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল আর তাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যা ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। চীনে অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পুরো দেশজুড়েই অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় চাংচিংয়ে একটি নদীর প্রবল স্রোতে ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। এতে নগরীর ১৪টি এলাকা বন্যা কবলিত হয়। ‘তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভারি বৃষ্টিপাতের’ কারণে এমনটি ঘটেছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পর্যবেক্ষণ কী বলছে
বন্যার পেছনে অনেক কারণ থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ঘটতে থাকা জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। গত সপ্তাহে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানায়, সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এল নিনো শুরু হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় পূর্বাঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের দীর্ঘদিনের গড় তাপমাত্রা শূণ্য দশমিক ৫ সেলসিয়াস বাড়লে আবহাওয়ার এই প্রপঞ্চ শুরু হয় যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভ‚ত হয়। এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপর্যয়কর আবহাওয়া ও জলবায়ুর ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পানি, জলবিদ্যা ও ক্রায়োস্ফিয়ার বিষয়ক পরিচালক স্টেফান উলেনব্রেক এক বিবৃতিতে বলেছেন, জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো অত্যন্ত সতর্ক, বন্যা মোকাবেলা ব্যাপস্থাপনার ক্ষেত্রেও তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। কিন্তু অনেক নিম্ন আয়ের দেশে সতর্ক করার কোনো ব্যবস্থা নেই, বন্যা প্রতিরোধের অবকাঠামোও তেমন একটা নেই এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবদাহ প্রতিবছরই বাড়ছে এবং এর ব্যাপকতাও বাড়ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণিত লক্ষণ। ইউরোপের গরমকাল গত কয়েকবছরে বেশি গরম হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো সাধারণ গ্রীষ্মকাল পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালটাই এখন বিরল হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্লাইমেট মনিটরিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জুন মাসটা ছিলো এ যাবত কালে ইউরোপের সবচেয়ে গরম জুন মাস। লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞানের প্রভাষক পাওলো সেপ্পি এবারের দাবদাহের ধরনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত ইন্ডিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া
ইন্ডিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে টানা বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও থামার আভাস পাওয়া যায়নি। ব্যাপক বৃষ্টিতে হড়কা বান, বন্যা, ভ‚মিধস ও দুর্ঘটনায় এখানে মৃতের সংখ্যা ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখø রাজ্য। হিমাচলে এ পর্যন্ত ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি কয়েক হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে বলে খবর জানিয়েছে ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম। উত্তরাখণ্ডে ১৬ জন, হরিয়ানায় ১৬ জন, উত্তর প্রদেশে ১৪ জন এবং পাঞ্জাবে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে। এসব রাজ্যে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্ডিয়ার আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) । উত্তরাখণ্ডে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে তারা। হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডে পানির তোড় বেশ কয়েকটি সড়ক ধসে পড়ায় এবং ভূমিধসে অনেকগুলো সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দুই রাজ্যে বহু পর্যটক আটকা পড়েছেন। তবে ইতোমধ্যে অনেককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইএমডির আবহাওয়া বিজ্ঞানী সুরেন্দ্র পাল বলেছেন, ইতোমধ্যে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় মাটি অত্যন্ত নরম হয়ে পড়েছে আর এর জলধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। এতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বন্যা ও ধসের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। জুন থেকে শুরু হওয়া এবারের বর্ষা মৌসুমে ইন্ডিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো রেকর্ড বৃষ্টিপাত দেখেছে। হিমাচল ও পাঞ্জাব প্রদেশে এ সময়ের গড়ের তুলনায় যথাক্রমে ১০০ ও ৭০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৭ জুলাই ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা
এদিকে, কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণের জেরে সৃষ্ট বন্যা ও ভ‚মিধসে পূর্ব এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় রবিবার (১৬ জুলাই) পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। এর মধ্যে বন্যায় প্লাবিত একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া গাড়ি থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। রবিবার পৃথক দুই প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বিবিসি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া ৬৮৫ মিটার দীর্ঘ টানেলে কতজন লোক এখনও আটকা পড়ে আছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে সেখানে ১৫টি যানবাহন ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউডি/এজেএস

