অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স : জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স : জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৩ । আপডেট ১৫:১৫

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব কারণে অ্যান্টিবায়োাটিক রেজিস্ট্যান্ট হয় তার মধ্যে অন্যতম হল বিনা প্রেসক্রিপশনে ঘনঘন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র প্রতিবেদন

অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ড্রাগ: ডেকে আনতে পারে মহাবিপর্যয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্যের শীর্ষ ১০টি হুমকির মধ্যে একটি হল অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর)। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন প্রতিরোধ করা না গেলে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মানবজাতির জন্য মহাবিপর্যয় বয়ে আনবে। অ্যান্টিবায়োটিকের অপর নাম অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ড্রাগ। এগুলো মানুষ এবং পশু-পাখির শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে, নয়তো ব্যাকটেরিয়ার দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার প্রতিরোধ করে। আগে যে অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সেরে যেত, সেটাতে আর কাজ করে না, বরং ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমন পরিস্থিতিকে বলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। এ পরিস্থিতিতে সংক্রমণের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে ওঠে এবং রোগের বিস্তার ঘটে, অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ও হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল গণমাধ্যমকে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে রেশনাল হতে হবে। স্পেসিফিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আমরা ব্যপকভাবে ব্যবহার করছি। রোগীও ভালো হয়ে যাচ্ছে, সবাই খুব খুশি। কিন্তু তাতে করে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে, মিউটেশন করছে এবং ওইসব অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে যাচ্ছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ, বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটিকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের দাবি হলো ওয়ান হেলথ ওয়ান হার্ট।শনিবার (২৬ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের বালুরমাঠ এলাকায় বøæ পিয়ার মিলনায়তনে সোসাইটি অব সার্জন অব বাংলাদেশ (এস ও এস বি) এর নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের সাইন্টিফিক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অ্যান্টিবোয়োটিক যে শুধু সার্জনরা বা ফিজিসিয়ানরা ব্যবহার করছে তা না। এ অ্যান্টিবায়োটিক এখন কৃষিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, পোল্ট্রি শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে, এমনকি মশার লার্ভা মারতেও কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম

তিনি আরও বলেন, সেফালোস্পোরিন এর পরে অ্যান্টিবায়োটিকের মৌলিক কোনো উপাদান আবিষ্কার হয়নি। এই সেফালোস্পোরিন এর গঠন পরিবর্তন করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য বাজারে ছাড়ছে। তাদের আগ্রাসী বাজারজাতকরণ অভ্যাসের কারণে আমরা সাধারণ জনগণ ও চিকিৎসকরা (সার্জন) এগুলো ব্যবহার করছি। আমরা এগুলো ব্যবহার করছি জেনে না জেনে এবং প্রয়োজনে এবং অপ্রোয়জনে। খোলা বাজারে যেভাবে এ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো বিক্রি হচ্ছে তা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সেই আইন বাস্তবায়ন করা যায়নি। সোসাইটি অব সার্জন অব বাংলাদেশের সাইন্টিফিক সেমিনারে ডা. এসএম ইফতেখার উদ্দীন সাগরের সঞ্চালনায় ও ডা. একেএম শরিফুল আলম ফেরেদৌসের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মুশিউর রহমানসহ প্রমুখ।

আইইডিসিআর’র ধারণায় পরবর্তী মহামারির ইঙ্গিত

সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বেশ কিছু রোগের জীবাণুর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে না। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এএমআর সার্ভিল্যান্স হালনাগাদ গবেষণায় মোট ২৭ হাজার ৪৩৮ জন রোগীর বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ৮ শতাংশ জীবাণুর মধ্যে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সরকারে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে ওষুধের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। এটা এত বেশি ভয়ানক যে, বলা হচ্ছে পরবর্তী মহামারী একারণেই হবে। তখন মানুষের অসুখ হবে, কিন্তু তার কোনো ওষুধ থাকবে না। তখন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এটা একটা ভয়াবহ মহামারির মতোই বিপদজনক।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কেন বাড়ছে?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি বিশাল বড় চিন্তার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কেননা সময়ের সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়াদের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা লাভের প্রবণতা কমছে না, বরং হু হু করে বেড়ে চলেছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো সা¤প্রতিক সময়ে অত্যধিক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার। সামান্য কোনো অসুখ হলেই মানুষ অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে ঝুঁকছে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ব্যতিক্রমী দুই-এক ক্ষেত্রে রোগীর দেহে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে যাচ্ছে যাদের উপর অ্যান্টিবায়োটিক কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না।

এদিকে তারা অ্যান্টিবায়োটিকের সান্নিধ্যে আসার মাধ্যমে, অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল শিখে ফেলছে, এবং পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেও একই গুণাগুণ দেখা দিচ্ছে। এভাবে তারা নিজ হোস্টের (যার শরীরে বাসা বেঁধেছে) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তো কমিয়ে দিচ্ছেই, পাশাপাশি সেই হোস্ট অন্যদের কাছে গেলে, অন্যদের শরীরেও তারা ঢুকে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এভাবে একজনের শরীরে এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা লাভ করলে, পরবর্তীতে সেটি অন্য আরো অনেকের শরীরেও সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ক্যানসারের চেয়েও বেশি রোগী মারা যাবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেটেন্টের ফলে আগামী ২০ বছরে ক্যানসারের চেয়েও বেশি রোগী মারা যাবে। এর জন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রাসী বাজারজাতকরণ ও যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি প্রধানভাবে দায়ী।আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে যে পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয় তার অর্ধেকই ব্যবহার করা হয় পশু উৎপাদনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আর্থিক সহয়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারের একটি জরিপে উঠে আসে যে, গাভির দুধে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। এগুলো যে কোনো বয়সী মানুষের শরীরে ঢুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

অপরদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা বলছে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) বৈশ্বিক প্রভাবের প্রথম বিস্তৃত বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে যে, প্রতিরোধের কারণে ২০১৯ সালে প্রায় ১৩ লাখ মিলিয়ন মৃত্যু হয়েছিল, যা এইচআইভি/এইডস বা ম্যালেরিয়ার কারণের মৃত্যুর চেয়ে বেশি। এছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল-প্রতিরোধী সংক্রমণ প্রায় ৫০ লাখ মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভ‚মিকা পালন করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব কারণে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো বিনা প্রেসক্রিপশনে ঘনঘন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, পুরো কোর্স শেষ না করে মাঝপথে খাওয়া বন্ধ করা। প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ।

বায়ুদূষণও বড় কারণ বলছে গবেষণা

বায়ুদূষণের কারণে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। স¤প্রতি দীর্ঘদিনের এক গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের শতাধিক দেশে প্রায় দুই দশক ধরে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। চীন ও ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশ, প্রতিটি দেশেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে। সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুদূষণের বিপরীতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মাত্রাও বাড়ছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এবিষয়ক নিবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের গবেষণা থেকে আমরা শক্ত প্রমাণ পেয়েছি যে, বায়ুদূষণের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ার বিষয়টি সংযুক্ত। বায়ুদূষণ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে কীভাবে প্রভাবিত করে এ বিষয়ে আমাদের এই গবেষণাই পৃথিবীতে প্রথম।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিশ্বস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান বড় হুমকিগুলোর একটি। এটি যেকোনো দেশের যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এরই মধ্যে প্রতিবছর আনুমানিক বছরে ১৩ লাখ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে মারা যাচ্ছে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অপ এবং অত্যধিক ব্যবহার।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমস্যাটি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য যেসব দূষণ সবচেয়ে বেশি দায়ী, তার মধ্যে বায়ুদূষণ সবার ওপরে। দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বায়ুতে বসবাস করলে হৃদরোগ, হাঁপানি, ফুসফুসে ক্যানসার বাড়ায় এবং প্রত্যাশিত আয়ু কমিয়ে দেয়।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৭ আগস্ট ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে সরকারের পদক্ষেপ

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে সরকার পুরনো আইন সংশোধন করেছে। প্রস্তাবিত ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩’-এ বলা হয়েছে, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। কোনও কোনও ওষুধ এ ক্ষেত্রে বিক্রি করা যাবে না, তাও খসড়া আইনে বলা আছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিশ্বের কোথাও ফার্মেসি থেকে কাউকে ওষুধ দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশে এমন নিয়ম মানা হচ্ছে না। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই লোকজন অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে পারছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। যে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই তাও ব্যবহার করা হচ্ছে। যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনা বাড়াতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে জানাতে হবে যে, যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। খাওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিতে হবে।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading