দিনে হেলপার-ব্যবসায়ী, রাতে ডাকাত
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ২০:৪২
ঢাকা ও আশপাশের সড়কপথে পণ্যবাহী পিকআপে ডাকাতির অভিযোগে একটি চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। রাজধানীর কদমতলী ও শনির আখড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আবুল হোসেন (৩৫), রহমত আলী (২৮), জসিম মিয়া (৩৩), নয়ন মিয়া (২৪), ইব্রাহীম (২৬), ইদ্রিস (২৩), মাসুদ রানা (২৬), কফিল উদ্দিন (৩২), হাসান আলী (২৩), জুয়েল (৩৫) ও আলমাস।
র্যাব বলছে, আবুল হোসেন দলটির নেতা। এ দলের সদস্যরা দিনে বিভিন্ন কাজ করলেও রাতের আঁধারে ডাকাতি করে আসছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১২৫ ড্রাম ‘অক্সিকন কনস্ট্রাকশন এডমিক্সার’ (কংক্রিট তৈরির উপাদান) বোঝাইসহ ১টি পিকআপ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহƒত আরও একটি পিকআপ, ছুরি, চাপাতি, লোহার রড উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব বলছে, রবিবার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে মালামালসহ একটি পিকআপ ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে এই দলটিকে ধরা হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, ঢাকার দনিয়ার বাসিন্দা শাহেদুল হক তার পিকআপে, কেরানীগঞ্জের ‘অক্সিকন কনস্ট্রাকশন এডমিক্সার কোম্পানির’ হেড অফিস থেকে ১২৫ (২০০০ কেজি) ড্রাম অক্সিকন কনস্ট্রাকশন এডমিক্সার নিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। পথে রাত তিনটার দিকে লালমাইয়ের কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি ডাকাতের একটি দল শাহেদুলের গাড়ি আটকায়। পরে তাকে পিকআপ থেকে নামিয়ে মারধর করে। এরপর প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে শাহেদুলের হাত-পা, মুখ বেঁধে মালামালসহ পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকার মানুষজন শাহেদুলকে উদ্ধার করে থানায় দিয়ে আসে। এই ঘটনায় লালমাই থানায় শাহেদুল মামলা করলে র্যাব তদন্ত শুরু করে এবং দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ‘অপরাধের কথা স্বীকার’ করেছে জানিয়ে র্যাব বলেছে, আবুলের নেতৃত্বে ডাকাতি করাই তাদের মূল পেশা। দলটির সবাই, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। মহাসড়কে পণ্যবাহী যানে ডাকাতি করা ছাড়াও এই দলটি ঘরবাড়ি, বাজারের দোকানপাট ও প্রবাসীদের গাড়ি টার্গেট করেও ডাকাতি করে বলে র্যাবের ভাষ্য। র্যাব বলছে, ডাকাতির পর গাড়ি ও মালামাল চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেয় তারা।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকাত দলের সর্দার আবুল হোসেন ট্রাক চালক। তার অন্যতম সহযোগী এই দলের সদস্য মাসুদ রানা, ডাকাতি ছাড়াও মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি। এর আগে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার ডাকাতি মামলায় জেল খেটেছেন মাসুদ। জামিনে বেরিয়ে ফের জড়িয়েছেন ডাকাতিতে।
জসিম এবং জুয়েল মিনি ট্রাক চালক চালান। এই দুজন ডাকাতি করা যানবাহনগুলো চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। জসিম ও জুলেয়ের নামে ফতুল্লা এবং পদ্মা সেতু (দক্ষিণ) থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুইটি মামলা আছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতেন দলের আরেক সদস্য ইদ্রিস। এই তরুণও ডাকাতির দায়ে জেলে খেটেছেন, চুরির মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। ডাকাতির জন্য টার্গেট করা পণ্যবাহী বাহনের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল রহমতের ওপরে। রহমত চুরির মামলার আসামি। এছাড়া আলমাস মুদি ব্যবসায়ী, তার দায়িত্ব ছিল ডাকাতির মালামাল বিক্রি করা। মাছ ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের কর্মচারি নয়ন, বাসের হেলপার হাসান ও কফিল এই দলের সঙ্গে প্রায় সব ডাকাতিতেই ছিলেন। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় মাদকের মামলাও রয়েছে বলে র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ইউডি/এসআর

