দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাহাউদ্দিন নাছিম: দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ

দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাহাউদ্দিন নাছিম: দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৫:০৮

রাজনৈতিক বিভাজন তুঙ্গে নির্বাচনী আমেজের পাশাপাশি হরতাল, নাশকতা : দেশে-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবশেষে ০৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়াকার্স পার্টি, তৃণমূল বিএনপি সহ অনেক দল একক ও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। পাশপাশি ব্যাপক সংখ্যক প্রার্থী স্বতন্ত্র ভাবে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও ডান-বাম মিলিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক সংগঠন এ নির্বাচনের বিরোধিতা করে বর্জনের ডাক দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সহ যারা ভোটে আছেন তারা প্রার্থীদের পক্ষে মিছিল মিটিং করেছেন, পোস্টার লিফলেট ছেপেছেন, পুরোদমে গণসংযোগের কাজ করেছেন। অন্যদিকে বিএনপি সহ যারা ভোট-বর্জন করেছেন তারাও বসে নেই। মিছিল-মিটিংয়ের পাশাপাশি হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়েছেন। এমনকি ভোটগ্রহণের দিনও হরতাল আহবান করেছে বিএনপি। এ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও নাশকতা চালানো হচ্ছে। বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে নারী-শিশু সহ অনেকে নিহত হয়েছেন, আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করেছেন অনেকে। রাতের অন্ধকারে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (ভোটকেন্দ্রে) আগুন দেয়া হয়েছে।

এই নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশি শক্তিগুলো, বিশেষভাবে আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র), ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ইন্ডিয়া (ভারত), রাশিয়া সহ আরও ছোট-বড় অনেক দেশ ও জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। কূটনীতির স্বাভাবিক নিয়মনীতির ‘সীমা’ ছাড়িয়ে কতিপয় রাষ্ট্রদূত নির্বাচন নিয়ে মতামত, সুপারিশের মাত্রা ছাড়িয়ে কেউ কেউ হুমকী-ধামকী দিতেও কসুর করেছেন না, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পর্দার অন্তরালে অনেক কিছু ঘটেছে ­বলে শোনা যায়, যেসব প্রমাণ করা সম্ভব না হলেও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম দলের ডিসিশন-মেকারদের একজন। দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন বাহাউদ্দিন নাছিম কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।
ছাত্রজীবন থেকে তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তার হাতে গড়ে ওঠে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দলীয় সভানেত্রীর অনুমতি নিয়ে তিনি এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
এবারের নির্বাচন ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে দৈনিক উত্তরদক্ষিণ-এর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিমের সাক্ষাতকার নেয়া ভোটের আগের দিন ০৬ জানুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যায়। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতার উপর ভি­ত্তি করে শেখফারুক-এর প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আবারও জনগণের ম্যান্ডেট পাবো ইনশাল্লাহ : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে আলাপচারিতায় শুরুতে চলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশের বর্তমান রাজনীতির প্রসঙ্গ। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে নাছিম বলেন, এবারের নির্বাচন দেশের সার্বিক কল্যাণ, উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের অভাবনীয় উন্নয়নের ধারাকে বিনষ্ট করার জন্য ওই অপচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াক সেটা অনেকে চায় না। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক সেটাও অনেকের পচ্ছন্দ নয়। দেশবিরোধী ওই অপশাক্তিগুলো বিএনপি’র সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচন বানচাল করে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ধ্বংস করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা (আওয়ামী লীগ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করছি। আমরা দেশের মানুষের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে চাই, বিশেষ ভাবে তরুণ প্রজšে§র জন্য সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণ করতে চাই। এজন্য এবারের নির্বাচন দেশের ও জনগণের জন্য খুবই গুরুত্ববহন করে।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তার প্রত্যাশা কী, এ প্রশ্নের উত্তরে নাছিম বলেন, ভোটের ফলাফল জনগণের হাতে। তারা (জনগণ) যাকে ভোট দিবেন তিনি-ই জিতবেন, যে দলকে জনগণ চাইবেন সেই দল ক্ষমতায় যাবে। এটাই গণতন্ত্র। নাছিম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, জনগণ আমাদের সমর্থণ করবে বলে বিশ্বাস করি। আশা করি, তাদের (জনগণের) ম্যান্ডেট নিয়ে ইনশাল্লাহ আবারও ক্ষমতায় যাবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিকে সমর্থণ দিয়ে দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিবেন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এটা তিনি (নাছিম) দৃঢ়ভাবেবিশ্বাস করেন।

সহিংসতা ও নাশকতার মাধ্যমে জনমতকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না: এবারের নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীরা ভোট বর্জন ও হরতাল কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। এরমধ্যে চলছে নাশকতামূলক তৎপরতা। ট্রেনে, বাসে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে, মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাহাউদ্দিন নাছিমের বক্তব্য প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মানুষ হত্যা করা কেমন রাজনীতি! ট্রেনে বাসে আগুন দিয়ে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করার নামে যে রাজনীতি সেটাকে ধিক্কার দিই। তিনি বলেন, এটাকে রাজনীতি বলা যায় না, এটা অপরাজনীতি। বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন ও হতাহতের ঘটনা প্রসঙ্গে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আগুন সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যার জবাব ভোটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, সহিংসতা ও নাশকতার মাধ্যমে জনমতকে দাবিয়ে রাখা যায় না।

আমেরিকার ভিসা-শ্রমনীতি সরকার বা আওয়ামী লীগ কি শঙ্কিত? : বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র) ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। তাদের (আমেরিকার) ভাষায় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের উপর আমেরিকা ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করবে। এছাড়াও আমেরিকা নতুন একটি শ্রমনীতি ঘোষণা করেছে। যার মূল সুর ভিসা নীতির মতই। এ নিয়ে দেশের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বেশ চিন্তিত। এ বিষয়ে বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রতিক্রয়া জানতে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ভিসানীতি বা শ্রমনীতি হচ্ছে আমেরিকার নিজস্ব বিষয়। এই নিয়ে তাদেরকে প্রশ্ন করুন, উত্তরটা তারা (আমেরিকা) ভালো বলতে পারবে। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমাদের (আওয়ামী লীগের) অবস্থান খুবই পরিস্কার। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কারো চোখ রাঙানীকে আওয়ামী লীগ বা এদেশের জনগণ ভয় পাই না, কেয়ার করি না। তিনি বলেন, দেশ আমাদের, সিদ্ধান্তও আমাদের। এখানে কারো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

দেশের জনগণকে নয়, বিদেশি প্রভূদের উপর ভরসা করে বিএনপি এখন পস্তাচ্ছে : বিএনপি’র নির্বাচন বর্জন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপির জš§ হয়েছে সামরিক জান্তার পকেট থেকে। এ দলের উদ্দেশ্য হচ্ছে গণতন্ত্র ধ্বংস করা আর লুটপাট করা। সহিংসতা আর নাশকতামূলক কর্মকান্ড করে বিএনপি এখন একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে। দেশের জনগণকে তাদের (বিএনপি) বিশ্বাস-আস্থা নেই, বিদেশি প্রভূদের উপর ভরসা করে বিএনপি এখন পস্তাচ্ছে।

নাছিম আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নাই, তাদের উসকানিতে পা দিয়ে তারা ফাঁদে আটকা পড়ে গেছে। নাছিম অভিযোগ করেন, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা বিনষ্ট করতে চায় সেইসব দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তারা (বিএনপি) নাশকতা ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপির অপকর্মের বিরুদ্ধে রায় দেবে বলে নাছিম মনে করেন।

বিএনপি’র নির্বাচন বর্জন আওয়ামী লীগ কী খুশি?: বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে সরকার ও আওয়ামী লীগের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, নির্বাচনে কোন ব্যক্তি বা দল অংশগ্রহণ করবে নাকি করবে না, সেটা ওই ব্যক্তি বা দলের নিজস্ব বিষয়। আর নির্বাচন পরিচিলনার পুরো দায়িত্ব ও ক্ষমতা হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের। এক্ষেত্রে সরকার বা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়াতে আপনারা খুশি কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী বলেন, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ সবসময় প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। বিএনপি নির্বাচনে থাকলে আরও প্রতিযোগিতা হতো, আমরাও (আওয়ামী লীগ) অখুশী নয়, বরং খুশি-ই হতাম।

নির্বাচন কমিশন কী স্বাধীন ভাবে কাজ করছে?: নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সংবিধান সম্মত প্রতিষ্ঠান। এটা কোন ব্যক্তি, দল বা সরকারের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। এটা (নির্বাচন কমিশন) নিদির্ষ্ট আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অতীতে দেখা গেছে, জিয়া-এরশাদ-খালেদা সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যতিক্রম, আমরা কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করি না। আমরা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।

বিএনপিকে ভোটে আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কী যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে?: বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগকে যথেষ্ট মনে করেন কিনা, এ বিষয়ে জানতে তার অভিমত চাইলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রকাশ্যে হয়, এটা গোপনীয় কোন বিষয় নয়। তাদের সকল কর্মকা­ টিভি-পত্রপত্রিকা সহ গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। আমার জানা মতে, শুধু বিএনপি নয়, এবারের নির্বাচনে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক ও স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচনী আগ্রহী ব্যক্তিদের ভোটে আনার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছে, নানামুখি উদ্যোগ গ্রহ্ণ করেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

নাছিম আরও বলেন, তারা (বিএনপি) ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সহিংসতা, নাশকতা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে উসকে দিয়ে তারা (বিএনপি) দেশে নৈরাজ্য ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। জনগণ তাদের (বিএনপি’র) অপকর্মের বিষয়ে সচেতন, এ জন্য জনগণের কাছে তাদের (বিএনপির) গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন নেই, এজন্য তারা (বিএনপি) নির্বাচনে যেতে চায় না, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যেতে চায়।

বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি’র ভবিষ্যত কী?: নির্বাচনের পরে দেশের সরকারী ও বিরোধী দলের ভূমিকা ও রাজনীতি নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ যেমন আছে, তেমনি জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছে। নির্বাচনের জয়-পরাজয় জনগণের হাতে, ফলাফল ঘোষণার পরে বলা যাবে কে সরকারী দল আর কে বিরোধী দল। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কারণে সংসদীয় রাজনীতির নিয়ম অনুযায়ী বৈধ বিরোধী দল হওয়ার কোন সুযোগ বিএনপি’র নেই। পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে অপেক্ষা করতে হবে। পাঁচ বছর পরে যখন নির্বাচন হবে তখন যদি তারা (বিএনপি) ভোটে অংশ নেয় ও জনগণ তাদেরকে ভোট দেয় তাহলে সরকারী বা বিরোধী দল সুযোগ তাদের (বিএনপি’র) আসবে।

তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে নাছিম বলেন, লন্ডনে বসে একজন জাতীয় কুলাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছে, নাশকতা ও সহিংসতার নির্দেশ ও মদদ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামাত দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানানোর শেষ প্রান্তে দাঁড় করিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল, হাওয়া-ভবন প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। ওই দলটি (বিএনপি) হচ্ছে এদেশে গণতন্ত্র হত্যাকারী দল, আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হচ্ছেন সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অন্যতম প্রধান কুশীলব। এ অপরাধে তার (জিয়া) মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত বলে নাছিম মনে করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন ‘অপকর্ম’ তুলে ধরে নাছিম আরও বলেন, বিএনপি হচ্ছে এমন এক সন্ত্রাসী দল যাদের হাইকমান্ড লন্ডনে বসে নাশকতা ও সহিংসতার নির্দেশ দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, লন্ডনে পলাতক তারেককে অচিরেই দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় ও দন্ড কার্যকর করা হবে।

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading