গাজায় মানবিক সঙ্কট চরমে: খাবারের জন্য হাহাকার
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৫:১৫
গাজায় মানবিক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকার সর্বত্রই এখন খাবারের জন্য হাহাকার। সেখানে খাবার-পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সংঘাতের কারণে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তাও পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। গাজায় মানবিক সঙ্কট পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। সেখানে যুদ্ধবিরতি না হলে কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। কিন্তু যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে নতুন করে কোনো চুক্তিও হচ্ছে না। এমনকি ইসরায়েল বলছে তারা এখনই লড়াই থামাবে না।
সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধ আরও কয়েক মাস চলবে। হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গাজাবাসীর জন্য যে সহায়তা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথা সেগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর একগুয়েমির কারণে মিশর-গাজা সীমান্তের একটি গুদামে রাখা হয়েছে। ওই গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, এই গুদামের পরিস্থিতি স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ দিচ্ছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এখন পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২২ হাজার ৮৩৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। আহত হয়েছে আরও ৫৮ হাজার ১৬৬ জন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এখন বসবাসের অযোগ্য। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অক্টোবরে হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলার পর গাজা পুরোপুরি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।গ্রিফিথস এক বিবৃতিতে বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে গত তিন মাসে গাজা একটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চারদিকে হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বলেন, গাজার সর্বত্রই এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেখানকার সাধারণ মানুষ টিকে থাকার জন্য প্রতিদিন নানা রকমের হুমকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে বিশ্ব শুধু এই দৃশ্য বসে বসে দেখছে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলিদের আস্থা হারাচ্ছেন নেতানিয়াহু: চলমান সংঘাতের মধ্যেই নিজ দেশে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের এক জরিপে জানানো হয়েছে, ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন যে, গাজার সংঘাতে নেতানিয়াহু তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেননি। তিন মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে সংঘাত চলছে। অপর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করে যে, ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টির নেতা এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তোজ সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি যোগ্য। তবে ২৫ শতাংশ মানুষ এখনও নেতানিয়াহুকেই এখনও যোগ্য নেতা হিসেবেই পছন্দ করেন। ওই জরিপ বলছে, এখন যদি ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তবে গান্তোজের দল ৩৩ আসনে জয়ী হবে এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি জয়ী হবে মাত্র ২০টি আসনে। জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারার কারণে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই নেতানিয়াহুর প্রতি ক্ষোভ বেড়েছে। এর ফলে নিজ দেশেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন তিনি। স¤প্রতি কয়েক দফায় নেতানিয়াহুর পদত্যাগ চেয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভও হয়েছে।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন
প্যালেস্টাইনিদের গাজা ছাড়তে চাপ দেওয়া উচিত নয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, প্যালেস্টাইনিদের গাজা ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয় এবং শর্ত সাপেক্ষে তাদের নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরে যেতে দিতে হবে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি মন্ত্রী প্যালেস্টাইনিদের অন্যত্র পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন বিøঙ্কেন। খবর বিবিসির। মধ্যপ্রাচ্যে সফরের অংশ হিসেবে কাতারে অবস্থান করছেন ব্লিঙ্কেন। গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার পরেই গাজায় প্যালেস্টাইনিদের অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করলেন ব্লিঙ্কেন । এক বিবৃতিতে তিনি ব্লিঙ্কেন বলেন, প্যালেস্টাইনি বেসামরিক নাগরিকদের অবশ্যই শর্তানুযায়ী দ্রুত নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরে যেতে দিতে হবে। তাদেরকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে প্যালেস্টাইনিদেও গাজা ছেড়ে যেতে এবং ইসরায়েলিদের জন্য পথ তৈরি করে দেওয়ার আহ্বান জানান ইসরায়েলের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তার এমন আহ্বানে নতুন করে উত্তেজনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির চলতি সপ্তাহে এই সঙ্কটের সমাধান হিসাবে গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহি করার আহ্বান জানান। যত দিন যাচ্ছে গাজার পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকেই যাচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোও এখন নিরাপদ নয়।

দৈনিক উত্তরদিক্ষণ, ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, শেষ পৃষ্ঠা
গাজায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি শিশু নিহত: গাজায় বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত একদিনে সেখানে অন্তত ৭৩ প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৯ জন। সোমবার (০৮ জানুয়ারি) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গাজায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২২ হাজার ৮৩৫ প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাড়ে নয় হাজারের বেশি শিশু। অন্যদিকে চলমান যুদ্ধে এক হাজার ১৩৯ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
ইউডি/এজেএস

