খেজুরের রস সংগ্রহের ধুম, ৭ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

খেজুরের রস সংগ্রহের ধুম, ৭ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৬:১০

বঙ্গপোসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল ফেনীর সোনাগাজীতে এখন চলছে খেজুরের রস সংগ্রহের ধুম। এ উপজেলায় দৈনিক অন্তত ২০ হাজার লিটার খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা। রসের চাহিদা থাকায় কাক ডাকা ভোরেই গাছের নিচে এসে কলস ও বোতল ভরে নিয়ে যাচ্ছে গ্রাহক ও রসনা বিলাসীরা।

এক সময়ের গুরুত্বহীন খেজুরের রস এখন একটি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে। ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা খেজুরের রসের এ বাণিজ্য চলতি মৌসুমে সাত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা।

এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে সুদিনের গল্প শোনাচ্ছেন গাছিরা। ভালো লাভে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন অনলাইন উদ্যোক্তারাও। রসের চাহিদা ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাজার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বঙ্গপোসাগরের উপকূলীয় চরাঞ্চলে আবহাওয়া প্রতীকুল হওয়ায় তেমন কোনো গাছ-গাছালি চোখে পড়ে না। যতটুকু নজর যাবে শুধুই দেখা মেলবে সারি সারি খেজুরের গাছ। উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়ন, চরছান্দিয়া ইউনিয়ন ও আমিরাবাদে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে সবচেয়ে বেশি।

এক সময়ে চরের বুকে শুধুই ছায়ার জন্য খেজুরের গাছগুলো ব্যবহৃত হলেও এখন ওই গাছ থেকেই ঝরছে রস। রসনা বিলাসী ভোক্তাদের মাঝে চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় ওই রসই হয়ে উঠেছে এ এলাকার সাধারণ মানুষের আয়ের মাধ্যম।

স্থানীয়রা জানায় , সোনাগাজী উপজেলা শহর, আদর্শ গ্রাম, মদীনা বাজার, সোনাপুর ও বাদামতলীতে প্রতিদিন ভোরে রসের বাজার মেলে। এসব বাজারে প্রায় ২০ হাজার গাছ থেকে সংগৃহীত অন্তত ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার লিটার পর্যন্ত রস বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গড়ে ৭০ টাকা হারে দৈনিক ১৪ লাখ টাকার খেজুরের রস বিক্রি হয় এ উপজেলায়। হিসেব মতে, শীতের প্রকোপের ধারাবাহিকতা ঠিক থাকলে চলতি মৌসূমে অন্তত সাত থেকে আট কোটি টাকার রস সংগ্রহ হবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সোনাগাজীর বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ৩০ হাজার খেজুরের গাছ রয়েছে। এক সময়ে খেজুরের রসের তেমন চাহিদা না থাকায় এসব গাছ লাগানো হতো না। এলাকায় ছিল না পেশাদার গাছি। কিন্তু গত কয়েক বছরে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে খেজুরের রস বিক্রি করে ভালোই লাভ করছেন উদ্যোক্তারা। যার ফলে চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব গাছ থেকে এখন প্রতিদিনই রস সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করার মাধ্যমে ভালো টাকা আয় করছেন গাছি ও গাছের মালিকরা।

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ জানান, গত কয়েক দিন শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় উপজেলায় দৈনিক ১৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার লিটার পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ হয়েছে। প্রতি কেজি ৭০ টাকা হারে হিসেব করলে ২০ হাজার লিটারের দাম ১৪ লাখ টাকা হয়।

চাহিদা থাকায় চলতি মৌসূমে অনেকেই গাছ কেটেছেন। রসের কলসের মুখে যাতে কোনো প্রকারের ক্ষতিকর পোকামাকড়, বাদুড় ও সাপ মুখ না দেয় সেজন্য বিশেষ কায়দায় নেটজাল লাগানোর জন্য বলে আসছি। রসের চাহিদা ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাজার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

ইডিডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading