‘ফ্লোর প্রাইস’ ওঠার পর বড় দরপতন

‘ফ্লোর প্রাইস’ ওঠার পর বড় দরপতন
প্রতীকী ছবি

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৩:০০

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর পুঁজিবাজারে শেয়ারের বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন দর বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ তুলে নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে ব্যাপক দরপতন ঘটে। ৩৫টি কোম্পানির বাদ দিয়ে বাকি কোম্পানির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ তুলে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অন্তত ১১৬টি কোম্পানির শেয়ারদর পতনের সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে লেনদেন শেষ করে। গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই বিনিয়োগকারীরা বড় দরপতনের ভয়ে ছিল।

গতকাল রবিবার লেনদেনের শুরুতেই সেই আশঙ্কা সত্য প্রমাণ হয়। প্রথম ৬ মিনিটে সূচক পড়ে যায় ২১৬ পয়েন্ট। এ সময় ফ্লোর তুলে দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে অল্প কিছু বাদে প্রায় সবগুলোই দরপতনের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হচ্ছিল। কেবল দুটি কোম্পানি দর বেড়ে হাতবদল হচ্ছিল। ফ্লোর প্রাইসের বেশি দর থাকা কোম্পানিগুলোও এ সময় দর হারিয়ে লেনদেন হতে থাকে। তবে সময় যত গড়াতে থাকে, পতনের গতি কমতে থাকে। লেনদেনের শেষ সোয়া এক ঘণ্টায় হারিয়ে ফেলা সূচকের অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়। সকালের এই পতনের কারণেই দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকের ৯৬ পয়েন্ট উধাও হয়ে যাওয়া কিছুটা হলেও স্বস্তি আনে। ভোট শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় ৩৫টি কোম্পানি হাতে রেখে বাকিগুলোর ফ্লোর তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

প্রথম দিন শেয়ারের ক্রয়চাপের চেয়ে বিক্রয়চাপ বেশি থাকার পর লেনদেনও কমেছে ৫০ কোটি টাকার মতো। ডিএসইতে ৫৮৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ৬৩৭ কোটি টাকার বেশি। লেনদেনে আসা ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর পতন হয় ২৯৬টির, দর বেড়ে লেনদেন শেষ করেছে ৫৪টির। ৩৬টির দর ছিল অপরিবর্তিত। সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ দর হারিয়েছে আটটি কোম্পানি। তবে লেনদেন হয়নি বললেই চলে। ১০৮টি কোম্পানির দর কমেছে ৯ শতাংশ থেকে ৯.৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। আরো ২২টি কোম্পানির দর কমেছে ৮ থেকে ৮.৯৯ শতাংশ। ৬টি কোম্পানির দর ৬ শতাংশের বেশি, ৮টির দর কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। পুঁজিবাজারে এখন তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ৩৯২টি। এর মধ্যে ৩৫৭টির শেয়ারদরের সর্বনিম্ন সীমা তুলে নিয়েছে । তবে তিন বিবেচনায় ৩৫ কোম্পানিতে ফ্লোর বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন দর বেঁধে রাখায় অনেকে এতদিন শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি। ফলে ফ্লোর প্রাইস ওঠার সুযোগে অনেকেই শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন। সে কারণে ফ্লোর প্রাইস ওঠার প্রথম দিন যে দরপতন হবে, তা অনেকটা অনুমিতই ছিল। এসব কোম্পানির শেয়ারদর ওঠানামার সার্কিট ব্রেকার আগের মতই ১০ শতাংশই থাকছে। অর্থাৎ, কোনো শেয়ারের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading