মার্জিন লোন নেয়া বিনিয়োগকারীরা মহা আতঙ্কে

মার্জিন লোন নেয়া বিনিয়োগকারীরা মহা আতঙ্কে

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৩:০৫

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার হওয়ার ফলে যে সকল বিনিয়োগকারী মার্জিন লোন নিয়েছেন তারা মহা আতঙ্কে রয়েছেন। নতুন এই সিদ্ধান্তে তাদের ইকুইটি কমে যাচ্ছে, লোন রেশিও বাড়ছে। এক সময় মূলধন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসবে। মূলধন হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মার্জিন লোনধারী বিনিয়োগকারীগণ। ট্রিগার সেল আতঙ্কে ভুগছেন তারা। বিএসইসি এখনও এই বিষয়ে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ না করায় তাদের শঙ্কা আরও বাড়ছে।

করোনাভাইরাস মহামারীর সময় শেয়ারদর ক্রমশ কমতে থাকায় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মত ফ্লোরপ্রাইস বেঁধে দেওয়া হয়। ওই বছরের জুন থেকে প্রথমে বীমা খাত ও পরে আরো কিছু খাতের শেয়ারদর বাড়তে থাকলে ধাপে ধাপে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছিল কমিশন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর আতঙ্কে আবার পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হলে দ্বিতীয়বারের মত ফ্লোর প্রাইস দেওয়া হয় ২৮ জুলাই। বিনিয়োগকারীদের একাংশের দাবির মুখে একই বছরের ডিসেম্বরে ১৬৯ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে শেয়ারের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর এমন কোম্পানিও দেখা যায়, তার দর টানা ৪০ কর্মদিবস এক শতাংশের কাছাকাছি কমেছে। পরে ২০২৩ সালের মার্চে আবার এসব কোম্পানিতে সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সূচক মোটামুটি একটি বৃত্তে ঘুরপাক খেলেও শেয়ারের লেনদেন একেবারেই কমে আসে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা অর্ডার বসিয়ে শেয়ার বিক্রি করতে পারছিলেন না। লেনদেনও কমে আসে অনেকটাই। ওই অবস্থায় ফ্লোর তুলে স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনসহ বড় বিনিয়োগকারীরা ফ্লোর তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানায় বিএসইসিকে।

তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কোনো ‘ঝুঁকি’ নিতে চায়নি বিএসইসি।পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের মার্জিন ঋণ নেওয়া আছে তাদেও চিন্তা বাড়ছে। তাদেরকে অল্টারনেটিভ ফাইন্যান্সের ব্যাপারে তৎপর হতে হবে। যদি কোনো কারণে শেয়ার ট্রিগার সেলের আওতায় চলে আসে, তার ব্যাকআপ প্ল্যান রাখতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যাদের মার্জিন ঋণ আছে তারা তাদেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কিছু ফান্ড অ্যারেঞ্জমেন্টের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেননাদেড় বছর ফ্লোর প্রাইসের আওতায় পড়ে থাকা যেসব কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতা আসেনি বা ১০ শতাংশ ডাউন সার্কিটে উল্লেখযোগ্য শেয়ার লেনদেন হয়নি, তাহলে হঠাৎ করেই ওই কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতা চলে আসবে বিষয়টা কিন্তু সেরকম নয়। তো আপনাকে আগে একটু সময় দিতে হবে। কোন লেভেলে ক্রেতা আসে, আসার পর কেমন ভলিউম হয়, এতে বাজার কোন দিকে টার্ন করে-এমন অনেকগুলো বিষয়কে বিবেচনা রেখেই কিন্তু বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading