বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে: রেজাউল করিম
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৩:২৫
ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার কারণে বাজারে যাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্য তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় চলে আসায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে এখন আর আস্থা-অনাস্থার কোনো ইস্যু নেই। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক সময়ের জন্য ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়েছিল। এরপর নানা কারণে ফ্লোর প্রাইসের সময় দীর্ঘায়িত হয়। এখন বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা আবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে আমরা আশা করছি, বাজারে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়বে। বাজার নিজস্ব গতি ফিরে পাবে। এভাবে আমরা একটা গতিশীল বাজার দেখতে পাব।
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর বাজারে এর প্রভাব পড়া শুরু করেছে, এর উত্তরে তিনি জানান, যতটা চাপের শঙ্কা করা হয়েছিলো তা প্রথম দিন তেমনভাবে পড়েনি। সুতরাং এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, বিএসইসি ফোর্সড সেল ও প্যানিক সেল ইস্যুতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেসব কোম্পানির লেনদেনযোগ্য তথা ফ্রি ফ্লোট শেয়ার এবং বাজার মূলধন বেশি, সেগুলোর ওপরই মূলত ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা হয়েছে। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ায় বাজারে সূচকের যাতে বড় ধরনের পতন না হয়, সে জন্য এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে জোর: ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর বাজারে যাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানান রেজাউল করিম। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে সেল প্রেসার যেন না দেওয়া হয় তা নিয়েও আশ^স্ত করা হয়েছে বিএসইসিকে বলে জানান তিনি। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল থেকে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাজারে বিনিয়োগের জন্য কম সুদে ১০০ কোটি টাকার তহবিল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এটা আরও বাড়বে বলে জানান মুখপাত্র। রেজাউল করিম বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে পুঁজিবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও তারল্য বাড়াতে নানা উদ্যোগ তারা গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে ব্যাংক খাত থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এ খাতের সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিএসইসি, সেখানে সক্ষমতা অনুযায়ী প্রত্যেকে বিনিয়োগ বাড়াবে বলেও আশ^স্ত করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী পরিচালক। এছাড়াও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী বিনিযোগ বাড়াবে বলে বিএসইসি’র সঙ্গে সম্মতি প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি। বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও ৩৫টি কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের আদেশ বহাল থাকবে। যে ৩৫ কোম্পানির শেয়ারদরের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার হলো না, সেগুলো কীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, কোম্পানিগুলোর ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের ভিত্তিতে বাজার মূল্যসূচকে অবদান, মার্জিনযোগ্য শেয়ারগুলোর মধ্যে বিক্রির চাপ বেশি, মূল্য-আয় অনুপাত বেশি-এমন বেশ কিছু দিক বিবেচনায় নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছে।
ইউডি/এজেএস

