ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: বাজার সংশ্লিষ্টদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: বাজার সংশ্লিষ্টদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৩:৩৫

সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কেউ কেউ মনে করছেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ায় শুরুতে কিছু শেয়ারে দরপতন হবে। হয়তো কিছু শেয়ারে ক্রেতাও মিলবে না। আবার কারও কারও ধারণা, যত শঙ্কা করা হচ্ছে, তত খারাপ অবস্থা হবে না। বরং কোনো শেয়ারের দর বেশি কমলে ওই দরই নতুন বিনিয়োগকারী তৈরি করবে। নতুন পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে। ফলে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে। যদিও মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সম্প্রতি সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার যে নীতি বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে, তার কারণে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। তারা বলেন, ঋণের সুদের হার বাড়ছে, যা বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ধাপে ধাপে না করে একবারে সিংহভাগ শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার ‘ভালো সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করেন প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বিএসইসি ভালো সিদ্ধান্তই নিয়েছে। এর থেকেও ভালো সিদ্ধান্ত হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড সার্কিট ব্রেকার’ নীতি অনুসরণ করা।

তিনি আরও বলেন, অনেক শেয়ারই ফ্লোর প্রাইসের ওপরে লেনদেন হয়েছে। যেসব শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে ছিল, সেগুলোর মধ্যে সাময়িকভাবে সামান্য কিছু শেয়ারের দর কমতে পারে। কারণ সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। এর মধ্যে অনেক কোম্পানির মুনাফা কমলেও ফ্লোর প্রাইসের কারণে সেগুলোর শেয়ারদর সমন্বয় হয়নি। এখন হয়তো দর সমন্বয় হবে। কোনো শেয়ারের দর অল্প সময়ে বেশি কমলে, সেগুলোর বাজারদরই নতুন চাহিদা তৈরি করবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে বাজার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে বলে আশা করা যায়।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ফ্লোর প্রাইস আরোপের সিদ্ধান্ত অর্থনীতি ও বাজার ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। অন্তত শেয়ারবাজারে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা একেবারেই ঠিক হয়নি। তথাকথিত ফ্লোর প্রাইস কাউকে রক্ষা করবে না, বরং মার্জিন ঋণ নিয়ে যাদের বিনিয়োগ ছিল তাদের অনেককে ফকির বানাবে। আবু আহমেদ বলেন, এখন চাহিদা ও জোগানই শেয়ারের প্রকৃত দর নির্ধারণ করে দেবে। শুরুর কয়েকদিন হয়তো দরপতন হবে। তবে দরপতনেই নতুন চাহিদা তৈরি করবে। ভালো শেয়ারে যাদের বিনিয়োগ রয়েছে, তারা ধৈর্য ধরে থাকলে পুনরায় দর ফিরে পাবেন। তবে যেসব মন্দ শেয়ারের দর অযৌক্তিকভাবে বহুগুণ হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

সিইও ফোরামের তিন সিদ্ধান্ত: শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউসের কতিপয় নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরাম নিজেদের মধ্যে আলোচনায় করেছে। অনলাইনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এই পরিস্থিতিতে বাজারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার বিষয়ে একমত হন বেশির ভাগ সিইও। বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমত, যেসব শেয়ারের ক্রেতা থাকবে না, সেই সব শেয়ারের বড় বিক্রয় আদেশ দেওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত, ব্রোকারেজ হাউসের ডিলার অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটি টাকা বা সাধ্যমতো শেয়ার কেনা হবে। তৃতীয়ত, বিনিয়োগকারীরা যেন আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক সেল’ না করেন, সে বিষয়ে তাদের বোঝানো হবে। সিইও ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছায়েদুর রহমান জানান, বাজার নিয়ে উদ্বেগের তেমন কিছু নেই। বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading