ডিসি পার্কে সৌরভ ছড়াচ্ছে ‘ফুলের মেলা’
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৮:১৫
সামনে বিশাল সাগর। সেই সাগরের বাতাসের ঢেউ আছড়ে পড়ছে পার্কে। বাতাসে দোল খাচ্ছে রং-বেরঙের ফুল। সেই ফুলে ফুলে নানান শিল্পকর্ম। যেমন-জীবন্ত ফুল গাছ দিয়েই লেখা ডিসি পার্ক। বিখ্যাত ব্যান্ড শিল্পী আইযুব বাচ্চুর রুপালি গিটার । সেটিও ফুলের অবয়বে। ১৯৪ একরের এমন ফুলের বাগানটি দুবাইয়ের মিরাকল গার্ডেন বা ইউরোপের কোকেনহাফ কিংবা কিচেন গার্ডেন নয়। এটি চট্টগ্রামের সাগরপাড়ের জেলা প্রশাসনের ডিসি পার্ক গার্ডেন।
এই পার্ক ঘিরে এখন শুরু হয়েছে ফুল উৎসব। ফুলের মতো আপনি ফুটাও গান প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই আয়োজন চলবে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে। আজ বৃহস্পতিবার এটির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
মন ভরেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের। এই পার্কে ঢুকে অনেকটা আশ্চর্য-ই হয়ে যান। হয়তো তিনি ভেবেছেন, এটি কীভাবে সম্ভব? যে জায়গায় বছরের পর বছর মাদকের আখড়া ছিল। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। সেই জায়গাটি উদ্ধার। সেখানে আবার ১২৭ প্রজাতির ফুলের সমারোহ ঘটিয়ে জীবন্ত ফুলের বাগান করা, তাও সম্ভব!
এই প্রশংসা ঝরল সচিবের মুখে। তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মতো অন্যান্য জেলা প্রশাসককে এই ধরনের আয়োজন করার অনুরোধ জানান। করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রশংসা। এ ছাড়াও বিশ্বের অন্য দেশের মতো আমাদেরও ফ্লাওয়ার ফেস্টিভ্যালের আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ দেন।
সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়েছে। পর্যটন বিস্তারে চিন্তা চেতনাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার অবারিত সুযোগ রয়েছে। সামনের প্রজন্মের জন্য আমাদেরই সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতো প্রশংসা করলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীও। তিনি বলেন, দখল, মাদক অভয়ারণ্যকে ফুলের বাগিচা বানানো হয়েছে। পর্যটনকে কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিসি পার্ক, নৌকা জাদুঘর, পর্যটন বাস ও ফুল ডে ট্যুর, স্কুল বাস, বার্ড পার্ক এই ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়াও প্রতি উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে এই সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের এই ডিসি পার্কে এটি দ্বিতীয় ফুল উৎসব। এখানে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ম্যাগনলিয়া, শিউলি, হাসনাহেনা, অপরাজিতা, চেরি, জাকারান্ডা, উইলো, উইস্টেরিয়াসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ১২৭ প্রজাতির কয়েক লাখ ফুলের সমারোহ রয়েছে। ইতিমধ্যে সেজেছে ডিসি পার্ক।
দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে নেদারল্যান্ডস থেকে আনা জেলা প্রশাসনের নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ফোটানো সাড়ে ৫ হাজার টিউলিপ। এসব ফুলের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে ফুলের পাশেই লেখা থাকবে নাম ও বৃত্তান্ত।
গত বছর ৪ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের সলিমপুরে মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। সেখানে ১৯৪ দশমিক ১৩ একর খাস জায়গা উদ্ধার করা হয়। এসব জায়গায় মাত্র এক মাসের মধ্যে নানারকম ফুল গাছ লাগানো হয়। ১০ দিনব্যাপী করা হয় প্রথম ফুল উৎসব।
ইডিডি/এআর

