বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদের, উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ: আবার ভেঙে গেল জাতীয় পার্টি, দেবর-ভাবি মুখোমুখি

বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদের, উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ: আবার ভেঙে গেল জাতীয় পার্টি, দেবর-ভাবি মুখোমুখি

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৩:৪৫

জাতীয় পার্টির দলীয় রাজনীতি নিয়ে রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দিনভর নাটকীয়তার মধ্যে জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এসব কিছু নিয়ে বিনয় দাস’র প্রতিবেদন

জাপায় দিনভর নাটক, পাল্টাপাল্টি : দ্বাদশ সংসদে বিরোধী দল কারা হবে সেই আলোচনার মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতা জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সংসদ সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সংবাদ জানানো হয়। স্পিকারের এ স্বীকৃতিতে দলগতভাবে ১১ আসন নিয়ে দ্বাদশ সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বিরোধী দল হচ্ছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির দলীয় রাজনীতি নিয়ে রবিবার দিনভর নাটকীয়তার মধ্যে স্পিকারের এ সিদ্ধান্ত এল। এদিন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণার পাশাপাশি জি এম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুকে অব্যাহিত দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে পৃথক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে চুন্নু তা আমলে না নেওয়ার কথা বলেন। তাতে দেবর-ভাবির কোন্দলে জাতীয় পার্টির ভাঙণ স্পষ্ট হলো।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

নির্বাচনের পর থেকেই জাতীয় পার্টিতে নানা রকম সমস্যা এবং সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিতে গণপদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্ব সকলে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছিল। বিশেষ করে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির যে কৌশল তা দলের সিনিয়র নেতারা পছন্দ করেননি। কেউ কেউ মনে করেন নিজের স্ত্রীকে ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্যই তিনি সরকারের সাথে ‘অসম্মান জনক’ সমঝোতা করেছেন। বিভিন্ন নেতারা বলছেন, রওশন এরশাদের এরকম বয়স নেই যে তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হয়ে দল চালাবেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে অপমান করা হয়েছে, তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ সমস্ত ঘটনাগুলোর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের ওপর। আর এ কারণে রওশন এরশাদকে সামনে আনা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় জাতীয় পার্টি চ‚ড়ান্ত ভাঙনের পথে যায় নাকি সংরক্ষিত আসন নিয়ে শেষ পর্যন্ত রওশন এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়।

এদিকে, বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতার বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংসদে সরকারি দলের বিরোধীতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসঙ্ঘের নেতা রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (জিএম কাদের) সংসদে কাযপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলীয় নেতা ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকে এ সংক্রান্ত দলীয় সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে দলটি। এরপর তা স্পিকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসন পেয়েছে। দলগতভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১টি আসন পায় জাতীয় পার্টি। এছাড়া জাসদ ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১ টি, কল্যাণ পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্ররা ৬২টি আসন পেয়েছে। নতুন এমপিরা ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বসবেন তারা।

বেগম রওশন এরশাদ

পার্টির ভাবমূর্তি ফেরাতে দায়িত্ব নিলাম, বললেন রওশন: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মজিবুল হক চন্নুকে অব্যাহতি দিয়ে নিজেই দলের হাল ধরার ঘোষণা দিয়েছেন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) গুলশানে নিজের বাসায় দলের ‘ক্ষুব্ধ ও বঞ্চিত’ নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে এই ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের স্ত্রী। উপস্থিত নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, পার্টির ভালোর জন্য, পার্টির ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমি নিজে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলাম এবং পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত মামুনুর রশীদকে মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করলাম। তিনি সার্বিকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পার্টির অন্যান্য পদে যারা আছেন, তাদের বহাল রেখে পার্টির যেসব নেতাকে জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিংবা বহিষ্কার করা হয়েছে এবং যাদের পার্টির কমিটির বাহিরে রাখা হয়েছিল, তাদের আগের পদে ‘পুনর্বহালের’ ঘোষণা দিয়ে রওশন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পার্টির জাতীয় সম্মেলন আহŸান করবেন তিনি। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এ সময় তুমুল করতালি দিয়ে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দুদিন আগে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে এই নাটকীয়তার জš§ দিলেন রওশন। দেবর জিএম কাদেরের সঙ্গে মতবিরোধে গত সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন নিজে এবার নির্বাচনে অংশ নেননি। তার অনুসারীদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি জাতীয় পার্টি। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুল ইসলাম সেন্টু, যাকে স¤প্রতি অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদও উপস্থিত ছিলেন মত বিনিময়ে। এছাড়া পার্টির অ্যাবহতিপ্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান জাঙ্গীর আলম পাঠান, ইয়াহিয়া চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সারোয়ার মিলন, অধ্যাপক দেলায়ার হোসেন খান, রফিুকুল হক হাফিজকে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। রওশনের কাছ থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়া কাজী মামুনুর রশিদ মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকে বলেন, পরবর্তী কাউন্সিল হওয়া পর্যন্ত আমি মহাসচিব হিসেবে থাকব। আমি চেষ্টা করব সংগঠনের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। ফেব্রæয়ারিতে অথবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে কাউন্সিল হবে।

এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন সব সময়ই লেগে ছিল। এর আগেও নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন রওশন এরশাদ। তবে গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। রওশন এরশাদ এবং তার ছেলে রাহগির আলমাহি এরশাদ নির্বাচনে অংশই নেননি। আর ওই নির্বাচনের পর দলের একাংশ জি এম কাদেরের ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

রওশন কী নারী আসনে সংসদে যেতে পারবেন?: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্নের পর এবার সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোট করার লক্ষ্যে চলতি মাসের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী একটি রাজনৈতিক দলের ৬ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হবেন। সে হিসেবে জাতীয় পার্টি ২টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পাবেন।

জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, রওশন এরশাদ রবিবার জিএম কাদের ও চুন্নুকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছেন তা আসলে জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্য হিসাবে শেরীফা কাদেরকে রুখে তিনি যেন নারী সংসদ সদস্য হতে পারেন সেজন্য। এ ব্যাপারে নয় জন সংসদ সদস্যের সমর্থন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত জি এম কাজের যদি তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরকে বাদ দিয়ে রওশন এরশাদ এবং সালমা ইসলামকে সংরক্ষিত কোটায় মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে জাতীয় পার্টির এই ভাঙন রোধ হবে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র মনে করছে। এর আগে, জাতীয় পার্টি দলের নেতাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। তিনি বলেছিলেন, আমি দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সহযোগিতা না করায় এবং দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মনোনয়ন না দেওয়ায় তথা দলের নেতাদের অবমূল্যায়ন করার কারণে আমার নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এরপর রওশন এরশাদের ময়মনসিহং-৪ আসনে দলীয় নেতা আবু মুসা সরকারকে মনোনয়ন দিয়েছে জাপা।

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা বলেছেন, ঢাকায় যে দুটি আসনে জাতীয় পার্টির এমপিরা ছিল, সেই দুটি আসন ছেড়ে দিয়ে জিএম কাদের তার স্ত্রীর জন্য ঢাকা-১৮ আসন নিয়েছেন এবং যেখানে তিনি জামানত হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় পার্টির মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে যখন জি এম কাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তার স্ত্রী শেরীফা কাদের যিনি সরাসরি ভোটে পরাজিত হয়েছেন তাকে এবং সালমা ইসলামকে সংরক্ষিত নারী কোটায় এমপি বানাবেন। সালমা ইসলামের ব্যাপারে কারও কোন আপত্তি নেই। কারণ সালমা ইসলাম জাতীয় পার্টির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক তিনি। কিন্তু শেরীফা কাদেরকে সংরক্ষিত কোটায় এমপি করা নিয়েই আসলে জাতীয় পার্টিতে মূল উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। দলের অধিকাংশ নেতারাই এটি পছন্দ করছেন না। আর এর ফলে দলের ভেতরে থাকা নেতারাই রওশন এরশাদকে উস্কে দিয়েছেন এবং রওশন এরশাদ যেন আলাদা অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এর ফলে যেন জি এম কাদেরকে একটি সমঝোতায় যেতে হয় তার অংশ হিসেবেই জাতীয় পার্টিতে এই নাটক বলে অনেকে মনে করছেন।

মুজিবুল হক চুন্নু

অব্যাহতি দেয়ার ক্ষমতা রওশন এরশাদের নেই, চুন্ন’র দাবি: জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান বা মহাসচিবসহ দলের কোনো নেতা-কর্মীকেই দল থেকে বাদ দিতে পারেন না প্রধান পৃষ্ঠপোষক বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি আরও বলেন, আগেও রওশন এরশাদ দুইবার নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে আমাদের বাদ দিয়েছিলেন। ওনার বক্তব্য আমরা আমলে নিচ্ছি না। প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ দলটির রবিবার চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে অব্যাহতি ঘোষণার পর বনানীর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এসব কথা বলেছেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। চুন্নু বলেন, উনি যে চেয়ারম্যান-মহাসচিবকে বাদ দিয়েছেন এটা এ নিয়ে তৃতীয়বার। এর আগেও উনি দুইবার নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বাদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আবার প্রত্যাহার করেছিলেন এই বলে যে, ওনার ঘোষণাটা ঠিক না। ওনাদের এই বক্তব্য আমি পার্টির মহাসচিব হিসেবে আমলে নিচ্ছি না।

এই ঘোষণা অগঠনতান্ত্রিক জানিয়ে চুন্নু বলেন, প্রত্যেকটা দলের একটা গঠনতন্ত্র আছে, নিয়ম আছে। আমাদের গঠনতন্ত্রে এমন কোনো ধারা নাই যাতে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক-দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিব বা অন্য কাউকে বাদ দেবেন। এটা আমাদের গঠনতন্ত্রে নাই। তিনি আরও বলেন, এই ঘোষণার কোনো ভিত্তি নাই। এই ধরনের কোনো ক্ষমতা ওনার নাই। গঠনতন্ত্রের বাইরে যে কোনো ব্যক্তি মনের মাধুরী মিশিয়ে যে কোনো কথা বলতেই পারে, এসব কথার কোনো ভিত্তি নাই। তাদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। তবে এমন কর্মকাøের কারণে রওশন এরশাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম রওশন এরশাদ আমাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের স্ত্রী। ওনাকে শ্রদ্ধা করি। সেই শ্রদ্ধার কারণেই ওনাকে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়। প্রধান পৃষ্ঠপোষকের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোনো রকম ক্ষমতা নাই, সুযোগ নাই। এটা একটা অলংকৃত পদ। অলংকৃত পদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। তাদের সম্মেলন করারও কোনো অধিকার নেই জানিয়ে চুন্নু বলেন, এই ধরনের কিছু করার তাদের কোনো অধিকার নাই। যারা মিটিং করেছেন, আমাদের অব্যাহতির কথা বলেছেন, তারা দলের কেউ না।প্রসঙ্গত, জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে বাদ পড়া নেতাদের এক জোট হওয়ার চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছিল কদিন ধরে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, হয় তারা সংগঠিত হয়ে জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জ্যেষ্ঠ নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে পৃথক অবস্থান নেবেন। না হয় ‘তৃণমূল জাতীয় পার্টি’ নামে দল গঠন করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করবেন।এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার জাপার কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বেশ কিছু নেতা-কর্মী জোটবদ্ধ হয়ে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাদের সংখ্যা ৬৬৮ বলে জানিয়েছিলেন, ‘গণপদত্যাগ’ কর্মসূচির আয়োজক শফিকুল ইসলাম। তাকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আহŸায়কের পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন রাঙ্গা: জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গা আর রাজনীতি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গা গণমাধ্যমকে বলেন, যে দলে গণতন্ত্র নেই সেই দল করে কী হবে। জাতীয় পার্টির কোনো গণতন্ত্র নেই। তাই আগামীতে রাজনীতি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রবিবার জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ দলের বহিস্কৃত নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করার অনুষ্ঠানে মশিউর রহমান রাঙ্গা ছিলেন না।উল্লেখ্য, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসন থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। সেখানে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলুর কাছে তিনি পরাজিত হন। এর পরে থেকে রাঙ্গাকে আর রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। নিজেকে এক প্রকার গুটিয়ে রেখেছিলেন। এর আগে মসিউর রহমান ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রওশন এরশাদ ইস্যুতে পক্ষ নেওয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের সব পদ-পদবি থেকে মসিউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

যেসব সুযোগ-সুবিধা পান বিরোধী নেতা: জাতীয় সংসদে সংসদ নেতার পাশাপাশি একজন বিরোধী দলীয় নেতা থাকেন। আইন অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হন সংসদ নেতা। আর দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা অথবা সেই দল থেকে যাকে মনোনীত করা হয় তিনি হন বিরোধী দলীয় নেতা। সংসদে স্পিকারের ডান পাশে ১ নম্বর আসনটিতে বসেন সংসদ নেতা। আর সংসদ নেতার ঠিক বিপরীতমুখে ওই সারির ২৯ নম্বর আসনে বসেন বিরোধী দলীয় নেতা। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং উপনেতা একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। ‘বিরোধী দলীয় নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশে তাদের সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করা রয়েছে। সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার পৃথক কার্যালয়ও রয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও মন্ত্রীর মতো পান। তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে একজন হেড কনস্টেবল, একজন নায়েক ও ছয়জন কনস্টেবলসহ মোট আটজন হাউস গার্ড দেওয়া হয়। এর বাইরে বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে দুজন গানম্যান পালাক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি একজন একান্ত সচিব (পিএস), একজন সহকারি একান্ত সচিব (এপিএস), দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন বাহক, দুজন এমএলএসএস ও একজন বাবুর্চি পেয়ে আসছেন। গাড়ির সুবিধাও পেয়ে থাকেন বিরোধীদলীয় নেতা।সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার একটি অফিস রয়েছে। সেখানে অফিস স্টাফ থেকে শুরু করে সব ধরনের সরকারি সুবিধা পান তিনি। বিরোধী দলীয় নেতার অন্য আর একটি বড় সুবিধা তিনি সংসদে প্রতিটি অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে সংসদ নেতার বক্তৃতার পূর্বে ভাষণ দিতে পারেন। সেই ভাষণে সরকারের বিভিন্ন ভুলত্রæটি তুলে ধরার সুযোগ পান বিরোধী দলীয় নেতা। তাছাড়া সংসদে বিরোধী দলীয় এমপিদের নেতৃত্ব থাকে তার হাতে। সবকিছু ছাপিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো-বিদেশি অতিথি এলে প্রোটকল অনুযায়ী সংসদ নেতার সঙ্গে দেখা করার পর বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান বাংলাদেশে এলে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading