ফরিদপুরে হাসপাতালে রোগীর চাপ, বেড়েছে মৃত্যুও

ফরিদপুরে হাসপাতালে রোগীর চাপ, বেড়েছে মৃত্যুও

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১২:০০

গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। গত মাসের চেয়ে হাসপাতালে বেড়েছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা।

ফরিদপুরে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয় মূলত তিনটি হাসপাতালে। এগুলো হলো, ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসিপাতাল।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯২৩, জেনারেল হাসপাতালে ৪১১ এবং শিশু হাসপাতালে ১ হাজার ৬৬ জনসহ মোট ২ হাজার ৫০০টির মতো শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেলে ৭১টি, জেনারেল হাসপাতালে একটি ও শিশু হাসপাতালে ৩৬টিসহ মোট ১০৮টি শিশু মারা গেছে এই জানুয়ারি মাসে।

এদিকে গত ডিসেম্বরের ৩১ দিনে ফরিদপুর মেডিকেলে ৬০টি, শিশু হাসপাতালে ৩০টি শিশু মারা যায়। ওই মাসে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কোনো শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। শিশু রোগীর পাশাপাশি শিশু মৃত্যুর হারও ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে বেশি দেখা গেছে।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এনামুল হক বলেন, যে সব শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের মৃত্যুর কারণ অপুষ্টি, জন্মগত ত্রুটির পাশাপাশি ঠান্ডা ও নিউমোনিয়াও ছিল।

ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ কর্মকর্তা রুবিয়া বেগম জানান, যেসব শিশু মারা যাচ্ছে এর মধ্যে জন্মগত ত্রুটি, ফুসফুসের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগ রয়েছে।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার উপদুমুরশিয়া গ্রামের পাঁচ মাস বয়সী শিশু তাহমিদকে। তাহমিদের মা সুলতানা বেগম জানান, জ্বর ও কাশি হওয়ায় গতকাল সোমবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি তার ছেলেকে নিয়ে এসেছেন।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) গনেশ কুমার আগরওয়ালা বলেন, শীতের তীব্রতা কমে গেলে শিশুদের ওপর নতুন করে আরেকটি ধাক্কা আসতে পারে। এজন্য আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমমত শিশুদের সারা শরীর গরম পোশাক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। অহেতুক কারণে শিশুকে বাড়ির বাইরে আনা যাবে না। গোসল ও পান করার জন্য উষ্ণ পানি ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ফলমূল ও মাছ মাংস খাবার তালিকায় রাখতে হবে। এতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading