টাকার বদলে পানি বের হয় যে এটিএম বুথে

টাকার বদলে পানি বের হয় যে এটিএম বুথে

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৪:১৫

এটিএম বুথ টাকার মেশিন; এই কথা সবারই জানা। তবে কেবল টাকা নয়, এটিএম বুথে এখন মিলছে বিশুদ্ধ পানি। হ্যাঁ, এটিএম বুথে কার্ড দিলেই পাওয়া যাবে নিরাপদ খাবার পানি।

কারণ এটি পানির এটিএম মেশিন। এই বুথে একইসঙ্গে রয়েছে হাত ধোয়ারও সুব্যবস্থা। এক এক করে এমন চারটি নিরাপদ খাবার পানির এটিএম ও হাত ধোয়ার বুথ স্থাপন করা হয়েছে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে। এর প্রথমটি উদ্বোধন করা হয়- ২০২২ সালের ২ এপ্রিল।

রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়ায় এলাকায় স্থাপন করা হয়, পানির প্রথম এটিএম বুথটি। এই বুথ উদ্বোধন করেন- রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বাকি তিনটি পানির এটিএম বুথ রয়েছে- রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ফটকের পাশে ও বহরমপুর মোড়ে। পানির এটিএম বুথের বিষয়টি ব্যতিক্রম ও দারুণ চমকপ্রদ। তাই এরইমধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে এটি।

মহানগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করা এবং হাত ধোয়ার বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার কাজটি বর্তমানে চলমান। ঠিক ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মতোই একটি আরএফআইডি কার্ড মেশিনের নির্দিষ্ট স্থানে রাখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে আসছে বিশুদ্ধ খাবার পানি।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই এটিএম বুথ খোলা থাকছে। আর এই পুরোটা সময় পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে। তবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এর আশপাশে অধিক সংখ্যক ক্লিনিক- ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকার কারণে ‘ডক্টরস জোন’ খ্যাত রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মিন্টু চত্বর এলাকায় থাকা বুথটি খোলা রাখা হয় রাত ৯টা পর্যন্ত।

আর যতই দিন যাচ্ছে নিরাপদ পানির এই সেবা পেতে এটিএম বুথের গ্রাহক সংখ্যা ততই বাড়ছে। বুথের সঙ্গে লাগোয়া একটি কক্ষে সবার সামনেই পানি বিশুদ্ধকরণের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

বলা হচ্ছে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই এটিএম বুথের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির মান বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত অন্য যে কোনো পানির চাইতে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর থেকে সরাসরি সংগ্রহকৃত পানি মোটরের সাহায্যে উত্তোলনের পর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তিনটি স্তরে ফিল্টারিং করা হয়।

পানি বিশুদ্ধের পরই তা এটিএম বুথের ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। নামমাত্র মূল্যেই মিলছে বিশুদ্ধ খাবার পানি। সবাই তাই দারুণ উচ্ছ্বসিত।

রাজশাহীর স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, মূলত পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করতেই তারা শহরের নির্ধারিত এই এটিএমগুলো থেকে পানি নিচ্ছেন।

৫০ টাকায় সাড়ে ৬২ লিটার বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায়। তাই এই এটিএম বুথ স্থাপনের পর থেকে তিনি গ্রাহক এবং এখান থেকে নিয়মিত পানি নিয়ে থাকেন। এই পানি সংগ্রহ করতে আগে থেকেই নিতে হবে কার্ড। আর এটিএম কার্ডের মতোই দেখতে সেই কার্ডের রেজিস্ট্রেশন খরচ পড়বে মাত্র ৫০ টাকা।

এরপর টাকা ফুরালে শুধু রিচার্জ করে নিতে হয়। এটিএম বুথের কর্মীর কাছ থেকেই কার্ড রিচার্জ করা যাবে। রাজশাহীতে কর্মরত ড্রিংকওয়েলের সেবা প্রকৌশলী আলিম-উল-রাজি জানান, পানির মানদণ্ডের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা এই প্রকল্পটি রাজশাহীতে চলমান রেখেছেন।

যা এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা জোগাতে সক্ষম হয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও বুথ থেকে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ড্রিংকওয়েল ও ইকলি কয়েকটি সংস্থার সহযোগিতায় মহানগরীতে চারটি নিরাপদ পানির এটিএম বুথ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে।

প্রথমটি উদ্বোধনের পরই ভালো সাড়া মিলেছে। তারা চাহিদার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। চাহিদা বাড়লে পরে আরও বেশ কয়েকটি পানির এটিএম বুথ স্থাপন করা হবে। কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, নামমাত্র মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করাই আমাদের লক্ষ্য।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading