বিনিয়োগকারীরাই হচ্ছে পুঁজিবাজারের প্রাণ,তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে

বিনিয়োগকারীরাই হচ্ছে পুঁজিবাজারের প্রাণ,তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১০ মার্চ, ২০২৪, আপডেট ১৫:০০

পুঁজিবাজার নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘মার্কেট ওয়াচ’-এ পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সম্পাদক শেখ ফারুক আহমাদ ও প্রাইলিংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড’র চেয়ারম্যান ডা. জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাসিব হাসান, আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরে প্রতিবেদন

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে করণীয় কী

ফ্রি-মার্কেট ইকোনমির অংশ হচ্ছে পুঁজিবাজার, যা স্বাধীন, মুক্ত এবং গতিশীল। এটা প্রতিযোগীতাপূর্ণ। বিনিয়োগকারী ছাড়া এই পুঁজিবাজার আসলে কিছুই না। বাজারের প্রাণ হচ্ছে বিনিয়োগকারী, আর তাদের জন্য দরকার হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, পক্ষপাতহীন একটি নীতিমালাই হচ্ছে তার সেফগার্ড। বিনিয়োগকারীর স্বার্থই হচ্ছে মার্কেটের স্বার্থ। বিনিয়োগকারীকে বিব্রত করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে, কোনো কিছুই চলতে দেওয়া উচিৎ নয় বলে মনে করেন দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সম্পাদক শেখ ফারুক আহমাদ। তিনি পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে বলেন, পুঁজিবাজারের সংকট-দুরাবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে সবাই। যারা পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মাঝেই কষ্ট বিদ্যমান। বাজারে কেন গতি ফেরে না, কেন বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না এই প্রশ্ন এখন সবার। সব সমস্যার মূলে এই মুহূর্তে আস্থার সংকট।

তিনি বলেন, আস্থা বায়বীয় কোনো বিষয় না, সেটা তৈরি হয় কীভাবে? আস্থা তৈরি করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। একইসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ব্রোকারজে হাউজ, বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন, একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারী সবার সম্মিলিতভাবেই এই আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে।

শেখ ফারুক আহমাদ বলেন, আস্থার জায়গা তৈরি না হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, প্রথমত, যারা পুঁজিবাজারের দায়িত্বে আছে, এই জায়গাটি যাদের নার্সিং করার কথা, মনিটর করা, সুপারভাইজ করা, সাপোর্ট দিয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠা করা। সেখানে কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। ঘাটতির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি বডি থেকে প্রতি মুহূর্তে একটি অস্থিরতা তৈরি হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বর্তমানে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা যে উদ্দেশ্য কিংবা পুঁজিবাজার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা তা আমাদের আশাবাদী করে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঠিকভাবে ঘটে না। মূলত পুঁজিবাজার হলো ইক্যুইটি বেইজড। এখানে যেভাবে এগোনোর কথা তা হয়নি। মূল ট্রেন্ডটা হচ্ছে ট্রেডিং বেইজড, প্রতিদিনই পারলে বিক্রি করতে চায়। ম্যাচুইরড হলে প্রফিট চায়। বিনিয়োগ মেন্টালিটি তথা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারী কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সবার মধ্যেই সেই ঘাটতি রয়ে গেছে।

শেখ ফারুক আহমাদ

ফ্লোর প্রাইস ইস্যু: ফোর্সড সেল ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শেখ ফারুক আহমাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা-ফ্লোর প্রাইস। এটা ছিলো একটি সাপোর্ট। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যখন ফ্লোর প্রাইস উঠে যাচ্ছে তখন একইসঙ্গে কমিশনের আলাদা চিঠি দেখা যাচ্ছে মার্জিন লোন এডজাস্ট করতে হবে। যেখানে ফ্লোর প্রাইজ উঠে গেলে প্রত্যেকটি আইটেম পড়ে যাচ্ছে, মানুষের ইক্যুইটি নষ্ট হবে সেক্ষেত্রে কীভাবে আবার মার্জিন লোন এডজাস্ট করতে হবে। সেখানে কীভাবে বাজার ভালো হবে। দেখা যাবে, ব্রোকারেজ হাউজগুলো ফোসর্ড সেল দিয়েছে, এডজাস্ট করেছে।

এরফলে মার্কেট আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একজন বিনিয়োগকারী যখন ফ্লোর প্রাইসে আটকে গেছে তখন সে মার্জিন লোন নিয়ে ইন্টারেস্ট দিচ্ছে। হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মার্কেটের স্বার্থে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ার চিন্তা করলেন তখন তাদের সেই ব্যাকআপ থাকা দরকার ছিলো। সেই সময়ে যেন ফোর্সড সেল না হয়। বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কি উদ্যোগ নিলেন এটাই প্রশ্ন। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অস্থিরতা নয় আমরা চাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা, নার্সিং।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ যথাযথভাবে আসে নি

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে শেখ ফারুক আহমাদ বলেন, যারা ব্যাংক-বীমা কিংবা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারী তাদের যেভাবে বিনিয়োগ আসার কথা, সেভাবে আসে নি। অথচ, ব্যাংকের মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বন্ড, সিঙ্গেল লিমিট যেন এক্সপোজারের বাইরে থাকে তার জন্য আন্দোলন করেছি, কথা বলেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক-অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সেটা হওয়ার পরও যেভাবে বিনিয়োগ আসার কথা সেভাবে আসে নি। তাই বলা হয় যে কালেকটিভ ওয়ার্ক তথা টিম ওয়ার্ক যদি না হয় তবে পুঁজিবাজারে আস্থার পরিবেশ থাকবে না। পুঁজিবাজারে সরকার পলিসি দেবে। মার্কেটে সহযোগীতা করার জন্য সরকার ব্যাংকগুলোকে যেন এক্সপোজার লিমিটের বাইরে বন্ড এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড থাকে তা দিয়েছে। এর বিনিময়ে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-সরকারের এই সুবিধা দেয়ার পর তারা কি করেছে? অপরাধ এবং অপরাধীকে আড়াল করা ঠিক নয়। মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন সহ প্রতিটি মার্চেন্টকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি মিউচ্যুয়াল ফান্ড দিচ্ছে। কিন্তু তারা আসলে করছেটা কি। অনেকগুলোতে অডিট হচ্ছে না। কোটি কোটি টাকা লুট করে চলে যাচ্ছে অ্যাস্টে ম্যানেজমেন্টের লোকজন। বিনিয়োগকারীদেও লাভ হচ্ছে ননা, মার্কেটের লাভ হচ্ছে না। কমিশনের আরও মনিটর করা উচিৎ।

তাদেও অসহায়ত্ব আসলে কোথায়? নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল কাজ হচ্ছে নীতি-নির্ধারণী কাজ। একইসঙ্গে ত্রæটি-বিচ্যুতি, অপরাধ-অপকর্ম যেন না হয়, বাজারের যেন ক্ষতি না হয় তা মনিটর করা। তা না করে যদি পদে পদে চাপ প্রয়োগ করা হয় তবে তো স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়ে যাবে। বিনিয়োগকারী বাজারে স্বস্থি পাবে না। অথচ, বাজারে একজন বিনিয়োগকারীর স্বস্থি দরকার সবার আগে। আমার মনে হয় ব্রোকারেজ হাউজগুলো সেল-বাই হলে তথা কমিশন আসলেই যদি তৃপ্ত হয় তবে সেটা ভুল। একজন বিনিয়োগকারী ব্রোকারেজ হাউজে আসে টাকা নিয়ে, সেক্ষেত্রে ওই বিনিয়োগকারীর ভালো-মন্দ দেখভাল করাও ওই ব্রোকারেজ হাউজের দায়িত্ব। সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েই মার্কেটকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নেতৃত্ব দিকে হবে। বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম পুঁজিবাজারের স্বার্থে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন যার কিছু সুফল এসেছে, কিছু আসে নি। এখনও যদি সৎ-সুস্থ উদ্যোগ নেওয়া হয় তবে এই মার্কেট আবারও ঘুড়ে দাঁড়াবে বলে আমার বিশ^াস।

হাসিব হাসান

বিনিয়োগকারীদের প্রফিট মানেই কী কারসাজি

শেখ ফারুক আহমাদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের সেফগার্ড কে দেবে? সরকার হোক কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হোক ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিনিয়োগকারীকে কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ফ্রি-মার্কেট ইকোনমির অংশ হচ্ছে ক্যাপিটাল মার্কেট। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার স্বাধীন, মুক্ত এবং গতিশীল। এটা প্রতিযোগীতাপূর্ণ। একজন মানুষ এখানে পুঁজি নিয়ে আসবে, তার যোগ্যতা ও পুঁজি দিয়ে সে লাভবান কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হকে পারে। এক্ষেত্রে তারও আপত্তির কিছু নেই। তবে বিষয়টি খুবই পরিস্কার, যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা এক্সচেঞ্জ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কৃর্তপক্ষের কারণে তথা তাদের পলিসি, তাদের বক্তব্য বা তাদের কর্মকান্ডের কারণে একজন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তা অন্যায়-অপরাধ। একটা নীতিমালার আলোকে বিনিয়োগকারী প্রতিযোগীতামূলক বাজারে অংশ নিচ্ছে সেখানে তার সেফগার্ড হচ্ছে পলিসি। লেভের প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা সবার জন্য। সেই ফিল্ড যদি উদ্দেশ্যমূলক হয় তবে ক্ষতির কারণ হয়। কোনো গোষ্ঠি কিংবা সিন্ডিকেটকে লাভবান করার জন্য যদি কোনো পলিসি গ্রহণ করা হয় তবে সেই সেফগার্ড নষ্ট হয়, তা হয় অন্যায়-অপরাধ। যখন কোনো বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়ে তখন কেউ তার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। কিন্তু একই বিনিয়োগকারী যখন লাভের মুখ দেখছে তখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে কীভাবে লাভ হয়েছে, তদন্তের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। এই আচরণটি পরিবর্তন হওয়া উচিৎ। বিনিয়োগকারীকে আতঙ্কিত রাখা ঠিক নয়। এক্সচেঞ্জ’র কাজ হচ্ছে সহযোগীতা করা, প্লাটফর্ম তৈরি করা যেন বিনিয়োগকারীরা তার বিনিয়োগ নিয়ে এখানে ব্যবসা করতে পারে

ইনডেক্স ৬০০০-এর আশেপাশে, কেন বাড়ছে না

প্রাইলিংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড’র চেয়ারম্যান ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশি দেশ ইন্ডিয়াতে সূচক ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। পূর্বাভাব আছে আগামী দুই বছরের মধ্যে তারা এক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবার মাইলস্টোনে পৌঁছে যাবে। অখচ, আমরা যেই তিমিওে আছে, সেখানেই রয়ে গেছি। অন্যান্য দেশের মতো আমেদেও দেশেও বেশ কিছু সমস্যা আছে, যেমন করোনা, এখন আবার যুদ্ধ। কিন্তু তবুও কেন যেন আমাদের দেশের পুঁজিবাজার সেই অর্থে গতিশীল হচ্ছে না। আমার মনে হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি সরকারকে এখানে একটু সুনজর দিতে হবে। সরকারের সুবিধা ছাড়া বাজার উন্নত করা, নতুন নতুন ইস্যু আনা সম্ভব নয়। সুধুমাত্র বেসরকারি কোম্পানি দ্বারা মার্কেটকে গতিশীল করা সম্ভব না। সরকারি অনেক ভালো ভালো বড় বড় কোম্পানি আছেম যাদেও পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা যায়, পাশাপাশি অনেক বহুজাতিক কোম্পানি আছে যাদেও সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আছে তাদেরকে যদি বাধ্য করা অথবা গাইডলাইন দিয়ে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা যায়, তবে বাজারে নতুন রক্ত সঞ্চার হবে। সেক্ষেত্রে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী বাজারে আসবে। এই বিষয়টি কৃর্তপক্ষের ভেবে দেখা উচিৎ। প্রায় দেড় বছর পর ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ধন্যবাদ জানাই। অনেক বিনিয়োগকারী এর জন্য ভুক্তভোগী ছিলেন। একই সঙ্গে ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকাররা স্থবির অবস্থায় ছিলেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থার সংকটে ছিলেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজারে আনতে গেলে স্বচ্ছতা দেখাতে হবে। তবে শুভবুদ্ধিও উদয় হয়েছে, ধাপে ধাপে ফ্লোর প্রাইস উঠে গেছে। দেড় বছর স্থবির থাকার ফলে শুরুতে মার্কেটে অনেক সেল প্রেসার তৈরি হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীতা তা ভালোভাবেই নিয়েছে। আমার মনে হয় ধীরে ধীরে বাজার ঘুওে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বড় বড় কোম্পানিগুলো যখন ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকে তখন এটা খুলে দিয়ে স্বাবাভিকভাবে একটা সেল প্রেসার থাকে। কিন্তু সেটাও ধীওে ধীরে সমাধান হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, আমি বিশ^াস করি বাজার দ্রæতই গতি পাবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে অটল ভাব থাকতে হবে। নিয়মের মধ্য থেকে তাদেও যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি আচমকা কোনো সিদ্ধান্ত আসে তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১০ মার্চ ২০২৪ । শেষ পৃষ্ঠা

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা ও কারসাজি প্রসঙ্গ

সব ধরণের মানুষের জন্য আসলে পুঁজিবাজার নয়। যাদের পুঁজি আছে, তথা রুটি-রুজির বাইরে যাদের অতিরিক্ত টাকা আছে যা তার সংসার চালাতে সমস্যা সৃস্টি করে না তার জন্যই মূলত পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে কেউ যদি ভাবে তিনি সংসার চালাবেন তবে সেটা দুরাশা। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিশে^র কোনো পুঁজিবাজারে লাভের মুখ দেখতে পায় না। ৯০ থেকে ৯৫ ভাগই লুজার হয়। তাই যারা পুঁজিপতি এবং এই বাজারটি বুঝে থাকে তাদেরই কেবল এখানে আসা উচিৎ। আমাদের এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা গুজব দ্বারা তাড়িত হয়। তাদেও সেফগার্ড দেয়ার দায়িত্ব কারো নয়। সরকারও দেবে না, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেফগার্ড লাইন তৈরি করে দেবে। এর বেশি দায়িত্ব কিন্তু কেউ নেবে না। বিএসইসিকে সাধুবাদ জানাই, তারা মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড তৈরি করেছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও সুরক্ষা পেয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেও স্বার্থ রক্ষা সরকারের দায়িত্ব নয়, যারা আসবেন তাদেরই দায়িত্ব। এটা একটি ব্যবসা, এখানে প্রফিট হবে, লস হবে। কেউ কোনো গ্যারান্টি দেবে না। গ্যারান্টি চাইলে- ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে হবে যা বিএসইসি বাজারে নিয়ে এসেছে। সেক্ষেত্রে লসের কোনো প্রশ্ন আসবে না, সরকারের এখানে গ্যারান্টি দিচ্ছে। এছাড়াও মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন। যারা গ্যারান্টি চান কিংবা রিস্ক নিতে চান না।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading