বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার সম্পর্ক নষ্ট করছেন মমতা: নরেন্দ্র মোদি
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১২ মে, ২০২৪, আপডেট ১৯:৪৫
আগামীকাল সোমবার (১৩ মে) ইন্ডিয়ার লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার (১২ মে) উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ব্যারাকপুরে অনুশোচনার সুরে তিনি বলেন, এক সময় বাংলাদেশের অর্থ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখত এই পশ্চিমবঙ্গ। আজ তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের দুর্নীতির কারণে এই সিস্টেম পুরো নষ্ট করে দিয়েছে।
এর আগেও একাধিক নির্বাচনী প্রচরাণায় মোদির মুখে শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। বিভিন্ন জনসভায় প্রতিবেশী মোদি যেন বার্তা দিতে চাইছেন—পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বিষয়ে যে বিরূপ চিত্র বঙ্গবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাইছে, তা আসলে ঠিক নয়। বাস্তবে ইন্ডিয়া পাশে আছে বাংলাদেশের। এর আগে গত ৪ এপ্রিল কোচবিহার থেকে মোদি বলেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজভাবে করার জন্য বিজেপি সরকার কাজ করে চলেছে। দুই দেশের মানুষ যাতে অতি সহজে যাতায়াত করতে পারে, এর জন্যও আমরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার, বামদল আর কংগ্রেসের ইন্ডিয়া জোট মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।
মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জনসভায় বলছেন, নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন অর্থাৎ সিএএ-এর মাধ্যমে এনআরসি আনতে চায় মোদি সরকার। সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ (যার কাছে বৈধ নাগরিকপত্র নেই) ছাড়া ভারতে এমন কোনো আইন নেই যে, সংশ্লিষ্টকে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেওয়া হবে। ফলে সিএএ যেমন মোদির সরকারে রাজনৈতিক চাল তেমনি মমতার মুখে রাজনৈতিক বাণী ছাড়া কিছুই নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলায় জাঁকিয়ে বসেছে মোদি হাওয়া। আর তাই বাংলায় এসে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্ট করছেন মোদি। ভোট প্রচারণা এবং প্রতিবেশী দেশের পাশে আছে ভারত—এই দুই বার্তাই তুলে ধরতে চাইছেন।
ইউডি/এজেএস

