উড়োজাহাজে তীব্র ঝাঁকুনি ৪০ বছরে বেড়েছে ৫৫ শতাংশ, নেপথ্যে কি জলবায়ু পরিবর্তন ?
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, আপডেট ১৪:০০
লন্ডন থেকে যাত্রা করা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ভয়াবহ ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) ঘটনায় এক ব্রিটিশ যাত্রীর মৃত্যু এবং অনেকে আহত হওয়ার পর আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের শঙ্কা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভয়াবহ ঝাঁকুনির কারণ কী, এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট কি এটিকে প্রাণঘাতী করে তুলছে, এমন সব প্রশ্ন উঠে আসছে।
ঝাঁকুনিতে প্রাণহানির ঘটনা কতটা বিরল?
নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এমন ঝাঁকুনির কারণে প্রাণহানির ঘটনা খুবই বিরল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাইলটরা এ ধরনের ঝাঁকুনি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দিয়ে থাকেন। এবং নিশ্চিত করেন যাত্রীদের সবার সিটবেল্ট বাধা রয়েছে।
ব্যক্তিগত ছোট আকারের উড়োজাহাজ অথবা কমার্শিয়াল জেটগুলোতে গুরুতর আঘাত বা মৃত্যু প্রায়শই ঘটে থাকে। ইউএস ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি বোর্ড অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মাত্র এক দশকেরও বেশি সময়ে ১০০ জনের বেশি আহত এবং কয়েক ডজন মৃত্যু রেকর্ড করেছে। তবে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটে যখন এমন বিপর্যয়কর অবস্থায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়।
বড় উড়োজাহাজে এমন পরিস্থিতিতে কেবিনে যেসব যাত্রীর সিটবেল্ট বাধা থাকে না তাদের মাথা বা শরীরে বড় ধরনের আঘাত লাগতে পারে। সেই সঙ্গে উড়োজাহাজের ভেতরে বিচ্ছিন্ন বা ভেঙে যাওয়া অংশ উড়ে এসে যাত্রীকে সজোরে আঘাত করতে পারে।
খাবার আনা-নেয়ায় ব্যবহৃত ট্রলি এ ক্ষেত্রে চরম আঘাত করতে পারে। ক্রুরা বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে এবং তাদের হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
টার্বুলেন্স কি এবং কিভাবে এড়ানো যেতে পারে?
উচ্চ আকাশে বিভিন্ন তাপমাত্রা, চাপ বা বেগের সঙ্গে বাতাসের সংঘর্ষে এমন ভয়াবহতা বা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। নৌযান যখন অনেক সময় ঝঞ্ঝাপূর্ণ উত্তাল স্রোতের মুখোমুখি হয় তেমনি উড়োজাহাজ ঘূর্ণিবায়ুতে ঢুকে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
কিছু আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক অবস্থা, যেমন বজ্রপাত, পর্বতশ্রেণি এবং মেঘের উপস্থিতি আগে ভাগে টার্বুলেন্সের বিষয়ে সংকেত দিতে পারে। তবে ব্যতিক্রমী এবং স্বচ্ছ বাতাসে বিশেষ ধরনের ‘ক্লিয়ার-এয়ার টার্বুলেন্স’ রয়েছে, যা পাইলটদের বেকায়দায় ফেলে দেয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার মতো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন কি এটাকে আরও তীব্রতর করে তুলছে?
হ্যাঁ, একটি গবেষণায় উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন কিভাবে এটাকে (টার্বুলেন্স) আরও তীব্রতর ও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। রিডিং ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উচ্চ আকাশে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইট বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এমন বড় ধরনের টার্বুলেন্সের ঘটনা ৫৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। তারা দেখেছে, আকাশের অতি উচ্চতায়, সাধারণত যে উচ্চতায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল, বাতাসের গতিবেগে ঘূর্ণিবেগ বেড়ে গেছে।
গবেষণার অন্যতম লেখক অধ্যাপক পল উইলিয়ামস বলেছেন, এখন আকাশ ঝঞ্ঝাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি যোগ করে, উড়োজাহাজ চলাচল শিল্পের নিরাপত্তার জন্যে এখন থেকেই টার্বুলেন্স শনাক্তে উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা আনতে হবে।
ইউডি/এআর

