অর্থনৈতিকভাবে জর্জরিত পাকিস্তান গাঁজা নিয়ে কী ভাবছে

অর্থনৈতিকভাবে জর্জরিত পাকিস্তান গাঁজা নিয়ে কী ভাবছে

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, আপডেট ১৫:০০

আমির ধেধি ২০১৪ সালে তার মাকে পারকিনসনস রোগের চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়া নিয়ে যান। তখন সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে মায়ের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ক্যানাবিডিওল (সিবিডি) তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। করাচির ব্যবসায়ী ধেধি তখনই প্রথমবারের মতো গাঁজার ঔষধি গুণ সম্পর্কে জানতে পারেন।

নিজ দেশ পাকিস্তানে ফেরার পর ওই ব্যবসায়ী আমেরিকা থেকে অল্প পরিমাণ সিবিডি তেলের অর্ডার দেন। অনেকটা তাৎক্ষণিকভাবে এই তেল তার মায়ের স্নায়ুকে শান্ত করতে এবং হাত-পায়ের কাঁপনি কমাতে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপরই সিবিডির কার্যকারিতার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন ধেধি।

‘আমার মায়ের সুস্থতার উপর এই তেলের কার্যকারিতা দেখার পর এটি আমার জন্য একটি আবেগতাড়িত প্রকল্পে রূপ নেয়।’ এমনটি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী।

২০২০ সালে তার মা শেষ পর্যন্ত মারা গেলেও ধেধি বলেন, তিনি তখন থেকে অন্যদের সিবিডি তেল থেকে স্বস্তি নিশ্চিত করতে চাইছেন। ‘এখন, আমি আমাদের স্থানীয় কৃষকদের গাঁজার উৎপাদন বাড়াতে এবং এর ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করতে চাই।

ঔষধি গুণ থাকা গাঁজার জন্য একটি স্বদেশীয় শিল্প গড়ে তুলতে চান ধেধি। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও অনেকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, পাকিস্তান একটি অধ্যাদেশ পাস করে যা গাঁজা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (সিসিআরএ) গঠনে সায় দেয়। পাশাপাশি চিকিৎসার স্বার্থে ও শিল্পের উদ্দেশ্যে গাঁজার চাষ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিশোধন, উত্পাদন এবং বিক্রয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেয়া হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে। ১৩ সদস্যের এই বোর্ডে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বিভিন্ন সরকারী বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি থাকবেন।

২০২০ সালে গঠিত এই সংস্থা প্রথমবারের মতো এই লাভজনক কৃষিপণ্যের চাষ, প্রক্রিয়াজাত ও শিল্পজাতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

আয়ারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গাঁজার বাজার ২০২২ সালে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার। তবে এটি ২০২৭ সালে ব্যাপকহারে বেড়ে দাঁড়াবে ৩,০০০ কোটি ডলারে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রয়ত্ব সংস্থা বিজ্ঞান ও শিল্পবিষয়ক গবেষণা সংস্থার (পিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান সৈয়দ হুসেইন আবিদি জানিয়েছেন, এই নবগঠিত সংস্থাটিকে অবশ্যই জাতিসংঘের আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। কোন দেশ যদি গাঁজা চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প শুরু করতে চায় তবে সেই দেশের সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে জাতিসংঘের সব আইন যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে। কোনভাবেই যেন এটি মাদক বা উপভোগের পণ্য হিসেবে অপব্যবহৃত না হয়।

এই আইন কেউ অমান্য করলে তাকে ১ কোটি থেকে ২০ কোটি পাকিস্তানি রূপি জরিমানা গুণতে হবে।

তিনি আরও বলে, পাকিস্তান শুধুমাত্র গাঁজা চাষ করতে পারবে হারবাল পণ্য হিসেবে যার মাধ্যমে দেশটি বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে এবং এতে দেশটির তলানিতে ঠেকে যাওয়া রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনটি বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading