গরমে তরমুজ খাওয়া আসলেই উপকারী না ক্ষতিকর, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

গরমে তরমুজ খাওয়া আসলেই উপকারী না ক্ষতিকর, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, আপডেট ১৬:৪৫

গ্রীষ্মের এই তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের এই সময় সবাই ঠান্ডাজাতীয় পানীয় কিংবা খাবারে ভরসা রাখেন। সেদিক থেকে খাবারের তালিকায় প্রথমেই থাকে মৌসুমী ফল তরমুজ। গ্রীষ্মের সময় তরমুজের বেশ চাহিদা থাকে। শরীর ঠান্ডা থাকে বলে পছন্দ অনেকের। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনদের একাংশের মত, তরমুজ নিয়মিত খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও কিছু শারীরিক সমস্যার কথা বলেন কেউ কেউ।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমে যখন তরমুজ খাওয়ার ফলাফল নিয়ে এমন গুঞ্জন, সেই সময় বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়ান একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন কলকাতা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ডা. অরিত্র খাঁ। এবার তাহলে তার ভাষ্য অনুযায়ী গ্রীষ্মে তরমুজ খাওয়া সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

পুষ্টির উৎস: তরমুজে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে প্রচুর। এসব উপাদান শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে বেশ কার্যকর। আবার ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ক্যারোটিনয়েডস, লাইকোপেন শরীরকে বিভিন্ন জটিল সমস্যা থেকে রক্ষা করে। আবার এই ফলে বিদ্যমান ফ্লুইড শরীরের পানিশূন্যতাও পূরণ করে। এছাড়া হার্ট, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপকারে আসে তরমুজ।

তরমুজ কি ওজন বাড়ায়: তরমুজ হচ্ছে লো ক্যালোরি ফ্রুটস বা খাবার। এই ফল খাওয়ার ফলে ওজন বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং নিয়ম করে খেতে পারলে শরীরের ফ্যাট অনেক কমিয়ে ফেলা সম্ভব। এ জন্য ওজন বাড়ার ভয়ে তরমুজকে পরিহার না করে পুষ্টিবিদের পরামর্শে ওয়েট লস ডায়েটে রাখতে পারেন এই ফল।

জুস নয়: এমন অনেকেই আছেন যারা তরমুজ জুস বা রস করে পান করেন। এতে এই রসের মধ্যে আলাদা চিনিসহ অন্যান্য উপাদান মিশ্রণ করা যায়। ফলে পানীয়তে ক্যালোরি ভ্যালু অনেকটা বেড়ে যায়। ফলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, যেকোনো হাই ক্যালোরি পানীয় পানে অল্পতেই স্বাস্থ্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে তরমুজ কখনো জুস করে খাওয়া যাবে না।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি তরমুজ খেতে পারবেন: অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীরা তরমুজ খেতে পারবেন না। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকার কারণে অনেক সময় চিকিৎসকরাও ডায়াবেটিসে তরমুজ খেতে নিষেধ করে থাকেন। তবে ডা. অরিত্রের ভাষ্যমতে, ডায়াবেটিস রোগীরা তরমুজ খেতে পারবেন। কেননা, তরমুজের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হলেও এর গ্লাইসেমিক লোড ১০-এর নিচে। তরমুজ খেলে সুগার খুব একটা বাড়ে না। এ জন্য চাইলে ডায়াবেটিস রোগীরা তরমুজ খেতে পারেন।

দিনে কী পরিমাণ খাবেন: দিনে মোটামুটি ২৫০ গ্রামের মতো ফল খেতে পারেন। এর মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম তরমুজ খেলে খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে যাদের কিডনিজনিত সমস্যা বা ফ্লুইড রেস্ট্রিকশন রয়েছে, তারা তরমুজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading