অবৈধভাবে গড়ে উঠা সাইনবোর্ড অপসারণের নির্দেশ

অবৈধভাবে গড়ে উঠা সাইনবোর্ড অপসারণের নির্দেশ

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪, আপডেট ১৮:২৫

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের পূর্বাচল সরকারি আবাসিক প্রকল্পের আশেপাশে সরকারের অনুমতি ব্যতিত অবৈধভাবে গড়ে উঠা আবাসিক প্রকল্পে থাকা বিভিন্ন সাইনবোর্ডগুলো অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (২৬ মে) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি জানান রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি বলেন, ঢাকার পূর্বাচলে, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে সরকার পূর্বাচল টাউন প্রকল্প গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিদের বরাদ্দ প্রদান করেন এবং -এর কিছুদিন পরে ওই এলাকার আশেপাশে কালিগঞ্জ ও রূপগঞ্জ উপজেলায় অনেকগুলি আবাসন প্রতিষ্ঠান আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে প্লট বিক্রির উদ্দেশে বিভিন্ন জলাধারের মধ্যেও সাইনবোর্ড স্থাপন করে। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং উল্লেখ করা হয় যে, ওই আবাসন কোম্পানিগুলোর বৈধতা নেই এবং এদের দ্বারা জনগণ বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে।

মিডিয়া সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইট ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে রুল জারি করে ওই এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাধার যাতে ভরাট করতে না পারে সে ব্যাপারে স্থিতি অবস্থার আদেশ প্রদান করেন। পরে বিবাদীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করেন এবং বিভিন্ন অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদের কথা আদালত অবহিত করেন।

-এর বছর তিনেক পরে, পুনরায় ওই এলাকা সমূহের বিভিন্ন জলাধারে আবাসন কোম্পানিগুলো আবারো সাইনবোর্ড স্থাপন করে, ওই বিষয়ের তথ্য জানার পরে HRPB সংগঠনের একটি টিম উক্ত এলাকা ভ্রমণ করেন এবং তার সত্যতা পান এবং আদালতে উক্ত অবস্থার ছবিসহ আবেদন দাখিল করে এবং সাইনবোর্ডগুলো অপসারণের নির্দেশনা চান।

এ বিষয় শুনানির সময় আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন উক্ত সাইনবোর্ডেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন জনগণ বিভিন্নভাবে প্রতারিত হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু, আবাসন কোম্পানিগুলোর কোনো প্রকার অনুমোদন নেই। এমনকি বিভিন্ন জলাধার, খাল, পুকুরের মধ্যেও সাইনবোর্ড স্থাপন করে সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী এ সকল জলাধার ভরাট করার কোনো বিধান আইনে দেওয়া হয়নি।

আইনজীবী বলেন, আজ ওই আবেদনের উপরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, আর বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের আদালত আগামী দুই মাসের মধ্যে রূপগঞ্জ এবং কালীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় নিম্নোক্ত আবাসন কোম্পানিগুলোর সাইনবোর্ড অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আবাসন কোম্পানিগুলো হলো- প্লাটিনাম পূর্বাচল সিটি, সিটি ক্লাউড, কানাডা সিটি, জমিনদার সিটি, সিটি রিম ঝিম, ড্রিমলান সিটি, হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি, হোমটাউন পূর্বাচল সিটি, প্রিতি রিয়েলি স্টেট, মাসকট সিটি, পুষ্পিতা হাউজিং, নন্দন সিটি, বেস্ট ওয়েবসিটি, মালুম সিটি, মেরিন সিটি, স্বপন সিটি, ইউনাইটেড পূর্বাচল ল্যান্ড লিমিটেড, এজি প্রপার্টিজ লিমিটেড, নাভানা রিয়েল এস্টেট, বিশ্বাস বিল্ডার্স, নীলাচল হাউসিং, বাগান বিলাস, রূপায়ন ল্যান্ড, আদর্শ আইডিয়াল লিমিটেড, তেপান্তর হাউজিং লিমিটেড, মেট্রোপলিটন ক্রিস্টিয়ান কো-অপারেটিভ হাউজিং, গ্রাম্ফ ইন্টারন্যাশনাল, নর্থ সাউথ হাউসিং, মঞ্জিল হাউসিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট, শিকদার রয়েল সিটি, কপোতাক্ষ গ্রিন সিটি, ডিভাইন ফোল্ডিং, শতাব্দি হাউজিং, স্বর্ণ ছাযয়া রিয়েল এস্টেট, ভিশন ২১ ডিজাইন, ওশেন হ্যাভেন লিমিটেড, চন্দ্রিমা লিমিটেড এবং ফেয়ার ডিল শিপিং লিমিটেড।

উক্ত আদেশ বাস্তবায়ন করে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে কম্প্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন।

এইচআরপিবি পক্ষে পিটিশনার হলেন অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈই, বিবাদীরা হলেন- পরিবেশ, হাউসিং ও ভূমি সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, ডিজি পরিবেশ এবং পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক, ডিসি, এসপি গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ মোট ১৪ জন।

আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল, অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা ও অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা। রাজউকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইমাম হাসান। সরকার পক্ষে ছিলেন ডিএজি মাইনুল হাসান।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading