মোবাইল অ্যাপে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন

মোবাইল অ্যাপে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০১ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৭:৩০

মানুষের মন যেমন আনন্দিত হয়, তেমনি কখনো কখনো খারাপও হতে পারে। কিন্তু মন খারাপ বা বিষণ্নতাভাব যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তখন মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে নজর দিতে হবে। এবার হাতের স্মার্টফোনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে মন থাকবে চাঙা ও সুস্থ। নিতে পারবেন স্বাস্থ্যের যত্ন।

জাতিসংঘের বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে হয়, লাখ লাখ শিশু ও যুবক সহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১শ কোটি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছে। এজন্য মানসিক স্বাস্থ্য সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া যেমন জরুরি, তেমনি হাতের স্মার্টফোনের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নও নেয়া সম্ভব।

গুগল প্লে কিংবা অ্যাপ স্টোরে মানসিক স্বাস্থ্যের নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কিছু অ্যাপ রয়েছে। যেমন: সিজোফ্রেনিয়া, উদ্বেগ, বিষণ্নতা প্রভৃতি। এসব মেন্টাল হেলথ অ্যাপের মাধ্যমে মানসিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা ও তা দূর করার বিভিন্ন পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবচাইতে জনপ্রিয় অ্যাপ হলো ‘ডেলিও’ নামের অ্যাপটি। এই অ্যাপ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনেক তথ্য গ্রহণ করে থাকে। সেখান থেকে কারো প্রতিদিনের মন-মানসিকতার অবস্থা, ‘মুড সুইং’, মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের কারণ খুঁজে বের করাসহ বিভিন্ন রকম তথ্য-উপাত্ত তৈরি করে। এসব বিষয়ের ওপর বিবেচনা করে, পরবর্তীতে এই অ্যাপগুলোর পরামর্শে নির্দিষ্ট জীবনযাপনের পদ্ধতি অনুসরণ করলে মানসিকভাবে অনেকটাই সুস্থ থাকা যায়।

এছাড়া থেরাপির জন্য ‘টকস্পেস’ এবং মেডিটেশনের জন্য ‘হেডস্পেস’ অ্যাপের জনপ্রিয়তাও অনেক। টকস্পেস মূলত একটি অনলাইনভিত্তিক থেরাপি প্রতিষ্ঠান। শিশু-কিশোর এবং বয়স্করাও বিশেষায়িত থেরাপি এবং সাইকিয়াট্রিক সেবার জন্য এই অনলাইন অ্যাপের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে, হেডস্পেস অ্যাপ মূলত বেশি ব্যবহার করা হয় তাৎক্ষণিক মানসিক সংকট দূর করার জন্য। যদি কেউ তার চিন্তা-ভাবনা কিংবা আচরণের অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখতে পান, তাহলে এই অ্যাপটি তার অসাধারণ সঙ্গী হিসেবে সহায়তা করবে। অনেক বেশি বিষাদ, দুশ্চিন্তা কিংবা সম্পর্কের টানা-পোড়েনের মধ্যে থাকলেও অনেকে এই অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এরকম বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্যের জন্য অনলাইনে ‘আইব্রিদ’, ‘মাইন্ডশিফ্ট’, ‘হ্যাপিফাই’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ও সুপরিচিত অ্যাপ রয়েছে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে মানসিক সংকটগুলো চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুশীলনের মাধ্যমে মনকে আবারও সতেজ করে তোলা যায়। পাশাপাশি এমন অ্যাপও আছে, যেগুলোর কাজ হলো ব্যবহারকারীর স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করা, তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মানসিক শক্তি জোগানো, চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। মেডিটেশনের মাধ্যমে এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

তবে পেশাদার মনোবিদের বিকল্প হিসেবে এই অ্যাপগুলোকে ব্যবহার না করার জন্য বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে থাকেন। প্রাথমিক পর্যায়ের মানসিক সমস্যায় এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কারও অবস্থা যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে অ্যাপের ওপর নির্ভর না করে, অবশ্যই নিবন্ধিত মনোচিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading