ভরা মৌসুমেও দেখা নেই ইলিশের, হতাশ জেলেরা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৩:৫০
ভরা মৌসুমেও মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ পাচ্ছেন না ভোলার জেলেরা। এতে অভাব, অনটন আর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
কাঙ্ক্ষিত ইলিশের আশায় ধার-দেনা করে আর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল বানিয়ে ও নৌকা মেরামত করলেও সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন জেলেরা।
তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মিলবে নদীতে।
মৎস্যবিভাগে হিসেবে, গত ৪ বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন এবং আহরণ ভালো হয়েছে। তার মধ্যে ২০২১ সালে এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন, ২০২২ সালে এক লাখ ৭৮ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন, ২০২৩ সালে এক লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ মেট্রিক টন এবং সবশেষ ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৮২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।
অর্থাৎ প্রতি বছর ইলিশ আহরণ ও লক্ষ্যমাত্রা মাত্রা বাড়লেও এ বছর ভরা মৌসুমে ইলিশের প্রাপ্যতা এখন পর্যন্ত কম থাকায় হতাশ জেলেরা।
জানা গেছে, নদীতে ইলিশ ধরার ওপর নির্ভরশীল ভোলার ২ লাখের অধিক জেলে। মাছ শিকারের উদ্দেশে প্রতিদিন জাল ও নৌকা-ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন তারা। কিন্তু চলতি ভরা মৌসুমে সারা দিন জাল বেয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ পাচ্ছেন না তারা। এতে মাছ শিকারে গিয়ে যে খরচ হয় তার অর্ধেকও উঠছে না আহরিত ইলিশ বিক্রির টাকায়। এতে চরম সংকটে পড়েছেন জেলেরা। ধার-দেনা আর ঋণ পরিশোধের চিন্তায় চরম হতাশায় ভুগছেন।
জেলে বশির মাঝি ফারুক ও বিল্লাল মাঝি বলেন, মার্চ-এপ্রিল দু-মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর জেলেরা নদীতে নেমেছেন কিন্তু নদীতে ইলিশ সংকট। সারা দিন জাল বেয়ে তেমন একটা মাছ উঠছে না।
ইলিশা ঘাটের আড়তদার মাসুদ রানা বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। বিগত বছর এমন দিনে আড়ত থেকে ২০/২৫ ঝুড়ি মাছ মোকামে পাঠাতাম। কিন্তু এ বছর ২ ঝুড়িও পাঠানো যাচ্ছে না। নদীতে ইলিশের আমদানি খুবই কম।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, এখন ইলিশ একটু কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বৃষ্টি বাড়লে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবেন জেলেরা। এ বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।
ইউডি/কেএস

