মাথাব্যথার কারন বিদেশি ঋণ, লোভের ফাঁদে পা না দেয়ার আহ্বান অর্থনীতিবিদদের

মাথাব্যথার কারন বিদেশি ঋণ, লোভের ফাঁদে পা না দেয়ার আহ্বান অর্থনীতিবিদদের

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১৮:৪৫

সময়ের সঙ্গে বিদেশি ঋণ দেশের অর্থনীতিতে যেন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। বাইরে থেকে ঋণ নিয়ে বড় বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় মূলত চাপ বাড়ছে অর্থনীতির ওপর। অদক্ষতা, কাজে ধীরগতির পাশাপাশি বাড়তি ব্যয় ছাড়াও ঋণ পরিশোধের চাপ এ দুশ্চিন্তার নেপথ্য কারণ। তবে সুদ পরিশোধের ব্যয় দ্রুত গতিতে বাড়লেও সমান্তরালে নজর নেই পাইপলাইনে থাকা রেয়াতি সুদের অর্থছাড়ে। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা না বাড়ালে এই সংকট আরও বাড়বে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই বিদেশি ঋণ বাবদ ব্যয় ছাড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। যেখানে মূল টাকার চেয়ে বেশি হারে বাড়ছে সুদের পরিমাণ। অন্যদিকে, আগামী পাঁচ বছরে বিদেশি সুদের জন্য প্রায় ৩ গুণ অর্থ হিসাব করে রেখেছে অর্থ বিভাগ।

ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সুদ-আসলে বিদেশি সংস্থা ও অর্থায়নকারী দেশগুলোকে ৩০৬ কোটি ডলার দিতে হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে যা ৩৩৫ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। যেখানে আগের অর্থবছরে এই অংক ছিল ২৬৭ কোটি ডলারের ঘরে। অন্যদিকে, বাড়তি এই ৬৮ কোটি ডলারের মধ্যে প্রায় ৪৪ কোটিই ব্যয় হয়েছে সুদের পেছনে।

এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপাত দৃষ্টিতে পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক মনে হলেও সতর্ক না থাকলে বিপদ বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, তহবিল কিংবা অর্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দূরদর্শী হতে হবে। সেই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। তা না হলে সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি করা কঠিন হবে, এর থেকে (বিদেশি ঋণের প্রবণতা) বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

একই অভিমত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের। তার ভাষ্য, বাইরে থেকে যদি এত টাকা নেই, তবে এর সুদ বাইরে চলে যাবে। আর যদি ডেপ্রিসিয়েশন (অবমূল্যায়ন) হয়, যেটা উন্নয়নশীল দেশে হবেই, তবে দায়ও বেড়ে যাবে। আর সম্প্রতি কিন্তু বাইরের লোকেরা টাকা ফেরত নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতা আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বরাদ্দও বাড়িয়েছে সরকার। যেমন, চলতি অর্থবছর শুরুতে এই খাতে সোয়া ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, সংশোধনে তা বাড়ানো হয় আরও সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বাবদ ব্যয় ছাড়াতে পারে ২৬ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাবে মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে যা পৌনে তিন গুণ বাড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলেসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে অধিক পরিমাণে বাজেটীয় সমর্থন নিচ্ছে। এই টাকাগুলো দিয়ে বিদেশের ঋণগুলোও শোধ করছে সরকার। ফলে যেটুকু স্বল্প সম্পদ রয়েছে, এর পুরোটাই কিন্তু বিদেশের টাকা।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading