টানা বৃষ্টিতে শীতের আগাম সবজির ক্ষতি
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, আপডেট ০৮:০০
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে শীতকালীন সবজি চাষ করা কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অনেক ক্ষেতে পানি ওঠায় গাছ নষ্ট হয়েছে। এতে অন্তত ২০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাঠের পর মাঠ সবজির ক্ষেত এখন পানির নিচে। গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এ অবস্থা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক মাঠ পুরোটাই তলিয়ে গেছে। আগাম আবাদ করা সবজির ক্ষেত পানির নিচে থাকায় উৎপাদনে ধস নামতে পারে বলে শঙ্কা কৃষক ও কৃষি বিভাগের। সাত দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদীর পানিও বেড়েছে ১ দশমিক ৫০ মিটার। গত ১৭ সেপ্টেম্বর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৮৮ মিটার।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার (১৩ দশমিক ৮০ মিটার) কাছাকাছি রয়েছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডার হারিফুন নাঈম ইবনে সালাম এ তথ্য জানিয়েছেন। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমির ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। সাঁড়ার মোল্লারচর, বিলবামনি, সাহাপুরের দাদাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের শত শত হেক্টর ক্ষেত এখন পানির নিচে।
সাহাপুর গ্রামের দুর্জয় ইসলাম লিমন প্রতি বছর শীতকালীন সবজি আবাদ করেন। তাঁর ভাষ্য, গত বছর তিন বিঘা জমিতে আবাদ করে খরচ বাদে লাভ করেছিলেন ৪ লাখ টাকা। এবারও লাভের আশায় ফুলকপি, টমেটো, গাজরসহ শীতকালীন সবজির আবাদ করেন প্রায় ৪ বিঘা জমিতে। তবে অসময়ের বৃষ্টিতে খরচের টাকাও তুলতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১৫ গার্ডারের মধ্যে ১৩টির নিচে পানি উঠেছে। বাকি দুটিতেও পানি উঠতে পারে। ইতোমধ্যে আশপাশের চরাঞ্চল ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। জানা গেছে, উপজেলার সাহাপুর, সলিমপুর, মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, লক্ষ্মীকুণ্ডা ও পাকশী ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ হয়। গত বছর ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮১১ টন সবজি উৎপাদন হয়েছিল।
চলতি বছর ৪০০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ৯০০ হেক্টরে ফুলকপি, ২১৫ হেক্টরে বাঁধাকপি, ৩৮০ হেক্টরে ওলকপি, ৯২০ হেক্টরে গাজর, ৭০ হেক্টরে টমেটো, ১৫০ হেক্টরে লাউ, ১ হাজার ১৮০ হেক্টরে শিম, ১১০ হেক্টরে লালশাক, ৯০ হেক্টরে মটরশুঁটি, ৯৩৩ হেক্টরে মুলা, ১২০ হেক্টরে পালংশাক, ১১০ হেক্টরে পুঁইশাক ও ১৫০ হেক্টর জমিতে ধনেপাতা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আবাদ শুরু হয়েছিল। তবে বৃষ্টিতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা দেখছেন না কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রতি হেক্টরে ২৫ টন লাউ, ২১ টন ফুলকপি, ৪০ টন বাঁধাকপি, ২০ টন ওলকপি, ৪০ টন গাজর, ৫৫ টন টমেটো, ৪৫ টন লাউ, ২২ টন শিম, ১২ টন লালশাক, ৯ টন মটরশুঁটি, ৩৫ টন মুলা, ১২ টন পালংশাক, ৩৫ টন পুঁইশাক ও ১০ টন ধনেপাতা উৎপাদনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারি গ্রামের কৃষক আব্দুল বারি ওরফে কপি বারী বলেন, হাজারো ছোট কৃষক শীতকালীন সবজি আবাদ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলার ৩৮ হাজার কৃষকের মধ্যে সবজি আবাদ করেন প্রায় ২১ হাজার। শীতকালীন সবজি আবাদে ঈশ্বরদীর পরিচিতি রয়েছে।
জাতীয়ভাবে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজের ভাষ্য, বৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পোষানোর সুযোগ নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, ঈশ্বরদী সারাদেশের মধ্যে শীতকালীন সবজি উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। এবার বৃষ্টিতে কৃষকরা সব ধরনের সবজির আবাদেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।
ইউডি/কেএস

