রাশেদ মাকসুদ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: পুঁজিবাজার সংস্কারে উদ্যোগ, টাস্কফোর্স গঠন

রাশেদ মাকসুদ কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: পুঁজিবাজার সংস্কারে উদ্যোগ, টাস্কফোর্স গঠন

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার , ০৮ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:৩০

পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নই লক্ষ্য

আসাদুজ্জামান সুপ্ত: পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সোমবার (০৭ অক্টোবর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সই করা এক আদেশে এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বিএসইসি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারের আন্তর্জাতিক মানের সুপারিশ অর্জনের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পুঁজিবাজারের অংশীজনদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংগঠন (ডিবিএ, বিএমবিএ, এসিআরএবি, বিএপিএলসি), অর্থনীতিবিদ, পেশাদার (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি প্রভৃতি), বিনিয়োগকারী ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গের সুচিন্তিত মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিএসইসি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। বিএসইসি গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি নির্ধারণ ১৭টি। তবে পরে আরও কোনো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে টাস্কফোর্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যপরিধি বাড়াতে পারবে বিএসইসি। টাস্কফোর্সকে তাদের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে যৌক্তিক সময়ে টাস্কফোর্স তাদের সুপারিশ বিএসইসিতে জমা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

শিগগিরই কার্যক্রম শুরু, থাকবে ফোকাস গ্রুপ: সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই টাস্কফোর্স অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনাপূর্বক একটি যৌক্তিক সময়ে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন (বিদ্যমান কাঠামো পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের নিমিত্ত সুপারিশ প্রদান-সহঅন্যান্য বিষয়াদি) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নিকট হস্তান্তর করবে। এই টাস্কফোর্সের কার্যালয় টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত হবে। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-সহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান যেমনঃ ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল-সহবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য পক্ষসমূহ টাস্কফোর্সের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহসহ সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করবে; পরবর্তীতে কমিশন প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যক্তিকে টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে; বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এ টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। এই টাস্কফোর্সের অধীনে বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক ফোকাস গ্রুপ থাকবে। প্রতিটি ফোকাস গ্রুপ নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে টাস্কফোর্সকে সুপারিশ প্রদান করবে। উল্লেখ্য, কমিশন অবহিত করে টাস্কফোর্স উপযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ফোকাস গ্রুপ গঠন করবে।

টাস্কফোর্সের সদস্য হলেন যারা

পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোং-এর জ্যেষ্ঠ অংশীদার এ এফ এম নেসার উদ্দীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তফা আকবর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন। টাস্কফোর্সকে তাদের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে যৌক্তিক সময়ে টাস্কফোর্স তাদের সুপারিশ বিএসইসিতে জমা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

পরিচালনা করবে যে ধরণের কার্যক্রম

আরেফিন বাঁধন: বিএসইসি বলছে, এই টাস্কফোর্সের মূল দায়িত্ব হবে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য ১৭টি কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর মধ্যে অন্যতম হলো-পুঁজিবাজারের আকার তথা ‘জিডিপি ও বাজার মূলধন’-এর অনুপাত কম হওয়ার প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করে উত্তরণের জন্য সরকারের আর্থিক খাতের নীতি প্রণয়নের প্রস্তাবনা; দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের জন্য সরকারের আর্থিক নীতি প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করা; আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পুঁজিবাজারের সুশাসন উন্নীতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করা ও সমাধানের সুপারিশমালা প্রণয়ণ করা।

এছাড়াও বিএসইসি’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, অভ্যন্তরীণ সুশাসন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে প্রযুক্তি ও অটোমেশনের প্রয়োগ, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোর সুপারিশ করা, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল-এর তদারকি কার্যক্রম বিশ্বমানে উন্নীতকরণ-সহ উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে যুগোপযোগীকরণের সুপারিশ প্রণয়ন; প্রাইভেট প্লেসমেন্ট/অফার-এর মাধ্যমে ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ ইস্যু সংক্রান্ত সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইস্যু অফ ক্যাপিটাল) রুলস,২০০১ যুগোপযোগীকরণের সুপারিশ প্রণয়ন; তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, কর্পোরেট ডিজক্লোজার, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ-সহ কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করা।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে নজর

রিন্টু হাসান: এছাড়াও এই টাস্কফোর্স আরও যে ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে তার মধ্যে- বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ ও সমন্বয় এর গাইডলাইন এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে; বাজারে কারসাজি, সুবিধাভোগী ব্যবসায় লেনদেন ও অন্যান্য অনিয়মের বিচার ও জরিমানায় সমতা আনয়নের জন্য বিদ্যমান আইনের শাস্তির ধারার অধীনে একটি সুনির্দিষ্ট পেনাল কোড বা শাস্তির বিধিমালা প্রণয়ন করা; মার্জিন রুলস, ১৯৯৯ যুগোপযোগীকরণ-সহ, বিদ্যমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও বিজনেস ইন্টেলিজেন্স মডিউল সমৃদ্ধ বিশ্বমানের অনলাইন ও অফলাইন সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম বা বাজার তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিরুপণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়ন; বর্তমান বাজার কাঠামো-এর মূল্যায়ন, বাজারের গভীরতা, তারল্য ও পণ্য বৈচিত্র্য-কে বিবেচনাপূর্বক দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কিভাবে আরো আকৃষ্ট করা যায় সেই কৌশল প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান; পুঁজিবাজারের কার্যক্রমে অটোমেশন বৃদ্ধির মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সুশাসন এবং বিনিযোগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উন্নয়ন এবং পুঁজিবাজার উপযোগী ফিনটেক টেকনোলজি প্রচলন এবং পুঁজিবাজারের প্রযুক্তিগত সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করা। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর (বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইডিআরএ, এমআরএ, এনবিআর, আরজেএসসি ইত্যাদি) সাথে সমন্বয় সাধনের উপায় নির্ধারণে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি বা নির্দেশিকা প্রণয়ন।

বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যেমনঃ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ – সহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যুগোপযোগীকরণের সুপারিশ প্রণয়ন; ডেট ও ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ ইস্যু সংক্রান্ত বিধি-বিধানের যেমনঃ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস ২০১৫, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (রাইট ইস্যু) রুলস, ২০০৬, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডেট সিকিউরিটিজ), রুলস ২০২১, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইনভেস্টমেন্ট সুকুক), রুলস ২০১৯, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সম্পদ ভিত্তিক সিকিউরিটি ইস্যু) বিধিমালা, ২০০৪-সহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যুগোপযোগীকরণের সুপারিশ প্রণয়ন করা।

বিএসইসি কার্যালয়ের নিরাপত্তায় থাকবে সশস্ত্র বাহিনী

কিফায়েত সুস্মিত: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যালয়ে নিরাপত্তা দেবে সশস্ত্র বাহিনী। সোমবার বিএসইসি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী এর সুরক্ষায় দায়বদ্ধ থাকবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যক্রম যথাযথ প্রক্রিয়ায় ও নির্বিঘœভাবে করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় গত রবিবার বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী এবং সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিএসইসি’র সরকার ঘোষিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএসইসি’র সুষ্ঠু নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগারগাঁও শেরে বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহায়তা করবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। গত রবিবার পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতনের জন্য বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের বক চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা। রবিবার তারা অভিযোগ করেন, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হওয়ায় চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে হবে। এর আগে গত শনিবারের মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবারও লংমার্চ কর্মসূচি দিয়ে বিনিয়োগকারীরা বৃষ্টির মধ্যেও মতিঝিলে জড়ো হন এবং বিএসইসি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। তারা ‘অযোগ্য বিএসইসি চেয়ারম্যান হঠাও, পুঁজিবাজার বাঁচাও’-স্লোগান দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ০৮ অক্টোবর ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

বিনিয়োগকারীরা চায় স্থিতিশীল পুঁজিবাজার: এদিকে, এর আগে সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিএসইসি ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ সময় তারা দেশের অস্থিতিশীল পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র পক্ষ থেকে রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান। বিনিয়োগকারীদের ভাষ্য, আমরা বিএসইসিকে বাধা দিতে নয়, বরং সহযোগিতা করতে চাই। আমরা এসেছি পুঁজিবাজারকে একটা দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রাকচারে দাঁড় করানোর জন্য। তবে আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসিনি। তবে এ মুহূর্তে আমরা পুঁজিবাজারের স্বার্থে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই। বিনিয়োগাকারীরা জানান, আমাদের দাবি পরিষ্কার- একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। আমরা আন্দোলন স্থগিত করিনি। আমরা লুকিয়ে কোনো কাজ করব না। আমরা বর্তমানে শেয়াবাজারের স্বার্থে বিএসইসিকে সময় দিতে চাই।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading