টাস্কফোর্স গঠন: বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নই লক্ষ্য
আসাদুজ্জামান সুপ্ত । মঙ্গলবার , ০৮ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:৩৫
পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সোমবার (০৭ অক্টোবর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সই করা এক আদেশে এ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বিএসইসি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারের আন্তর্জাতিক মানের সুপারিশ অর্জনের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পুঁজিবাজারের অংশীজনদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংগঠন (ডিবিএ, বিএমবিএ, এসিআরএবি, বিএপিএলসি), অর্থনীতিবিদ, পেশাদার (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি প্রভৃতি), বিনিয়োগকারী ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গের সুচিন্তিত মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিএসইসি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। বিএসইসি গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি নির্ধারণ ১৭টি। তবে পরে আরও কোনো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে টাস্কফোর্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যপরিধি বাড়াতে পারবে বিএসইসি। টাস্কফোর্সকে তাদের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে যৌক্তিক সময়ে টাস্কফোর্স তাদের সুপারিশ বিএসইসিতে জমা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিএসইসি।
টাস্কফোর্সের সদস্য হলেন যারা
পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোং-এর জ্যেষ্ঠ অংশীদার এ এফ এম নেসার উদ্দীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তফা আকবর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন। টাস্কফোর্সকে তাদের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে যৌক্তিক সময়ে টাস্কফোর্স তাদের সুপারিশ বিএসইসিতে জমা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিএসইসি।
শিগগিরই কার্যক্রম শুরু, থাকবে ফোকাস গ্রুপ: সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই টাস্কফোর্স অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনাপূর্বক একটি যৌক্তিক সময়ে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন (বিদ্যমান কাঠামো পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের নিমিত্ত সুপারিশ প্রদান-সহঅন্যান্য বিষয়াদি) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নিকট হস্তান্তর করবে। এই টাস্কফোর্সের কার্যালয় টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত হবে। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-সহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান যেমনঃ ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল-সহবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য পক্ষসমূহ টাস্কফোর্সের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহসহ সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করবে; পরবর্তীতে কমিশন প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যক্তিকে টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে; বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এ টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। এই টাস্কফোর্সের অধীনে বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক ফোকাস গ্রুপ থাকবে। প্রতিটি ফোকাস গ্রুপ নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে টাস্কফোর্সকে সুপারিশ প্রদান করবে। উল্লেখ্য, কমিশন অবহিত করে টাস্কফোর্স উপযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ফোকাস গ্রুপ গঠন করবে।
ইউডি/এজেএস

