বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা: গণসচেতনতার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে
পারভেজ আহমেদ। শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৩৮
ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় সচেতন রয়েছে। এটি কমাতে বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ গণসচেতনতার ওপর জোর দিয়ে কাজ চলছে। এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। সম্প্রতি রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমানোর বিষয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা পুরনো সমস্যা। অন্তর্র্বতী সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। ফলে এই সরকারের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে এটির সমাধান দেয়া সম্ভব নয়। তবে সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে জলাবদ্ধতা কমানোর চেষ্টা চলছে। হাসান আরিফ আরও বলেন, জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য জনসচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে। যত্রতত্র ময়লা, পলিথিন ব্যাগসহ আবর্জনা ফেলায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এগুলো বন্ধে জনগণকে আরও কিভাবে সচেতন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ সময় শিগগিরই এর কিছু সুফল পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১০ টিম : এদিকে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১০টি সমন্বয়ক ও তদারক কমিটি। প্রতিটি কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৭ জন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ কর্মকর্তা রয়েছেন। মশক নিধন অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সকল সিটি কর্পোরেশন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভায় কাজ করছে ৩ হাজার ২১৪ জন মশককর্মী। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মশক নিধন অভিযান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও নিবিড়ভাবে তদারকি করতে ইতোমধ্যে ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৪টি টিম এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৩টি টিম কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কাজ পরিচালনার জন্য পৃথক একটি টিম গঠন করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনসহ সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের এক জরুরি সভায় কমিটিগুলো গঠন করা হয়।
এছাড়াও, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সাভার, দোহার, তারাব, রূপগঞ্জ ও অন্যান্য পৌরসভার জন্য আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডেঙ্গুরোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার কাজ সমন্বয় এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের টিম প্রধান করা হয়েছে। গঠিত টিমগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩টি ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব এলাকা পরিদর্শন এবং ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম মনিটরিং ও তদারকি করছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য সংগ্রহ কমিটির কাছে নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত সচিত্র প্রতিবেদন দাখিল করছেন। এই কমিটি ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল বিনষ্ট, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং লার্ভা ও মশা নিধনসহ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
ইউডি/এজেএস

