মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: উত্তাপ, উদ্বেগ
আসাদ এফ রহমান। রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৩২
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উত্তাপ কোন পথে এগোচ্ছে তা নির্ধারণ করা জটিল হয়ে পড়েছে। হামাস প্রধান সিনওয়ারের মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক জটিলতা, আরব বিশ্বের ঐক্য এবং মিসরের সামরিক শক্তির পুনরুত্থান ইসরায়েলের জন্য বিপদের শঙ্কা তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) এই হামলা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের সিজারিয়ায় নেতানিয়াহুর বাড়িতে হিজবুল্লাহর ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে হামলার সময় নেতানিয়াহু, তার স্ত্রী এবং পরিবার সিজারিয়াতে ছিল না। এছাড়া এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলেও দাবি করেছে দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও নেতানিয়াহুর দপ্তর উভয়ই ড্রোন হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ড্রোনটি লেবানন থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি সরাসরি নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হেনেছে। এটি লেবানন থেকে ৭০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে নেতানিয়াহুর বাড়িতে আছড়ে পড়ে। হামলার পর পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এছাড়া একই সময় তেলআবিবে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। যে ড্রোনটি নেতানিয়াহুর বাড়িতে গিয়ে পড়েছে সেটির সঙ্গে আরও দুটি ড্রোন তেলআবিবে পাঠিয়েছিল হিজবুল্লাহ। তবে সেগুলো ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামলার সময় গিলিলত সামরিক ঘাঁটিতেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। তবে সেনাবাহিনীর পরবর্তীতে জানায় ড্রোনগুলো এই এলাকায় আসেনি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে স্থল হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে ইসরায়েলের গভীরে ড্রোন ও রকেট হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহও। এখন পর্যন্ত তারা যত হামলা চালিয়েছে সেগুলোর মধ্যে নেতানিয়াহুর বাড়িতে ড্রোন আছড়ে পড়ার বিষয়টিই সবচেয়ে বড়। যদিও নেতানিয়াহু ওই সময় বাড়িতে ছিলেন না বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে তার বাড়িতে হামলার বিষয়টি হিজবুল্লাহর জন্য একটি ‘প্রতীকি’ জয় হিসেবে বলা যায়। কারণ নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত নেতানিয়াহুর বাড়িতেও নিজেদের ড্রোন নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে সশস্ত্র এ গোষ্ঠী।
প্রসঙ্গত, ইরানের সমর্থন ও মদতপুষ্ট হিজবুল্লাহ বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী।
লেবাননভিত্তিক এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংসের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত ঘেঁষে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল অবস্থিত। এই অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর প্রধান ঘাঁটি এবং গোষ্ঠীটির অধিকাংশ সামরিক স্থাপনার অবস্থান এখানে। গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ। পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে ইসরায়েলও। গত এক বছরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ৫ শতাধিক। তবে আইডিএফের দাবি, এই নিহতদের মধ্যে ৯৪০ জন হিজবুল্লাহ কমান্ডার ও যোদ্ধা রয়েছে।
ইউডি/এজেএস

