আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৪ : ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনার পারদ

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৪ : ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনার পারদ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫: ৩০

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, ভোট নভেম্বর ৫

আসাদ এফ রহমান : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৫ নভেম্বর। এবারের প্রার্থী ডেমোক্র্যাটিক দলীয় কমলা হ্যারিস আর রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো নারীকে দেখারও সম্ভাবনা রয়েছে এবারও। সে হিসেবে এবারের নির্বাচন ঘিরে রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়ছে। বাকযুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস পরস্পরকে দোষারোপের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে সক্ষম এমন সুইং স্টেট মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে চলেছে বাংলাদেশীসহ প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ভোট।

এর আগে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ট্রাম্পের কাছেই হেরে গিয়েছিলেন তিনি। তাই এবার জিতলে কমলা হ্যারিসই হবেন আমেরিকার প্রথম নারী এবং দ্বিতীয় কৃষ্ণকায় প্রেসিডেন্ট। কৃষ্ণকায়দের মধ্যে প্রথম জন ছিলেন বারাক ওবামা। কমলা হ্যারিসের মা ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভ‚ত, বাবা ছিলেন কৃষ্ণকায়। এর আগে হিলারিকে হারিয়ে ট্রাম্প ২০১৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কিন্তু পরের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান। কিন্তু তিনি কখনো পরাজয় মেনে নেননি। বাইডেনের নির্বাচন আমেরিকার পার্লামেন্ট (কংগ্রেস) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার সময়, ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্বের মতো তার সমর্থকদের দিয়ে কংগ্রেস ভবন ঘেরাও করে বাইডেনের নির্বাচন প্রতিহত করতে চেষ্টা করেন। এইবার হেরে গেলে তিনি হয়তো তার চেয়েও বড় হাঙ্গামা শুরু করতে পারেন।

আমেরিকা গোটা বিশ্বের কাছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্ররূপে স্বীকৃত। গণতন্ত্রের পুরোধা, ঐতিহ্যের প্রতীক, গর্বিত মুরব্বি আর উপদেশদাতা আমেরিকা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট দেশটির নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না। তিনি নির্বাচিত হন ইলেকটরদের ভোটে। সাধারণ নাগরিকরা ইলেকটরদের নির্বাচন করে। মার্কিন রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী দল মাত্র দুটি-রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। সাধারণত এই দুই দলের যেকোনো একটি দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অবশ্য ছোট ছোট কিছু রাজনৈতিক দল যেমন লিবার্টারিয়ান, গ্রিন, ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি-তারাও কখনো কখনো প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী মনোনয়ন ঘোষণা করে। রিপাবলিকান পার্টি একটি রক্ষণশীল দল হিসেবে পরিচিত। এ দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন, জর্জ ডাবিøও বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে ডেমোক্রেটিক দল তুলনামূলকভাবে উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। দলটি থেকে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ কেনেডি, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ৮০ বছর। বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয় বলে ২০২৪ সালে পুনর্র্নিবাচনী প্রস্তুতিও তিনি শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন। মূলত এরপর থেকেই উভয় শিবিরে জোর প্রচার শুরু হয়। তবে প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সেটি নির্ধারণ হবে আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে। ভোটাররা চার বছর মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। এ নিয়ে প্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। তাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, বিশ্ববাসীর উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ‌উজ্জীবিত ট্রাম্প

আশিকুর রহমান : রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি সুখবর নিয়ে এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জরিপ। এতে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তায় কমলা হ্যারিসকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প বর্তমানে ৪৭ শতাংশ জনসমর্থন পাচ্ছেন, যা তার প্রতিদ্ব›দ্বী কমলা হ্যারিসের ৪৫ শতাংশ সমর্থনের তুলনায় বেশি। গত আগস্টে একই ধরনের জরিপে কমলা দুই পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু এখন ভোটারদের সমর্থনে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে এগিয়ে গেছেন। গত ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ১,৫০০ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, শুধু সমর্থন নয়, ট্রাম্পের প্রতিদ্ব›িদ্বতার ক্ষেত্রেও ৪৯ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে, যেখানে কমলার পক্ষে রয়েছে ৪৬ শতাংশ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হেরে যাবার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। প্রকৃতপক্ষে তিনি বাইডেনকে কখনো প্রেসিডেন্ট মেনে নেননি, তার মতে তাকে কোনো না কোনোভাবে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বড় শক্তি হলো রিপাবলিকান পার্টিতে তার গোঁড়া সমর্থক দল, যারা অন্য দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের গলাবাজিতে প্রফুল্ল এবং ট্রাম্পের আমেরিকাকে আবার মহৎ করার ডাকে উজ্জীবিত। আমেরিকার অর্থনীতি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, ফলে বেশির ভাগ জনগণ যারা আগে হাই স্কুল পাশ করে স্থানীয় কোনো কল-কারখানায় ভালো বেতনে কাজ করত, তারা দারুণভাবে পিছিয়ে পড়ছে। ট্রাম্প তাদের এই হতাশাকে কাজে লাগাচ্ছে। রিপাবলিকান দলের অন্য নেতারা কেউই ট্রাম্পকে ডিঙিয়ে রাজনীতির মাঠে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারছেন না। তাদের অনেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্যান্য পদে নির্বাচন করছেন, আবার কেউ কেউ নীরব দর্শক-যাদের মাঝে আছেন ফ্লরিডার প্রাক্তন গভর্নর জেফ বুশ এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিট রমনি। ট্রাম্পই রিপাবলিকান পার্টির একছত্র নেতা এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী।

প্রতিটা জরিপেই জনমত দুই থেকে তিন শতাংশ ওঠা-নামা করছে, কারণ রণক্ষেত্র স্টেটসের জনমত যাচাইয়ে প্রতিটি স্টেটসেই দুজনের পার্থক্য একেবারে নগণ্য। সাতটি রণক্ষেত্র স্টেটসের মধ্যে হ্যারিস চারটিতে দুই শতাংশ এগিয়ে আছেন, অন্য তিনটিতে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকা প্রায় একই সংখ্যায়। তাই এখন পর্যন্ত নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রণবাদ্য বাজছে। কে হচ্ছেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? সম্ভবত, এইবার জনমত জরিপ দিয়ে আগেভাগে তা অনুমান করা যাবে না। উত্তরটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের রাত পর্যন্ত।

এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে থাকে অভিবাসন ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে স¤প্রতি আমেরিকাকে ‘গোটা বিশ্বের ময়লার ভাগাড়’ বলে অভিহিত করেন তিনি। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছি। বাকি বিশ্বের জন্য আমরা একটি ময়লার ভাগাড়’। এখানে ‘আবর্জনা’ শব্দের মাধ্যমে অভিবাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করেন এই রিপাবলিকান প্রার্থী। কট্টর অভিবাসীবিরোধী অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এর আগে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক শিবির।

কমলা হ্যারিস

কমলার সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি

শহীদ রানা : আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইতিহাস নেই। এবার সেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি কমলা হ্যারিসের সামনে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি নিজেও এ কথা জানান। শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কমলা হ্যারিস। দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রেডিও টক শো ও পডকাস্টে কথা বলছেন তিনি। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান প্রায় কাছাকাছি।

আমেরিকার জাতীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয় আমেরিকা কি প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের জন্য প্রস্তুত? জবাবে কমলা বলেন, ‘পুরোপুরিভাবে’। তার প্রার্থিতা দেশের দৃশ্যপট বদলে দেবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, কমলা হ্যারিস বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন গত চার বছর। ধরে নেওয়া হচ্ছে নির্বাচিত হলে তিনি বাইডেনের পথেই হাঁটবেন। কিন্তু তিনি যখন বাইডেনের ছায়া থেকে বের হয়ে আসবেন, ধারণা করা হচ্ছে, অনেক নীতি নির্ধারণে তিনি হবেন বাইডেনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ।

উল্লেখ্য, আমেরিকার বড় দুটি দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সাধারণত দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে হয়। প্রচলিত প্রথা হলো, বর্তমান প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচন করতে চাইলে তার দলের বড় নেতারা কেউ তাকে প্রাইমারি নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ করেননি। প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনঃনির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন। প্রায় একবছর ধরে তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দেশের অর্থনীতি তার পক্ষে কাজ করছিল। যদিও বড় বড় অর্থনীতিবিদরা একসময় বলছিলেন যে কোনো সময় বড় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে, কিন্তু তার সময়ে অর্থনীতি ভালোই যাচ্ছে-স্টক বাজার শক্তিশালী এবং বেরকারত্ব নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। কিন্তু তার বিপদ দেখা দিলো অন্যভাবে– বয়সের চাপে নির্বাচনি প্রচারে তেমন আলো ছড়াতে পারছিলেন না তিনি এবং তার জনসমর্থন দিন দিন কমে যাচ্ছিল।

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে বাইডেন খুব এলোমেলো কথা বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের হতাশা দিন দিন বাড়ছিল, কিন্তু কে বলবে একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টকে যে দলের স্বার্থে তাকে সরে যেতে হবে! অবশেষে এগিয়ে এলেন ন্যান্সি পেলোসি, প্রাক্তন স্পিকার-যিনি অনেক বছর পার্লামেন্টে ডেমোক্রেটিক দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার যুক্তি ছিল, ট্রাম্পকে নির্বাচনে হারাতেই হবে, এর জন্য বাইডেন উপযুক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী নন। রাতারাতি বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বেজে গেলো-দলের অন্য নেতারা পেলোসিকে জোরালোভাবে সমর্থন করলেন। এই বছরের ২১ জুলাই বাইডেন তার ভইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেন। রাতারাতি ডেমোক্র্যাটরা হ্যারিসকে গ্রহণ করে নিল, হ্যারিসের উষ্ণ হাসি এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠ নির্বাচনি প্রচারণায় আবার ডেমোক্র্যাটদের জন্য আলো ছড়াতে লাগল।

আগাম ভোট দিয়েছেন ৩ কোটি ভোটার

রিন্টু হাসান : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য বাকি আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়। দুই প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচারণায় ব্যস্ত। উভয় প্রার্থীই প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আগামী ৫ নভেম্বর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন ভোটাররা। তবে এর মধ্যেই আগাম ভোটদান শুরু হয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার ৬০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আগাম ভোটদানে ২৮ মিলিয়নেরও বেশি বা ২ কোটি ৮০ লাখেরও ভোটার ভোট দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের সংকলিত তথ্য অনুসারে, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটদান করেছেন।

তথ্য অনুসারে, যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রায় ৪৩ শতাংশ নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট, অন্যদিকে ভোটদাতাদের ৩৯ শতাংশ হচ্ছেন নিবন্ধিত রিপাবলিকান। নর্থ ক্যারোলিনা এবং জর্জিয়ার মতো যুদ্ধক্ষেত্র রাজ্যগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক আগাম ভোটদানের খবর পাওয়া গেছে। জর্জিয়ায় ২৫ শতাংশেরও বেশি সক্রিয় ভোটার ইতোমধ্যেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।
আর নর্থ ক্যারোলিনায় ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২০ লাখেরও বেশি ভোটার মেইলে এবং ব্যক্তিগতভাবে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়েছেন। জর্জিয়ায় আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত এবং নর্থ ক্যারোলিনায় ২ নভেম্বর পর্যন্ত আগাম ভোটগ্রহণ চলবে।

দুই প্রার্থীই প্রচারণায় ব্যস্ত, বাগযুদ্ধ : সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস উভয় প্রার্থীই প্রচারে মারাত্মক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আর এরই মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে ঝড় তুলেছেন কমলা হ্যারিস। ফ্যাসিস্টের সব ধরনের বৈশিষ্ট্যই তার মধ্যে আছে উল্লেখ করে ট্রাম্পকে আমেরিকার নিরাপত্তা ও কল্যাণের ক্ষেত্রে বিপজ্জনকও বলেছেন তিনি। ট্রাম্পও কম যান না। একই দিনে এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প কমলাকে ‘কমরেড কমলা হ্যারিস’ নাম দিয়ে তাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। গত বুধবারের এ বাকযুদ্ধ নির্বাচনী ময়দানে আরও উত্তাপ ছড়িয়েছে।

গত বুধবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট বলে বিশ্বাস করার কথা বলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। অনুষ্ঠানে কমলাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কি বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প একজন ফ্যাসিস্ট? জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি।’ বিশেষ করে ট্রাম্প হিটলারের প্রশংসা করেন। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর তিনি ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট বলে বিশ্বাস করেন বলে কমলা জানান। এদিকে ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে কমলা হ্যারিসের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। তিনি কমলাকে ‘বিকৃত মনের’ বলেও আখ্যা দেন। নিজের ট্রæথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি ক্রমবর্ধমানভাবে তার বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা দিচ্ছেন, আমাকে এডলফ হিটলার বলে ডাকছেন এবং অন্য কিছুও যা তার বিকৃত মনে আসছে।’

ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতি মূলত কী

আরাফাত রহমান : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে পাঁচই নভেম্বর। কিন্তু যে প্রার্থী সবথেকে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই যে জয়ী হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। এর কারণ হল ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না। ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ নামে এক পদ্ধতিতে হয় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের মোট আসন সংখ্যা ৫৩৮টি। এই নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়। প্রতিটি রাজ্যের জন্য ইলেকটোরাল আসন সংখ্যা রাজ্যটির জন্য বরাদ্দকৃত সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন সংখ্যার সমান।

অর্থাৎ, কোনো একটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে যতগুলো আসন আছে, তার সাথে অঙ্গরাজ্যটির জন্য বরাদ্দ থাকা দুটি সিনেট আসন যোগ করে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা পাওয়া যায়। তবে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াকে আলাদাভাবে সম্মানসূচকভাবে তিনটি ইলেকটোরাল ভোট বরাদ্দ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা পদ্ধতি দুটি। একটি হলো মাথাপিছু ভোট, যাকে বলে পপুলার ভোট। অপরটি হলো অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মার্কিন গণতন্ত্রে পপুলার ভোটের চেয়ে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট অনেক বেশি ক্ষমতাশালী। একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সর্বাধিক পপুলার ভোট অর্জন করলেও তা তাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট (২৭০) অর্জন করতে সক্ষম হলেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।

একেক অঙ্গরাজ্যের হাতে একেক সংখ্যক ইলেকটোরাল কলেজ ভোট থাকার কারণে বেশি ভোট আছে এমন অঙ্গরাজ্যগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারের ছক তৈরি করেন। নির্বাচনের দিন মার্কিনরা যখন ভোট দেন, তখন তাঁরা মূলত প্রার্থীদের বাছাই করা ইলেকটরদের ভোট দেন। দুটি ছাড়া বাকি ৪৮টি অঙ্গরাজ্যে ‘উইনার-টেক-অল’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর অর্থ হলো, জয়ী প্রার্থীকে সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোট দিয়ে দেওয়া হয়। উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বললে বুঝতে সুবিধা হবে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৬ অক্টোবর ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

কোন রাজ্যে কত ইলেকটর: বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৫টি, টেক্সাসে ৩৮টি, ফ্লোরিডায় ২৯টি, নিউইয়র্কে ২৯টি, পেনসিলভানিয়ায় ২০টি, ইলিনয়ে ২০টি, ওহাইওতে ১৮টি, জর্জিয়ায় ১৬টি, মিশিগানে ১৬টি, নর্থ ক্যারোলাইনায় ১৫টি, নিউজার্সিতে ১৪টি, ভার্জিনিয়ায় ১৩টি, ওয়াশিংটন ডিসিতে ১২টি, ইন্ডিয়ানায় ১১টি, টেনেসিতে ১১টি, অ্যারিজোনায় ১১টি, ম্যাসাচুসেটসে ১১টি, মিনেসোটায় ১০টি, উইসকনসিনে ১০টি, মিসৌরিতে ১০টি, ম্যারিল্যান্ডে ১০টি, সাউথ ক্যারোলাইনায় ৯টি, কলোরাডোয় ৯টি, আলাবামায় ৯টি, কেন্টাকিতে আটটি, লুইজিয়ানায় আটটি, ওরিগনে সাতটি, কানেকটিকাটে সাতটি, ওকলাহোমায় সাতটি, কানসাসে ছয়টি, আইওয়াতে ছয়টি, আরকানসাসে ছয়টি, নেভাদায় ছয়টি, ইউটায় ছয়টি, মিসিসিপিতে ছয়টি, নেব্রাস্কায় পাঁচটি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় পাঁচটি, নিউ মেক্সিকোতে পাঁচটি, আইডাহোতে চারটি, রোড আইল্যান্ডে চারটি, হাওয়াইতে চারটি, নিউ হ্যাম্পশায়ারে চারটি, মন্টানায় তিনটি, নর্থ ডাকোটায় তিনটি, ভারমন্টে তিনটি, মেইনে চারটি, ডেলাওয়ারে তিনটি, ওয়াইওমিংয়ে তিনটি, সাউথ ডাকোটায় তিনটি, আলাস্কায় তিনটি এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াতে তিনটি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading