মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এক সূত্রে গাঁথা: সোহেল তাজ

মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এক সূত্রে গাঁথা: সোহেল তাজ

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (৪ নভেম্বর), ২০২৪, আপডেট ২০:০০

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য তানজিম আহমদ সোহেল তাজ বলেছেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ‘২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা। একাত্তরে এদেশের মানুষ দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করে ও প্রাণ দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অসংখ্য ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এসব ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে।

রবিবার রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সোহেল তাজ এসব কথা বলেন। ৩ নভেম্বরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জেল হত্যা দিবস পালনসহ তিনদফা দাবিতে পদযাত্রা করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি পেশের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান সোহেল তাজ।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ কারও একক নেতৃত্বে হয়নি, অনেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। শেখ মুজিব জেলে থাকার পর জাতীয় চার নেতার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের কৃষক-শ্রমিক-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে সোহেল তাজ বলেন, যে দল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দল ক্ষমতায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরেনি। দলটি মুক্তিযুদ্ধকে নিজের পক্ষে ইতিহাস বানিয়ে নিয়েছিল। এসব দেখে আমি বিস্মিত হই- কেন নতুন প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণ ইতিহাস তুলে ধরা হলো না?

তিনি বলেন, দেখতে দেখতে জেল হত্যা দিবসের ৪৯ বছর পার হয়ে গেল। অথচ এখন পর্যন্ত জাতির চার বীর, যাদের নেতৃত্বে সফলভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হলো, যাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র পেলাম আজ অবধি রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

সোহেল তাজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতার অবদান ও আত্মত্যাগ বইপুস্তকে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ২৪-এর আন্দোলনও তুলে ধরতে হবে। নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মহান দায়িত্ব পেয়েছেন। তার সরকারের কাছে রাষ্ট্র সংস্কার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইতিহাস সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশ শেষে সোহেল তাজ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে স্মারকলিপি দিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রার প্রস্তুতি নেন। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার স্বার্থে পদযাত্রা না করার অনুরোধ জানান। পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনালের গেটের সামনে অবস্থান নেন সোহেল তাজ।

এ সময় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ সাংবাদিকদের বলেন, আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া নেই। এক সময় আমার মন্ত্রিত্ব ছিল, নৈতিকতার সঙ্গে আপোষ করতে পারিনি বলেই সেটাও ছেড়ে দিয়েছি। আজ আমি যে দাবি-দাওয়া এসেছি, সেখানেও কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। এটা সবার দাবি। আমি চাই, দেশটা সুন্দর হোক। দেশের মানুষ যার যার অবস্থান থেকে সেখানে ভূমিকা রাখুক।

পরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) শাব্বীর আহমদ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে এসে সোহেল তাজের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে শাহবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা প্রহরা বসানো হয়েছিল।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading