মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব প্রকট
আসাদুজ্জামান সুপ্ত । মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে চরম অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ-সংঘাত ছাড়াও বৈষ্ণিক উষ্ণতা ও অর্থনৈতিক সমস্যাসহ নানা সংকট অহরহই দেখা দিচ্ছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমেরিকানরা তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাকে বেছে নেয় তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী। আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মাত্র দুটি দলের আধিপত্য। রিপাবলিকান পার্টি আর ডেমোক্র্যাট পার্টি। বরাবর এই দুই দলের কোনো একটির প্রার্থীই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এবার রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট পার্টির এবারের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। এ নির্বাচনে ট্রাম্প জিতলে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হবে ৭৮ বছর বয়সে। অপরদিকে কমলা হ্যারিসের বয়স ৬০ বছর। ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস কি বাইডেনের দেখানো পথ অনুসরণ করে তার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাবেন? নাকি ‘বিশ্ববাদ নয়, আমেরিকাবাদ’ বিশ্বাস নিয়ে আবারও ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বলবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।
চলমান বিশ্বরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তথা ইসরায়েলের সঙ্গে হামাস, হিজবুল্লাহ,ইরানের সংঘর্ষ, একইসঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সমরাস্ত্র নীতি, ক‚টনীতিক সমন্বিত চুক্তি, পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে অস্থিতিশীল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে এবারের মার্কিন নির্বাচন বিশ্ববাসীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবলমাত্র আমেরিকানদের নয়, বিশ্বজুড়ে সব মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি চরিত্র। অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক রাজনীতির যে কোনো মোড় ঘোরানোর সিদ্ধান্তও নিয়ে থাকেন তিনি।
নির্বাচনে জয়ী হলে কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধসহ চলমান বৈশ্বিক সংকটগুলো নিয়ে কেমন ভূমিকা পালন করবে এবং মনোভাব পোষণ করবে এগুলো মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব অনেকখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্ববাসীর কাছে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থানকৃত এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় কোন দিকে রূপ নেয়। প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল যুদ্ধের কোনো সমাধানের বের হয় কিনা। চীন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ বাড়ে বা কমে কিনা, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকে সেসব মুখ্য বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা কমলা হ্যারিস যেই হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী চার বছরের বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির ময়দানের মারপ্যাঁচ।
নির্বাচনের দিন আজ ৫ নভেম্বর অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলবে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে। আমেরিকা একাধিক ‘টাইম জোন’-এ বিভক্ত হওয়ায় দেখা যাবে সময়ের এমন পার্থক্য। একইভাবে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সময় হবে পৃথক। কখনো তা কাউন্টি ভেদেও হবে ভিন্ন। অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ হবে ইস্টার্ন টাইম সন্ধ্যা ৬টা ও মিডনাইট ইস্টার্ন টাইমের (২২:০০-০৪:০০ জিএমটি) মধ্যে। এদিকে, ভোটকেন্দ্র প্রথম বন্ধ হওয়ার (ইস্টার্ন টাইম সন্ধ্যা ৬টা) সঙ্গে সঙ্গে ভোট গণনার কাজ শুরু হবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর থেকে ফলাফল আসতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউডি/এজেএস

