ট্রাম্প-কমলা: পররাষ্ট্রনীতি কার কেমন হতে পারে
শহীদ রানা। মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৫৪
আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য এমন একটি বিশ্ব অপেক্ষা করছে যেখানে শান্তির চেয়ে সংঘাত বেশি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন, এই যুদ্ধ মোকাবেলা করেই নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কাজ করে যেতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে কমলা ও ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ নীতির পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিশেষ করে দু’জনের পররাষ্ট্রনীতির ওপর বহির্বিশ্বের বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচনে জয়ী হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা করা কমিয়ে দেবে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত মেটাতে কিছু একটা বের করবেন। আবার কমলা হ্যারিস ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি জয়ী হলে তার উত্তরসূরি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মতো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। অর্থাৎ বাইডেন প্রশাসনের নীতি অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট কমলা হ্যারিস।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও কমফোর্ট ইরো বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমেরিকা এখনও সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক শক্তি। তবে দ্ব›দ্ব-সংঘাতের সমাধানে সহায়তা করার শক্তি আমেরিকার কমে গেছে। ট্রাম্প বা কমলা যেই এবারের নির্বাচনে জয়ী হবেন তার জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে কাজ করা। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ইস্যুতে তাদের মধ্যে বড় কোনো ফারাক নেই। এছাড়াও, কমলা নির্বাচনে জয়ী হলে ন্যাটোকে পূর্বের তুলনায় আরও স¤প্রসারিত করতে সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন। বিপরীতে ট্রাম্প বলছেন, ন্যাটোর কারণে আমেরিকার সম্পদের অপচয় হচ্ছে। তিনি এই জোট থেকে সরে আসারও হুমকি দিয়েছেন।
বর্তমানে পুরো বিশ্বেই কয়েক দশকের মধ্যে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা চলছে। তার মধ্যে আমদানি করা সব চীনা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় চীন এবং অন্যান্য অনেক বাণিজ্য অংশীদারদের উপর চড়া শুল্ক চাপিয়ে দিতে নাছোড়বান্দা। চীনের নেতারা মনে করেন, হ্যারিস ও ট্রাম্প উভয়ই কঠোর হবেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ম্যারি রবিনসন বলেন, জলবায়ু ও প্রকৃতি সংকটের কারণে আমেরিকার নির্বাচন কেবল দেশটির নাগরিকদের জন্য নয় বরং গোটা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে আসবেন, যেমনটি তিনি তার প্রথম মেয়াদে করেছিলেন।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব অনেক। ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমেরিকার ক‚টনৈতিক সম্পর্কের কেমন উন্নয়ন হয় তার জন্য নির্বাচনে গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন এরপর আমেরিকার সহায়তা ব্যক্ত করার অভিব্যক্তি এই নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমাগত উপস্থিতি আমেরিকার জন্য মাথাব্যথার কারণ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনের সঙ্গে আমেরিকার বিরোধ চরমে গিয়ে ঠেকে। আমেরিকার আবাসন ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে চীনা কোম্পানির মালিকানা নিষিদ্ধ করতে চান ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাইওয়ান ও আমেরিকার ক‚টনীতিকদের মধ্যে যোগাযোগ চালু করেছিলেন- যা চীনকে ক্ষুব্ধ করে। একইভাবে কমলা হ্যারিসও চীনের আগ্রাসন বিরোধী জোট তৈরি করতে আগ্রহী এই অঞ্চলে। তাই চীনকে সরিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতে বদ্ধপরিকর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে, এই নির্বাচনের ফলাফলে চোখ রাখছে দক্ষিণ এশিয়ার অধিবাসীরা।
ইউডি/এজেএস

