সাদপন্থিদের নিষিদ্ধ করাসহ ৯ দাবি জুবায়েরপন্থিদের
আরিফ হোসেন । বুধবার, ০৬ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৪২
ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ থেকে তাবলীগ জামাতের একাংশের তরফে সাদপন্থিদের নিষিদ্ধ করাসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) ‘ওলামা-মাশায়েখদের ইসলামি মহাসম্মেলন’ থেকে এসব দাবি তুলে ধরেছেন শায়খুল হাদিস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। এই সম্মেলনে জমায়েত হন তাবলীগের অপর পক্ষ জুবায়েরপন্থিরা, যারা নিজেদের ‘শুরায়ে নিজাম’ পরিচয় দিয়ে থাকেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাবলিগ জামায়াতের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে সরকারের ‘মধ্যস্থতায়’ সাদপন্থিরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
গত সোমবার দুই পক্ষকে নিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভার উদ্যোগ নেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সেখানে সাদপন্থিরা এলেও অন্যরা আসেননি। ওই বৈঠকে এবারও দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। আগে এক মঞ্চ থেকে একবারই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন হত। কিন্তু দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি এবং বাংলাদেশের কাকরাইল মারকাজের মাওলানা জুবায়ের আহমদের অনুসারীরা নিজেদের মধ্যে বিভেদে জড়িয়ে পড়েন ২০১৯ সালে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ বিশ্ব ইজতেমা দুইবারে করার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝে কোভিড মহামারীর কারণে ইজতেমা দুই বছর বন্ধও রাখা হয়। পরে ২০২২ সাল থেকে ফের ইজতেমা হচ্ছে দুই পর্বের আয়োজনে। এর মধ্যেই মঙ্গলবারের সমাবেশ থেকে এক পক্ষকে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাল অপর পক্ষ।
সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশের শেষভাগে শায়খুল হাদিস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-কওমি শিক্ষাকে দারুল উলুম দেওবন্দের আওতায় পরিচালনা করতে হবে এবং তাবলিগ নিয়ে বিচ্ছিন্ন মহলের সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। সাধারণ শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। আলেমদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের যাবতীয় মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। শাপলা চত্বরের গণহত্যায় জড়িত আসামিদের দেশে এনে শাস্তি নিশ্চিত এবং সারাদেশে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ২০১৮ সালে টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের নৃশংস আক্রমণের বিচার করতে হবে।
সাদপন্থিরা নবী করিম (স.)-সহ সাহাবীদের সমালোচনা করে আসছে। সাদ তাবলিগের নীতিমালা উপেক্ষা করে আসছে। সেই কারণেই মাওলানা সাদকে দেশে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই তাকে আসতে দেওয়া হবে না। ‘আলেমপন্থিদেরই’ সরকার ঘোষিত দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা করতে দিতে হবে। কাকরাইল মসজিদ সাদপন্থিদের কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। কাকরাইল থেকে কেবল ‘শুরায়ে নিজাম’ পরিচালিত হবে। ‘অভিশপ্ত’ কাদিয়ানিদের অবিলম্বে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই মহাসম্মেলন। মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহ মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। এদিন সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস ও ট্রাকে ভরে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ লোকজন সম্মেলনস্থলের দিকে যেতে শুরু করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে লাখো মানুষের জমায়েতের চাপ পড়ে বাইরের সড়কগুলোতেও। প্রেস ক্লাব, মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ হয়ে সায়েন্সল্যাব এবং শাহবাগ থেকে বাংলামোটর দিকের সড়কের পেরিয়ে এই বাড়তি জটলার প্রভাব পড়ে সারা ঢাকাজুড়ে।
ইউডি/এজেএস

