আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি: শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
আরেফিন বাঁধন। বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৫৫
প্রযুক্তি যেমন বিজ্ঞানের একটি অবিস্মরণীয় আবিষ্কার তেমনি এর ঝুঁকিও অনেক। আর তা যদি হয় শিশুর ক্ষেত্রে, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। একটি শিশু যখন খুব সহজেই হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন পেয়ে যায় তখনই সে নানা খারাপ সমবয়সীদের সঙ্গে মিশতে থাকে। যা তাকে ধীরে ধীরে বিপথে নিয়ে যেতে পারে। ইন্টারনেটে অবাধ আনাগোনা তাকে নানা খারাপ সাইটগুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়। যাতে তার কোমল মনে শুরু থেকে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে গেম খেলা তাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। দীর্ঘ সময় প্রযুক্তির ব্যবহার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ করে আনে অনেক সময়। যার ফলে খুব কম বয়সে চোখে কম দেখা শুরু হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুকে উচিৎ প্রযুক্তি থেকে দূরে রেখে বই কিংবা পরিবারে সঙ্গে সময় কাটাতে অভ্যস্ত করা।
ইউনিসেফ বরছে, নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নতুন উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এটি দারিদ্র্য ও ধনী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যগুলো আরও বাড়িয়ে তুলবে। উন্নত দেশগুলোর আনুমানিক ৯৫ শতাংশ লোকের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তবে সবচেয়ে কম উন্নত দেশগুলোতে মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। নিম্ন আয়ের দেশের শিশুদের, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধা দূর করার ব্যর্থতা সুবিধাবঞ্চিত প্রজš§কে ‘পিছিয়ে যাওয়া প্রজন্ম হওয়ার পথে এগিয়ে নিতে পারে। তবে নতুন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা শিশু ও তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করে। তারা অনলাইন অপরাধীদের কবলে পড়তে পারে।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অতিমাত্রায় প্রযুক্তি ব্যবহারে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। শুধু তাই নয়, ভিডিও গেইমের আদলে, শিশুদের মধ্যে বিশেষ রকমের আক্রমণাত্মক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়, যেখানে এই বয়সে শিশুদের কাছে প্রত্যাশা থাকে সহানুভ‚তিশীল হওয়ার, সহমর্মী হওয়ার বোধগুলো ধীরে ধীরে জেগে উঠার। অপরদিকে, ভার্চুয়াল জগতের সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, বাস্তব জীবনে পরিবার-পরিজনের, প্রতিবেশী, বন্ধুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, ভার্চুয়াল জীবনের বন্ধু-বান্ধব, যাদেরকে হয়তো বাস্তবে কখনো দেখার সুযোগই হয়নি। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাøের পরিবর্তে মুখ্য হয়ে উঠছে তথাকথিত অনলাইন অ্যাকটিভিটিজ।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুবান্ধব পরিবেশ, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও পরিচর্যায় দায়িত্বশীল সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে প্রযুক্তির কড়াল গ্রাসে অচিরেই বর্তমান প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের বিনোদনের একমাত্র সঙ্গী হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র। বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই এখন গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত গেমিংয়ে আসক্তির ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্বের অনুভ‚তি। এছাড়া টেলিভিশনের ‘কার্টুন’, ‘অ্যানিমেশন’, ‘ফেসবুক’, ‘কম্পিউটার’, ‘ল্যাপটপ, ‘ইন্টারনেট’, ‘টুইটার’- এসবে বুঁদ হয়ে আছে বর্তমান প্রজšে§র শিশু-কিশোররা। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটছে না।
ইউডি/এজেএস

