নোয়াখালীতে অন্য পণ্য না কিনলে মিলছে না সয়াবিন তেল

নোয়াখালীতে অন্য পণ্য না কিনলে মিলছে না সয়াবিন তেল

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০২ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৬:৩০
নোয়াখালীর বিভিন্ন বাজারে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এর আগে খুচরা বাজারে পরিমাণে কম এবং ছোট বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছিল, রোজার ঠিক আগে সেটিও উধাও হয়ে গেছে। এখন সয়াবিন তেল কিনতে হলে অন্য পণ্যসহ সেটি কিনতে হচ্ছে, বিশেষ করে চাল, লবণ ও সরিষার তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। অধিক লাভের আশায় অনেক দোকানদার তাদের দোকানে বোতলজাত তেল তোলেন না। তেলের বাজার মূল্য ৮৫০ থেকে ৯৪৫ টাকা পর্যন্ত হওয়ায় তারা সেটি খুলে গ্রাহকদের কাছে কেজিতে বিক্রি না করে লিটার হিসেবে বিক্রি করছেন, যেখানে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০০ টাকা রাখা হয়েছে। অথচ খোলা তেল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হতো।

আরেক দোকানদার জানান, ‘কোম্পানিগুলো নিয়মিত পণ্য সরবরাহ করছে না। তাও নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে এবং তাদের দেওয়া পণ্য না কিনলে তেল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের সাথে তাদের অন্যান্য পণ্য যেমন চাল, লবণ, সরিষার তেলসহ অন্যান্য পণ্য কিনলে তেল পাওয়া যায়, কিন্তু তার পরিমাণ সীমিত।’

মো. কবির আহমেদ নামে একজন ক্রেতা জানান, সকালে মাইজদী পৌর বাজারে সয়াবিন তেল কেনার জন্য ১৫টি দোকান ঘুরেও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাননি। কয়েকটি দোকানে তেল ছিল, তবে তারা শুধুমাত্র খোলা তেল বিক্রি করছে। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘রমজান এলেই কিছু সিন্ডিকেট নিত্যপণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যায়। এতে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের অবস্থা খুবই খারাপ।’

কবির আহমেদ বলেন, ‘বোতলজাত তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনতে হয়েছে ২০০ টাকা লিটারে। কিছু দোকানে কেজিতে তেল বিক্রি হলেও বেশিরভাগ দোকানে তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে, আবার অনেক দোকানে বোতলজাত তেল খুলে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।’

তেল সংকট সম্পর্কে এক দোকানদার বলেন, ‘কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেল দিতে চায় না, তাই আমরা বাধ্য হয়ে বোতল তেল কেটে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করতে হচ্ছি।’

এক দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনলে দাম পড়ে ৩৫০ টাকা, সাথে চাল নিতে হলে চাল এবং তেল মিলিয়ে দাম পড়ে ৫১০ টাকা। আবার কোথাও শুধু তেল কিনলে দাম পড়ে ৩৮০ টাকা। অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত তেল কিনতে গেলে কোম্পানির অন্যান্য পণ্য যেমন চাল বা লবণ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এর মধ্যে রুপচাদা, তীরসহ অন্যান্য কোম্পানির তেল রয়েছে।

এদিকে, জেলার বাণিজ্যিক এলাকা চৌমুহনীতে একই চিত্র দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, চৌমুহনীতে যারা তেলের মজুদ করেন, তারা অধিক লাভের আশায় তেল দোকানে রেখে বাকিটা নিজস্ব গোডাউনে মজুদ করে ব্যবসা করছে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। যারা এই ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বন করে ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, ‘বাজারে সয়াবিন তেলের যে সংকট তা আমরা জানি। এ বিষয়ে আমাদের অভিযান চলছে এবং একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এখনও চলমান। সভা শেষে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।’

ইউডি/আরকে

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading