দেড় বছরের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও

দেড় বছরের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৩ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:০০

দেড় বছরের মধ্যে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু সে কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ওই নির্মাণাধীন ভবনের খোলামেলা পরিবেশেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। ঠিকাদারেরও কোনো হদিস নেই। এমনই অবস্থা পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। দ্রুত ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের।

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্মাণকাজের ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮১ টাকা। দরপত্রে কাজটি পায় বরিশালের ‘মের্সাস রূপালী কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১২ জুলাই ভবন নির্মাণকাজ শেষ করার কথা।

সরেজমিন দেখা যায়, পাঁচতলা ভবনের তিনতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে, দেয়াল নির্মাণ হয়নি। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসম্পন্ন কাজের লোহার রডসহ নির্মাণসামগ্রী। ওই নির্মাণাধীন ভবনে দেয়ালবিহীন ছাদে অসমাপ্ত বিমের বেরিয়ে থাকা রড যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। অসমাপ্ত ভবনের নিচ তলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রীর মাঝেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের আশপাশ ও মাঠেও ছড়িয়ে আছে ইট-খোয়া-পাথর।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের পুরাতন টিনশেড ভবনটি ভেঙে নতুন ৫ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনের তিন তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই শেষে কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়ে যায়। বিদ্যালয়ে বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নির্মাণাধীন ভবনে ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত পাঠদান করানো হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনে কোনো দেয়াল না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। মাঠজুড়ে নির্মাণসামগ্রী থাকায় তিন বছর ধরে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায় না। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে নির্মাণকাজ শেষ না করা হলে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. রাকিব হোসেন বলেন, শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। মাঠে ইট-পাথরের স্তূপ থাকায় সমাবেশ, খেলাধুলাও বন্ধ। এমনকি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ৯ম শ্রেণির মোসা. সুমাইয়া আক্তার বলেন, পুরাতন ভবনটি ভাঙার সময় শৌচাগারও ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ভবনে শৌচাগারের কাজও শেষ না হওয়ায় আমরা (মেয়েরা) চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মস্তফা বলেন, ‘তিন বছর ধরে কাজ বন্ধ, ঠিকাদারের কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টি একাধিকার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা শুধুই আশ্বস্ত দেন কিন্তু কবে কাজটি শেষ হবে জানি না।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রূপালী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী অমল ঘোষের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার প্রতিনিধি মো. ছগির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোশফিকুর রহমান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের জন্য সুপারিশ করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading